10/09/2026
বিস্তারিত : এতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলাকালীন ২০২৪ ও ২০২৫ সালে রুটিন টিকাদান কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। গত এপ্রিলে জরুরি ভিত্তিতে দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হলেও, এই দীর্ঘমেয়াদী প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে হামের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব চলছে বাংলাদেশে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক গোলযোগের কারণে শিশুদের একটি বড় অংশ টিকাদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং টিকার সরবরাহে তৈরি হয়েছে চরম ঘাটতি। এতে বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সি শিশুরা, যাদের নিয়মিত টিকা নেওয়ার বয়সই হয়নি; তারা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে সহজেই সব বয়সিদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে এই সংক্রামক ভাইরাস।
হামের এমন বিধ্বংসী রূপ নেওয়ার পেছনে অদূরদর্শিতাকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্বল নজরদারি ও টিকার ক্রয়নীতিতে হঠাৎ করে পরিবর্তন আনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি। এতে অসংখ্য শিশু অতিসংক্রামক এই ব্যাধির বিরুদ্ধে সুরক্ষাহীন হয়ে পড়ে।
সোমবার সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ক্রয়নীতি বদলানোর কারণেই বাজারে টিকার চরম সংকট তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি ২০২৪ সালে টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া এবং পরের বছর দেশব্যাপী হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন বাতিল করার মাশুল গুনতে হচ্ছে শিশুদের।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও টিকাদানের এই ঘাটতিকে প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংক্রমণের শুরুর দিকে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
বছরের পর বছর ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ৯৫ শতাংশ টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবেই ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। কোভিড মহামারীর সময় সাময়িক পতন ছাড়া হাম নির্মূলের পথেই ছিল দেশ।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক ও রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকাদানের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় হাম নির্মূলের লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়েছে বাংলাদেশ।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আমার জানা মতে, বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এত শিশু মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এক বছরে এত রোগী দেখার অভিজ্ঞতাও আমাদের নেই। এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। আর দুঃখজনক হলো, এর বলি হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুরা।’
Source somoynews Tv