06/07/2025
একবার কল্পনা করুন তো, ২১টা বছর আপনার মাথা আপনার পিঠের সাথে প্রায় লেগে আছে। আপনি চাইলেও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না, সামনের পৃথিবীটা কেমন তা দেখতে পারেন না, এমনকি শান্তিতে একবার বিছানায় পিঠ লাগিয়ে ঘুমাতেও পারেন না। জীবনটা কি বিভীষিকাময় মনে হচ্ছে না?
এই দুঃসহনীয় জীবনটাই কাটিয়েছেন চীনের শানডং প্রদেশের ২১ বছর বয়সী জিয়াং ইয়ানচেন। 🥺
ছোটবেলা থেকেই জিয়াং ‘অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস’ (Ankylosing Spondylitis) নামক এক বিরল এবং ভয়ঙ্কর বাত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এটি এমন একটি রোগ যেখানে মেরুদণ্ডের হাড়গুলো ধীরে ধীরে একে অপরের সাথে জুড়ে যেতে শুরু করে এবং মেরুদণ্ড শক্ত ও বাঁকা হয়ে যায়। বছরের পর বছর ধরে এই রোগে ভুগতে ভুগতে জিয়াং-এর শরীরটা আক্ষরিক অর্থেই ‘ভাঁজ’ হয়ে গিয়েছিল। তার মাথা এতটাই পেছনে বেঁকে গিয়েছিল যে তার মাথার খুলি এবং পিঠের মধ্যে প্রায় কোনো জায়গাই অবশিষ্ট ছিল না। তার উচ্চতা কমে দাঁড়ায় মাত্র ১ মিটারে।
শারীরিক কষ্ট জিয়াং-কে দমাতে পারেনি। এই ভয়াবহ শারীরিক বিকৃতি নিয়েও তিনি পড়াশোনা ছাড়েননি। কলেজের ভর্তি পরীক্ষার সময় হলে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই তিনি একটি তোশকের উপর শুয়ে শুয়েই পরীক্ষা দেন এবং মেধার জোরেই দেঝাউ বিশ্ববিদ্যালয়ে শক্তি ও বিদ্যুৎ প্রকৌশল (Energy and Power Engineering) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। তার স্বপ্ন ছিল, একদিন তিনি নিজের পায়ে হেঁটে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করবেন।
গত বছর জিয়াং-এর জীবনে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। চেংডুর একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। তারা চারটি অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। এই অপারেশনগুলো ছিল বিজ্ঞানের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
❥ ডাক্তাররা জিয়াং-এর মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে, সেগুলো নতুন করে সাজিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ১৭০-ডিগ্রি বাঁকানো কোণকে সোজা করেন!
❥ শেষ অস্ত্রোপচারটি চলেছিল ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। অপারেশনের এক পর্যায়ে প্রধান সার্জন এতটাই ক্লান্ত এবং পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে, তিনি মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে অপারেশন চালিয়ে যেতে বাধ্য হন। 😷
❥ এই চারটি অপারেশনের পর, জিয়াং তার জীবনের ২১ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সোজা হয়ে শুতে পারেন। তিনি এখন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন এবং ধীরে ধীরে সোজা হয়ে হাঁটার স্বপ্ন পূরণের দিকে এগোচ্ছেন।
জিয়াং-এর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ডাক্তাররা আমাদের শেষ ভরসা ছিলেন। আমার সন্তানের স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে।” ❤️
জিয়াং-এর এই গল্প শিখিয়ে দেয়, মানুষের ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্য থাকলে কোনো বাঁধাই তাকে আটকে রাখতে পারে না।
অনুবাদ: AH Abubakkar Siddique
তথ্যসূত্র:
১. South China Morning Post (SCMP): China ‘folded boy’ stands up straight for first time after surgeries to break, reset bones.
২.. Beijing Times: The Inspiring Journey of Jiang Yanchen, China's “Folded Boy”.