23/08/2026
🌸 এন্ডমেট্রিওসিস: সচেতনতা, ভুল ধারণা ও আধুনিক চিকিৎসা
এন্ডমেট্রিওসিস শুধু মাসিকের ব্যথার সমস্যা নয়; এটি একজন নারীর দৈনন্দিন জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, দাম্পত্য জীবন এবং সন্তান ধারণের সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান ও সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
🩺 এন্ডমেট্রিওসিস কী?
জরায়ুর ভেতরে যে ধরনের টিস্যু থাকে, তার মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে—যেমন ডিম্বাশয়, পেলভিস বা আশপাশের অন্যান্য স্থানে—বৃদ্ধি করলে তাকে এন্ডমেট্রিওসিস বলা হয়।
প্রতি মাসে হরমোনের প্রভাবে এই টিস্যুতেও পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে শরীরের বাইরে বের হওয়ার পথ না থাকায় সেখানে প্রদাহ, ব্যথা, ক্ষত, আঠালোভাব বা adhesion এবং কখনো ovarian endometrioma বা “চকলেট সিস্ট” তৈরি হতে পারে।
⚠️ কোন লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে?
নিচের লক্ষণগুলো থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়—
🔷মাসিকের সময় অসহ্য বা ক্রমশ বাড়তে থাকা ব্যথা।
🔷ব্যথার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম বা পড়াশোনা ব্যাহত হওয়া।
🔷অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী মাসিক।
🔷মাসিকের আগে বা পরে তলপেটে ব্যথা।
🔷সহবাসের সময় গভীর ব্যথা।
🔷পায়খানা বা প্রস্রাবের সময় বিশেষ করে মাসিকের সময়ে ব্যথা।
🔷দীর্ঘদিনের পেলভিক বা তলপেটের ব্যথা।
🔷দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হওয়া।
তবে সব রোগীর একই রকম উপসর্গ থাকবে—এমন নয়। কারও উপসর্গ বেশি হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে খুব কম উপসর্গ থাকলেও রোগ থাকতে পারে।
🚫 সমাজের প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা
✅ভুল ধারণা ১: “মাসিকের ব্যথা তো সব মেয়েরই হয়।”
হালকা ব্যথা সাধারণ হতে পারে, কিন্তু এমন ব্যথা যা স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করে বা বারবার অসহ্য হয়ে ওঠে, সেটিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
✅ভুল ধারণা ২: “বিয়ে হলে বা সন্তান হলে ব্যথা ঠিক হয়ে যাবে।”
এন্ডমেট্রিওসিস একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ। বিয়ে বা সন্তান হওয়াকে এর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
✅ভুল ধারণা ৩: “এন্ডমেট্রিওসিস মানেই সন্তান হবে না।”
এটিও ভুল। এন্ডমেট্রিওসিসের কারণে কিছু নারীর গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে, তবে অনেক নারী চিকিৎসার পর স্বাভাবিকভাবেই গর্ভধারণ করেন।
✅ভুল ধারণা ৪: “অপারেশন করলেই চিরতরে রোগ শেষ।”
সার্জারি অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কিন্তু রোগীর অবস্থা অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা ও ফলোআপ প্রয়োজন হতে পারে।
✅ভুল ধারণা ৫: “ব্যথার ওষুধ খেলেই হবে।”
ব্যথা কমানো গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করাই সবসময় যথেষ্ট নয়। রোগের কারণ, বিস্তার এবং ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের পরিকল্পনাও বিবেচনা করতে হয়।
🔬 কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?
প্রথমে রোগীর লক্ষণ, মাসিকের ইতিহাস, ব্যথার ধরন এবং সন্তান ধারণের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
প্রয়োজনে চিকিৎসক পেলভিক/ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসনোগ্রাফি (TVS), বিশেষায়িত ইমেজিং এবং অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন।
কিছু ক্ষেত্রে রোগের বিস্তার ও চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী ল্যাপারোস্কপি করা হতে পারে। তবে প্রত্যেক রোগীর জন্য একই পরীক্ষা বা একই পদ্ধতি প্রয়োজন হয় না।
🧑⚕️ চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?
চিকিৎসা নির্ভর করে রোগীর বয়স, উপসর্গ, রোগের বিস্তার, ovarian cyst আছে কি না, পূর্বের চিকিৎসা এবং সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা—এসব বিষয়ের ওপর।
চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে:
১. ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা
ব্যথা কমানোর ওষুধ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোনাল চিকিৎসা ব্যবহার করা হতে পারে।
২. সার্জিক্যাল চিকিৎসা
নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে endometriosis lesion, adhesion বা endometrioma চিকিৎসা করা হতে পারে।
৩. সন্তান ধারণে সমস্যা হলে
রোগীর বয়স, ovarian reserve, টিউবের অবস্থা, স্বামীর semen analysis এবং অন্যান্য বিষয় মূল্যায়ন করে fertility treatment পরিকল্পনা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে IUI বা IVF প্রয়োজন হতে পারে।
❤️ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
এন্ডমেট্রিওসিসের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা এবং ব্যক্তিভেদে সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ব্যথা সহ্য করে বছরের পর বছর অপেক্ষা করা উচিত নয়।
👉 মাসিকের ব্যথা যদি অসহ্য হয়, বারবার হয় বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে—তাহলে সেটিকে “স্বাভাবিক” বলে মেনে না নিয়ে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সচেতনতা ছড়িয়ে দিন—কারণ একজন নারীর দীর্ঘদিনের ব্যথার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে এন্ডমেট্রিওসিস। 🌸
📞 পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন —
👩⚕️ ডাঃ কিশোয়ার পারভীন
এমবিবিএস, এফসিপিএস (অবস এন্ড গাইনী)
বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন
📍মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল, আখালিয়া, সিলেট।
📞 যোগাযোগ: ০১৭১৬-৬৮১৯২৯
#এন্ডমেট্রিওসিস #নারীস্বাস্থ্য #নারীস্বাস্থ্যসচেতনতা #মাসিকেরব্যথা #বন্ধ্যাত্ব #সচেতনহোন #ভুলধারণাদূরকরুন #সঠিকচিকিৎসা #স্বাস্থ্যসচেতনতা
#ডা:কিশোয়ারপারভীন