22/06/2026
ভাই-আপনারা, কল্পনা করুন একটা দৃশ্য। রাস্তায় একজন সুন্দর করে দাড়ি রেখেছেন, মাথায় টুপি, পাঞ্জাবি পরা। দেখামাত্রই মনে হয়, “ওয়াও, এই ভাই তো অনেক ভালো মানুষ!” কিন্তু প্রশ্ন হলো — শুধুমাত্র বাইরের এই লেবাস দেখে আমরা কতটা নিশ্চিত হতে পারি? আমরা আজকাল অন্তরের চেয়ে লেবাসকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আল্লাহ তাআলা যে দাড়ি-টুপি-পাঞ্জাবিকে তাঁকে খুশি করার জন্য রেখেছেন, যে পর্দাকে মেয়েদের নিরাপত্তা ও সম্মানের জন্য নাযিল করেছেন — সেই একই জিনিস আজ অনেকে ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছেন।
দাড়ি দেখে প্রোডাক্ট কিনছি, টুপি দেখে বিশ্বাস করে টাকা দিচ্ছি, আর পরে হতাশ হচ্ছি। অনেক সময় দেখা যায়, যাকে আমরা খুব ভালো ভেবে নিয়েছি, তার অন্তরের অবস্থা একেবারেই ভিন্ন। রাসূল ﷺ-এর যুগ থেকেই সতর্ক করা হয়েছে যে, জ্ঞানী ও ধার্মিক বেশধারীদের মধ্যেও কেউ কেউ জাহান্নামের দিকে যেতে পারেন। এটা কোনো হুজুর বা আলেমদের সাধারণভাবে অপমান করার জন্য বলা হচ্ছে না। বরং গুটিকয়েক মুনাফিকের কারণে পুরো ইসলাম ও ভালো মানুষদের বদনাম হচ্ছে।
আমি নিজেও একজন হাফেজা। কিন্তু এই পরিচয়টা আমি সবার সামনে প্রচার করি না। কারণ আমার লক্ষ্য আল্লাহকে খুশি করা, হাফেজ হওয়াটাকে পুঁজি করে কোনো ব্যবসা বা সুনাম করা নয়। তাই আপনাদের কাছে আমার খুব আন্তরিক অনুরোধ — কোনো কিছু কিনতে গেলে, কারো সাথে মিশতে গেলে শুধু দাড়ি-টুপি বা বাহ্যিক চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। তার আচরণ, কাজকর্ম, মানুষের সাথে লেনদেন — এগুলো ভালো করে দেখুন। অন্তরের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন।
যারা সত্যিই লেবাসেও ইসলাম ধারণ করেন এবং অন্তরেও ইসলাম ধারণ করেন, তাদের জন্য আমার অনেক দোয়া। আল্লাহ তাদের নেক হায়াত দান করুন, তাদের ঈমানকে আরও মজবুত করুন। আর যারা লেবাসের আড়ালে মুনাফেকি করছেন, আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করুন।
আসুন, আমরা সবাই সতর্ক হই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বাহ্যিক সাজ-সজ্জার ফাঁদ থেকে রক্ষা করুন এবং অন্তরের পরিশুদ্ধতা দান করুন। আমিন। আপনাদের কোনো অভিজ্ঞতা থাকলে কমেন্টে জানাবেন। ভিডিওটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন, যাতে আরও মানুষ সচেতন হতে পারে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দিন