12/08/2026
আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অনেক স্বামী এখনো স্ত্রীকে একপ্রকার দাসী মনে করেন। স্ত্রীর কষ্ট, অসুস্থতা কিংবা মানসিক যন্ত্রণা বোঝার চেষ্টা করেন না। স্ত্রী অসুস্থ হলে অনেক স্বামী তাকে বাবার বাড়িতে দিয়ে আসেন। ওষুধের খরচ দেওয়া তো দূরের কথা, পরবর্তীতে তার কোনো খোঁজও নেন না।
আমি প্রতিদিনই এমন অনেক নারীর মুখে তাদের সংসারের কষ্টের কথা শুনি। তারা যখন সেই কষ্টের কথা বলেন, তখন অনেকের চোখ পানিতে ভেসে যায়।
যে নারী আপনার সংসারের সব কাজ করেন, আপনার সন্তানদের লালন-পালন করেন, আপনার পরিবারের জন্য নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেন—তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে কেন তাকে বাবার বাড়ি চলে যেতে হবে? অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকলেও অনেক নারীকে তালাক দেওয়ার হুমকি শুনতে হয়। আমাদের এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
আজ ছবিতে যাকে দেখছেন, তিনিও প্রায় তিন মাস আগে আমার চেম্বারে এসেছিলেন। আমি তার কী সমস্যা জানতে চাইতেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লেন। এরপর বললেন, বাতের ব্যথার কারণে তিনি ঠিকমতো কোনো কাজ করতে পারছেন না। ব্যথার কারণে তাকে প্রায়ই শুয়ে থাকতে হয়। আর এই কারণেই তার স্বামী তাকে আর সংসারে রাখতে চান না।
তার কথা শুনে আমি তাকে প্রায় দেড় মাসের ওষুধ দিয়েছিলাম। তার ছিল প্রচন্ড কোমর ব্যথা হাত পায়ের গিখে ব্যথা তার রোগের না (Spondyloarthritis)। প্রায় তিন মাস পর তিনি আবার আমার কাছে এলেন। চেম্বারে এসেই হাসিমুখে বললেন,
“স্যার, এবার কুরবানির সময় আমি একাই সব কাজ করেছি। অথচ আমার কোনো ব্যথা হয়নি। স্যার, আমি এখন ব্যথামুক্ত।”
তার মুখে এই কথাগুলো শুনে আমার যে কতটা ভালো লেগেছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। একজন চিকিৎসক হিসেবে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে—একজন রোগী যখন এসে বলে, “স্যার, আমি ভালো আছি।”
তিনি বারবার অনুরোধ করছিলেন, আমার জন্য কিছু নিয়ে আসবেন। আমি অনেক নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু আমার কথা না শুনে নিজের পালন করা দুটি হাঁস আমার জন্য নিয়ে এসেছেন। এটি হয়তো খুব সাধারণ একটি উপহার, কিন্তু এর সঙ্গে যে ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও দোয়া মিশে আছে, তার মূল্য অনেক বেশি।
মনে রাখবেন, আপনার স্ত্রী আপনার দাসী নন। তিনি আপনার জীবনসঙ্গী। আপনার সুখ-দুঃখের সঙ্গী। তাই তিনি যখন অসুস্থ হন, তখন তাকে একা করে না দিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোই একজন স্বামীর দায়িত্ব।
স্ত্রীর অসুস্থতা কোনো অপরাধ নয়। অসুস্থতার সময় তাকে ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে পাশে থাকাই প্রকৃত ভালোবাসার পরিচয়।
ছবিটি রোগীর অনুমতি নিয়েই তোলা হয়েছে।