Prof.Dr.NCdey Robin

Prof.Dr.NCdey Robin Interested in Science,Literature&Music

Professor, (EYE)
Head of theDept of Ophthalmology(ex)
Sher-E-Bangla Medical College.(Ex)
SouthAppoloMedicalCollege, Barishal
Chamber---Megha diagnostic Lab,
40,SadarRoad, Barishal, Bangladesh.

24/05/2026
বিনম্র শ্রদ্ধা
24/05/2026

বিনম্র শ্রদ্ধা

24/05/2026

প্ল্যাটফর্ম থেকে সংগ্রহীত পোস্ট
কেন ডাক্তারি করতে বিদেশে যাবেন?
যাদের বিদেশের প্রতি অ্যালার্জি আছে এবং খাঁটি দেশপ্রেম ধারণ করেন তাদের এই পোস্ট থেকে দূরে থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি 🙏

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের মধ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়েছে। এটা অস্বীকার করা কোন উপায় নাই, বাংলাদেশে মেডিকেল সোসাইটি একটা অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেই সাথে যুক্ত হয়েছে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা যেগুলো ডাক্তারদের দেশ ছাড়ার কোন খুব বেশি করে ভাবাচ্ছে। আমি জাস্ট চেষ্টা করছি এই পোস্টের মাধ্যমে বাইরের ভালো দিকগুলা তুলে ধরার, দেশে কী আছে কী নাই এটা নিয়ে আলোচনা অবান্তর।

১। বিদেশে চিকিৎসকদের জন্য আইনি সুরক্ষা আমাদের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি আর কাজের পরিবেশ অনেক নিরাপদ।হাসপাতাল হামলার ঘটনা একটু খুঁজে পেলে জানাবেন।

২। এখন পর্যন্ত বিদেশের ডিগ্রিগুলা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, একটা অর্জন করলে আপনি বিশ্বের আরো অনেক দেশে সহজে মাইগ্রেট করতে পারবেন।

৩। বেতন-ভাতা নিয়ে বলার কিছু নাই, যা পাবেন খেয়ে পরে বছরে দুই-একটা ট্যুর দিতে পারবেন। অন কল বা এক্সট্রা ডিউটি করলে পেমেন্টও ঐভাবে আসবে। ট্রেইনি অবস্থায় আমাদের রেসিডেন্ট/ট্রেইনিরা যা পায় তার চেয়ে অনেক অনেক ভালো কিছু পাবেন।

৪। ডিউটি আওয়ার বেশ গোছানো, ফ্লেক্সিবল।

৫। পোস্টিং, প্রোমোশন যখন পাবার, তখনই পাবেন। কারো পেছনে দৌড়াতে হবে না, বা উৎকোচ দিতে হবে না।

৬। বিবাহিত হলে সন্তানদের বিশ্বমানের শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আর তুলনামূলক উন্নত জীবন উপহার দিতে পারবেন।

৭। দেশ ভেদে ৫/৬ বছরেই স্থায়ী নাগরিকত্ব বা পিআর পাবেন। এরপর যে পাসপোর্টটা পাবেন, ঐটা দিয়ে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে কাজ করার পথকে অনেক সহজ হয়ে যাবে।

৮। বিশ্বের সেরা চিকিৎসকদের সাথে সেরা হাসপাতালগুলাতে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

৯। কয়েকটা টার্ম আমি জাস্ট লিখে দিলাম, গুগলে দেখেন এগুলা কী ধরণের সুবিধা - মেডিকেল ইনডেমনিটি ইন্সুরেন্স, প্রাতিষ্ঠানিক বার্নআউট সাপোর্ট, পেইড, মেন্টাল হেলথ লিভ, ক্লিনিক্যাল অডিট, সিস্টেম নো-ব্লেম কালচার।

১০। সর্বশেষ, আপনাকে কেউ কসাই ডাকবে না, আপনার ফি নির্ধারণ করার সাহস দেখাবে না, রাস্তা-ঘাটে চিকিৎসা দিতে ডাকবে না।

যাদের তারপরও এই পোস্ট পড়ে আমাকে গালি দিতে ইচ্ছা হয় দিয়েন, কিন্তু বিদেশে ডাক্তারদের জন্য যে গোল্ডেন অপারচুনিটি আছে এটা স্বীকার করে নিয়েন দয়া করে।
ধন্যবাদ।

ডা. অমি
সাইকিয়াট্রিস্ট
শেবাচিম ০৬-০৭

বিদ্রোহী কবির ১২৬তম জন্মবার্ষিকীতেবিনম্র শ্রদ্ধা আর শ্রদ্ধা নিরন্তর
24/05/2026

বিদ্রোহী কবির
১২৬তম জন্মবার্ষিকীতে
বিনম্র শ্রদ্ধা
আর শ্রদ্ধা নিরন্তর

বিনম্র শ্রদ্ধা
24/05/2026

বিনম্র শ্রদ্ধা

24/05/2026

ধূমকেতু'র ভূমিকা লেখার জন্য নজরুল টেলিগ্রাম করে রবীন্দ্রনাথের কাছে অনুরোধ করলেন৷ সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখলেন,-
"আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু
দুর্দিনের এই দূর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন
অলক্ষণের তিলক রেখা
রাতের ভালে হোক না লেখা
জাগিয়ে দে রে চমক মেরে
আছে যারা অর্ধচেতন"৷

গৌরচন্দ্রিকা করে অকারণে সময় নষ্ট করার অভিপ্রায় নেই, পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা যে সব কবি সাহিত্যিক স্বদেশপ্রেমের মশাল জ্বালিয়েছেন তাদের মধ্যে যেমন আছেন বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ অবশ্যই কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর কবিতা, তাঁর ভাঙার গান শুনলে ভারতবাসী হিসেবে গর্ব অনুভব হয়। মনে হয় ওই অন্ধকার সময়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে নজরুল যদি ওই দুঃসাহস দেখাতে পারেন তাহলে স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আমরা নিশ্চিত তাদের জীবন কবিতা ও গান থেকে অবশ্যই জীবনে চলার অনুপ্রেরণা সংগ্ৰহ করব। সেই সময়ে,পুলিশের ভয়ে অনেক প্রকাশক মানবতার কবি কাজী নজরুলকে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করলেও অমূল্যচন্দ্র ভট্টাচার্য নামে সাধারণ দেশপ্রেমিক প্রেসকর্মীর অসীম সাহসিকতায় ছাপা হয় 'অগ্নি-বীণা'র অগ্নি ঝঙ্কার৷ তাঁর নাম কিছু নজরুল গবেষক ছাড়া বোধহয় অন্যরা মনে রাখেন নি!
'বল বীর—
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমার,নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রির'!
বোধহয় তখন থেকে সাধারণ মানুষের কাছে নজরুল ইসলাম হয়েছেন বিদ্রোহী কবি!
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে

( ভাঙ্গার গান) "কারার ঐ লৌহকপাট ভেঙ্গে ফেল কর রে লোপাট
রক্ত জমাট শিকল-পূজার পাষাণ বেদী....
লাথি মার ভাঙ্গ রে তালা যতসব বন্দিশালা
আগুন জ্বালা আগুন জ্বালা ফেল উপাড়ি৷" এমন কোনও ব্যক্তি আছেন যিনি এই গানটি শোনেননি?

কলকাতা পুলিশ নজরুলের বিরুদ্ধে উত্তেজক কবিতা লেখার অভিযোগে মামলা করে। জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। এক বছরের কারাদণ্ড হয় কবির। আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে বলায় কাঠগড়ায় কাজী নজরুল ইসলাম পাঠ করলেন 'রাজবন্দির জবানবন্দী'৷
দিন সাতেক কলকাতার জেলে থাকার পর তাঁকে পাঠানো হয় হুগলি জেলে৷ সেখানকার রাজবন্দীদের প্রতি ইংরেজ সরকারের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন একটানা ৩৯ দিন অনশন৷
নজরুল ইসলাম এমন এক মানুষ ছিলেন। মানবতা,দেশপ্রেমের মূর্ত প্রতীক।
তাঁর অন্য এক রূপের সাক্ষী মুজজফর আহমেদ।
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে

নজরুল ইসলামের স্কুলের শিক্ষক ছিলেন কবি কুমুদরঞ্জন, একদিন নজরুল হঠাৎ করে জানতে পারলেন কুমুদরঞ্জন তাঁকে দেখতে এসেছেন, ফুটপাতে অপেক্ষা করছেন। শুনেই খালি পায়ে নজরুল ছুটলেন তাঁর শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করতে, প্রথমে কুমুদরঞ্জেনের পায়ের ধুলো নিলেন,তারপর তাঁকে সসম্মানে সঙ্গে করে দোতলায় নিয়ে এলেন। অনেকে আলাপ গল্প হল শিক্ষক-ছাত্রের মধ্যে।কথায় কথায় নজরুল, কুমুদরঞ্জনকে বলে বসলেন "স্যার আমিও আপনার মত পাগল "। নজরুলের মুখে একথা শুনে মুজজফর আহমেদ হতবাক, কিন্তু তিনি দেখলেন সেকথা শুনে কুমুদরঞ্জনের চোখে মুখে নজরুলের প্রতি স্নেহ ঝরে পড়ছে। আজ মানবতার কবি, দেশপ্রেমের মূর্ত প্রতীক কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিবসে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।।
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে









পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার, কুমুদরঞ্জন মল্লিক,শ্রাবণী পাল, অন্দরের নজরুল বাইরের নজরুল,চিন্ময় চৌধুরী

Fact, --রাজা রামমোহন রায় এর সতীদাহপ্রথা উচ্ছেদ এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিধবা-বিবাহ প্রচলন প্রসঙ্গ। সংস্কার মানেই প...
23/05/2026

Fact, --রাজা রামমোহন রায় এর সতীদাহপ্রথা উচ্ছেদ এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিধবা-বিবাহ প্রচলন প্রসঙ্গ।

সংস্কার মানেই প্রতিষ্ঠিতের সহিত বিরোধ এবং অত্যন্ত সংস্কারের চেষ্টাই চরম বিরোধ বা বিদ্রোহ । ব্রাহ্ম-সমাজ এই কথা বিস্মিত হইয়া অত্যল্পকালের মধ্যেই সংস্কার রীতিনীতি আচার বিচার সম্বন্ধে নিজেদের এতটাই স্বতন্ত্র এবং উন্নত করিয়া ফেলিলেন যে, হিন্দু সমাজ হঠাৎ তীব্র ক্রোধ ভুলিয়া হাসিয়া ফেলিল। এবং নিজেদের অবসরকালে ইহাদিগকে লইয়া এখানে ওখানে বেশ একটু আমোদ করিতেও লাগিল।
---(সমাজ-ধর্মের মূল্য, ---শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)

এ পৃথিবীর উপর মানবজন্মের তুলনায় চাতুরব্বর্ণ্য ঋগ্বেদে থাকুক আর না থাকুক সে কালকের কথা। অতএব হিন্দু জাতির প্রাণস্বরূপ এই...
23/05/2026

এ পৃথিবীর উপর মানবজন্মের তুলনায় চাতুরব্বর্ণ্য ঋগ্বেদে থাকুক আর না থাকুক সে কালকের কথা। অতএব হিন্দু জাতির প্রাণস্বরূপ এই সূত্রটির চাতুরব্বর্ন্যর সৃষ্টি যেভাবে দৃষ্টি করা হইয়াছে তাহা প্রক্ষিপ্ত না হইলেও খাঁটি সত্য জিনিস নয়, ---রূপক। কিন্তু ভয়ানক মিথ্যা । তদপেক্ষা ভয়ানক সত্য-মিথ্যায় মিশাইয়া দেওয়া! কারণ ইহাতে না পারা যায় সহজে মিথ্যাকে বর্জন করা, না যায় নিষ্কলঙ্ক সত্যকে পরিপূর্ণ শ্রদ্ধায় গ্রহণ করা। অতএব এই রূপক এর মধ্য হইতে নীর ত্যাজিয়া ক্ষীর শোষণ করা বুদ্ধির কাজ। সেই বুদ্ধির তারতম্য অনুসারে একজন যদি এর প্রতি অক্ষরটিকে অভ্রান্ত সত্য বলিয়া মনে করে এবং আরেকজন সমস্ত সূত্রটিকে মিথ্যা বলিয়া ত্যাগ করিতে উদ্ধত হয়, তখন অপৌরুষের দোহাই দিয়া তাহাকে ঠেকাইবে সে কি করিয়া ? সে যদি কহিতে থাকে এতে ব্রাহ্মণের ধর্ম ক্ষত্রিয়ের ধর্ম শূদ্রের ধর্ম এই চারিপ্রকার নির্দেশ করা হয়েছে জাতি বা মানুষ নয় অর্থাৎ চারি প্রকার নির্দেশ করা হইয়াছে, জাতি বা মানুষ নয় অর্থাৎ সেই পরম পুরুষের মুখ হইতে যজন-যাজন অধ্যায়ন-অধ্যাপনা প্রভৃতি এক শ্রেণীর বৃত্তি ; তাহাকে ব্রাহ্মণ্য ধর্ম বা ব্রাহ্মণ বলিবে। হাত হইতে ক্ষত্রিয় অর্থাৎ বল বা শক্তির ধর্ম। এই প্রকার অর্থ যদি কেহ গ্রহণ করিতে@ চাহে, তাহাকে না বলিয়া উড়াইয়া দিবে কি করিয়া? কিন্তু এইখানে একটা প্রশ্ন করিতে চাহি। এই যে এতক্ষন ধরিয়া ঠোকাঠুকি কাটাকাটি করিয়া কথার শ্রাদ্ধ হইয়া গেল, কোন পক্ষে আর কোন কাজ হইল কি? পাশ্চাত্য পন্ডিতেরা যদি বলিয়াছেন, চাতুর্ব্বর্ণ হিন্দুর বিরাট ভ্রম এবং অধঃপতনের অন্যতম কারণ। এবং ইহা ঋকবেদের সময়েও ছিল না ----তবে বিভূতি বাবু যদি প্রতিবাদই করিলেন, তবে শুধু গায়ের জোরে তাদের কথাগুলি উড়াইয়া দিবার ব্যর্থ চেষ্টা না করিয়া কেন প্রমাণ করিয়া দিলেন না , এ-প্রথা বেদে আছে। কারণ ভেদ অপৌরুষেয় ,তার ভুল হইতে পারে না, ----- জাতিভেদ প্রথা সুশৃঙ্খলার সহিত সমাজ পরিচালন এর যে সত্য সত্যই একমাত্র উপায়, এইসব বৈজ্ঞানিক, সামাজিক এবং ঐতিহাসিক নজির তুলিয়া দিয়া প্রমাণ করিয়া দিলাম। ....…বেদের মধ্যে যখন রূপকের স্থান রহিয়াছে তখন বুদ্ধি বিচারের অবকাশ আছে। সুতরাং শুধু উক্তিকেই অকার্য যুক্তি বলিয়া দাঁড় করানো যাইবে না! আমি এই কথাটি আমার এই ভূমিকাই বলিতে চাহিয়াছি।
(সমাজ-ধর্মের মূল্য)----- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

কিন্তু আমি বলি, এই উদর এবং জিব্বার উপর নির্ভর না করিয়া বুদ্ধি এবং দৃষ্টিশক্তির সাহায্যে লইয়া কাটা গাছগুলো বাছিয়া ফেলি...
23/05/2026

কিন্তু আমি বলি, এই উদর এবং জিব্বার উপর নির্ভর না করিয়া বুদ্ধি এবং দৃষ্টিশক্তির সাহায্যে লইয়া কাটা গাছগুলো বাছিয়া ফেলিয়া, সেই অমৃতলতাটির সন্ধান করিলে কি কাজটা অপেক্ষাকৃত সহজ এবং মানুষের মতো দেখিতে হয় না ?
ভগবান মানুষকে বুদ্ধি দিয়েছেন কি জন্য? সে কি শুধু আরেকজনের লেখা শাস্ত্রীয় শ্লোক মুখস্ত করিবার জন্য? এবং একজন তাহার কি টীকা করিয়াছেন এবং আরেকজন সেই টীকার কি অর্থ করিয়াছেন ---তাহাই বুঝিবার জন্য ? বুদ্ধির আর কি কোন স্বাধীন কাজ নাই ? কিন্তু বুদ্ধির কথা তুলিলেই পণ্ডিতরা লাফাইয়া উঠেন, ক্রুদ্ধ হইয়া বারংবার চিৎকার করিতে থাকেন, শাস্ত্রের মধ্যে বুদ্ধি খাটাইবে কোনখানে? এ যে শাস্ত্র ! তাহাদের বিশ্বাস,শাস্ত্রীয় বিচার শুধু শাস্ত্র কথার লড়াই ! তাহার হেতু, কারণ, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সত্য, মিথ্যা এ সকল নিরূপণ করা নয় ! শাস্ত্র ব্যবসায়ীরা কতকাল হইতেছে যে এই রূপ অবনত হীন হইয়া পরিয়াছেন, তাহা জানিবার উপায় নাই , -----কিন্তু এখন তাহাদের একমাত্র ধারণা যে, ব্রহ্মপুরাণের কুস্তির প্যাঁচ বায়ু পুরান দিয়ে খষাইতে হইবে। আর পরাশরের লাঠির মার হারিতের লাঠিতে ঠেকাইতে হইবে । আর কোন পথ নাই ! সুতরাং যে ব্যক্তি এই কাজটা যত ভাল পারেন, তিনি তত বড় পন্ডিত ! শিক্ষিত ভদ্র ব্যক্তির স্বাভাবিক বুদ্ধির কোন স্থানই নাই ! কারণ সে শ্লোক এবং ভাষ্য মুখস্ত করে নাই !
অতএব হে শিক্ষিত ভদ্র ব্যক্তি! তুমি শুধু তোমাদের সমাজের নিরপেক্ষ দর্শকের মত মিটমিট করিয়া চাহিয়া থাক, এবং শাস্ত্রীয় বিচারের আসরে স্মৃতিরত্ন আর তর্করত্ন কণ্ঠস্হ শ্লোকের গদকা ভাজিয়া যখন আসর গরম করিয়া তুলিবেন, তখন হাততালি দাও !
কিন্তু তামাশা এই যে, জিজ্ঞাসা করিলে এসব পণ্ডিতেরা বলিতেও পারিবেন না, ---কেন তাহারা ও-রকম উন্মত্তের মতো ওই যন্ত্রটা ঘুরাইয়া ফিরিতেছেন এবং কি তাদের উদ্দেশ্য এবং কেনইবা এই আচারটা ভালোবাসিতেছেন এবং কেনই বা এটার বিরুদ্ধে এমন বাঁকিয়া বসিতেছেন ?
যদি প্রশ্ন করা যায়, তখনকার দিনে যে উদ্দেশ্য বা যে দুঃখের নিষ্কৃতি দেওয়ার জন্য অমুক বিধি নিষেধ প্রবর্তিত হইয়াছিল, ---এখনো কি তাই আছে ; ইহাতেই দিয়ে কি মঙ্গল হইবে ? প্রতুত্তরে স্মৃতিরত্ন তাহার গদকা বাহির করিয়া তোমার সম্মুখে ঘুরাইতে থাকিবেন, যতক্ষণ না তুমি ভীত ও হতাশ হইয়া চলিয়া যাও ! ....... বস্তুতঃ এই সত্য ও স্বাধীন বিচার হইতে ভ্রষ্ট হইয়াই হিন্দুর শাস্ত্ররাশি এমন অধঃপতিত হইয়াছে । নিছক নিজের বা দলটির সুবিধার জন্য কত যে রাশি রাশি মিথ্যা উপন্যাস রচিত এবং অনুপ্রবিষ্ট হইয়া হিন্দুর শাস্ত্র সমাজকে ভারাক্রান্ত করিয়াছে, কত অসত্যের বেনামীতে প্রাচীনতার ছাপ মাখিয়া ভগবানের অনুশাসন বলিয়া প্রতিষ্ঠা করিয়াছে, তাহার সীমা পরিসীমা নাই ! ..... অতএব শুধু প্রাচীনত্বই কোন বস্তুর ভাল-মন্দর সাফাই নয় ! ...... এই ভারতেই একদিন ছিল যখন এই চন্দ্র এবং সূর্যের বিবাহ ব্যাপারটা খাঁটি সত্য ঘটনা বলিয়া গ্রহণ করিতে মানুষ ইতস্তত করে নাই ! আবার আজ যাকে সত্য বলিয়া আমরা অসংশয়ে বিশ্বাস করিতেছি, তাহাকেই হয়ত আমাদের বংশধরেরা রূপক বলিয়া উড়াইয়া দিবে ।...এ সকল প্রবন্ধ ও মতামতের যে প্রতিবাদ করা আবশ্যক সেই কথা অবশ্য কেউই বলিবেন না । আমিও একেবারেই বলিতাম না, যদি না ইহা আমার প্রবন্ধের ভূমিকা হিসেবেও কাজে লাগিত । তথাপি প্রতিবাদ করিতে আমি চাহি না, ---কিন্তু ইহারই মত বড় কাতর কণ্ঠে ডাকিতে চাহি, ---ভগবান এই সমস্ত শ্লোক আওড়ানোর হাত হইতে এই হতভাগ্য দেশকে রেহাই দাও ! ঢের প্রায়শ্চিত্ত করাইয়া লইয়াছ, এবার একটু নিষ্কৃতি দাও ।
(ভারতবর্ষ, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৩২৩)
(সমাজ-ধর্মের মূল্য)------ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

Address

Bhola
Barishal

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Prof.Dr.NCdey Robin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share