31/07/2026
আমার টিচার একটা কথা বলতেন, " কাওকে ট্রিটমেন্ট দিয়ে ভালো করতে পারবেন কি পারবেননা এটা আল্লাহর উপর তারপর আপনার জ্ঞানের উপর। কিন্তু রোগীর সাথে ভালো ব্যবহার করে মনের কষ্ট কমাতে পারবেন। আপনার কাছে এসে কেও সুস্থ হয়ে ফেরত যাক বা না যাক, কেও যাতে খারাপ ব্যবহারে কষ্ট পেয়ে ফেরত না যায়।"
আমি এই কথাটা মানার চেষ্টা করি, শোনার আর বুঝার চেষ্টা করি, এমন কয়েকবার হয়েছে রোগী সমস্যার কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেছে, কত পারিবারিক কলহ সামলে শারীরিক মানসিক কষ্ট নিয়ে রোগীরা যে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়.. এজন্য কাউন্সিলিং করা, রোগীর সমস্যা শুনা & বুঝানো অনেক বেশি দরকারি। রোগীকেও প্রয়োজনে রোগীর স্বামী এবং পরিবারকেও।
একবার এক রোগী সিজার পরবর্তী ঘা এখনো শুকায়নি, ব্যথা করে উঠতে বসতে, বললাম আরো কিছু মাস ভারী কাজ করবেন না, ভারী কিছু আলগাবেন না।
রোগী চুপ.. "কাজ না করে তো উপায় নাই", একান্নবর্তী পরিবারে অনেকসময় চাইলেও রেস্টে থাকা সম্ভব না। উনার সাথে উনার জা' ও শ্বাশুড়ি এসেছিলো, উনাদের বসিয়েও বুঝিয়েছি কাউন্সিলিং করেছি।
কিছু মহিলা রোগী আসেন ৭০+, শরীর ব্যথা, জয়েন্ট ব্যথা নিয়ে, এই কষ্ট তো ১০০% দূর করাও সম্ভব না, উনাদের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় " মা কি সমস্যা লই আইসসুন?" বললেই তারা খুশি, ডাক্তারকে দু:খ বুঝাতে পারবে এইটাই উনাদের মানসিক তৃপ্তি।
ডা. আতিকা অনন্যা
বাঁশখালী লাইফকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, গুনাগারি
প্রতি শনিবার সকাল ১০টা - ২টা
বাঁশখালী মা শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল, গুনাগারি
প্রতি শনিবার দুপুর ৩টা - ৫টা