21/06/2025
🏠 Household Poisoning / ঘরোয়া বিষক্রিয়া:
🔹 সংজ্ঞা:
ঘরোয়া বিষক্রিয়া হলো এমন এক অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তি (বিশেষ করে শিশু) বিভিন্ন ঘরোয়া রাসায়নিক, ওষুধ, কীটনাশক বা পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য খেয়ে ফেললে অথবা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।
এটি অনেক সময় দুর্ঘটনাবশত (accidental) ঘটে, আবার কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে (যেমন আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে) হয়।
---
🧪 যেসব জিনিস থেকে বিষক্রিয়া হতে পারে:
১. পরিষ্কার করার জিনিস (Cleaning Agents):
ব্লিচ (Bleach) – যেমন: হুইটেক্স
টয়লেট ক্লিনার – যেমন: হারপিক
ডিটারজেন্ট (সাবান, ক্লিনার)
২. ঔষধ (Medicines):
প্যারাসিটামল – মাত্রাতিরিক্ত খেলে লিভারের ক্ষতি করে
আয়রন ট্যাবলেট – শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী
ঘুমের ওষুধ (সেডেটিভ)
অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ও সাইকোটিক ওষুধ
৩. কীটনাশক / পোকামাকড় মারার ওষুধ:
অর্গানোফসফেট (Organophosphate)
কারবামেট (Carbamate)
৪. পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য:
কেরোসিন
পেইন্ট থিনার
পেট্রোল
৫. কসমেটিক ও ব্যক্তিগত যত্নের জিনিস:
নেইল পালিশ রিমুভার (Acetone)
পারফিউম
হেয়ার ডাই
৬. অ্যালকোহল (মদ জাতীয় দ্রব্য):
ইথানল
মিথানল
---
🧍♂️ লক্ষণ (Clinical Features):
লক্ষণগুলো নির্ভর করে কি ধরনের বস্তু খাওয়া হয়েছে, তার উপর।
সাধারণ লক্ষণ:
বমি বমি ভাব বা বমি
ঘোর লাগা বা অজ্ঞান হওয়া
পেট ব্যথা
শ্বাসকষ্ট
খিচুনি
হার্টের গতি বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া
নির্দিষ্ট বিষক্রিয়ার লক্ষণ:
Paracetamol: প্রথমে তেমন লক্ষণ থাকে না → ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিভারের ক্ষতি হতে পারে
Organophosphate: লালা ঝরা, চোখে পানি, ঘন ঘন মূত্রত্যাগ, পাতলা পায়খানা, বমি, ঘাম
Kerosene ingestion: কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া
Iron tablet: পেটব্যথা
🛠️ চিকিৎসা (Management):
🔸 সাধারণ চিকিৎসা:
রোগীর এয়ারওয়ে, শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্তচাপ ঠিক রাখা (ABCDE)
🅰️ A – Airway (বাতাস যাওয়ার পথ)
✅ চেক করুন রোগীর মুখ ও গলা দিয়ে বাতাস ঠিকভাবে যেতে পারছে কি না।
যা করতে হবে:
রোগী কথা বলতে পারছে → Airway খোলা আছে
মুখে বমি, লালা, রাসায়নিক → পরিষ্কার করতে হবে (suction করুন)
ঝিমুনি বা অচেতন → Head tilt–chin lift বা Jaw thrust দিন
যদি airway বন্ধ → Oropharyngeal/Nasopharyngeal airway ব্যবহার করুন
জরুরি হলে Endotracheal Intubation দিন
👉 Household poisoning এ airway বন্ধ হয়ে যেতে পারে:
কেরোসিন খেলে aspiration → খিঁচুনি → airway block
ঘুমের ওষুধে অচেতনতা → tongue fallback
---
🅱️ B – Breathing (শ্বাস-প্রশ্বাস)
✅ চেক করুন রোগী শ্বাস নিচ্ছে কি না এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাচ্ছে কি না।
যা করতে হবে:
শ্বাসের হার ও গভীরতা চেক করুন
Cyanosis আছে কি না দেখুন (ঠোঁট/আঙুল নীল হয়ে যাওয়া)
SpO₂ দেখুন
Oxygen দিন (mask বা nasal cannula)
Respiratory depression থাকলে → Bag-valve-mask দিয়ে ventilation দিন
👉 বিষক্রিয়ার কারণে কি হতে পারে:
Depressed breathing → সেডেটিভ/নিদ্রা ওষুধ খেলে
Bronchospasm → গ্যাস/কেমিকেল inhalation এ
Aspiration pneumonia → kerosene ingestion
---
🅲️ C – Circulation (রক্তচাপ ও পালস)
✅ রোগীর পালস, রক্তচাপ ও capillary refill দেখুন।
যা করতে হবে:
Hypotension থাকলে → IV fluids (Normal saline)
Bradycardia → atropine (যদি cholinergic poisoning)
Tachycardia → ECG করে কারণ বের করুন
ব্লিডিং থাকলে → নিয়ন্ত্রণ করুন
👉 Household poisons কী করে:
Organophosphates → Bradycardia, hypotension
Iron poisoning → shock
Tricyclic antidepressants → arrhythmia
---
🅳️ D – Disability (চেতনা, স্নায়বিক অবস্থা)
✅ রোগী সাড়া দিচ্ছে কি না → AVPU scale ব্যবহার করুন
(Alert, Voice, Pain, Unresponsive)
যা করতে হবে:
Pupils দেখুন → Miosis (cholinergic), Mydriasis (anticholinergic)
Blood glucose চেক করুন → Hypoglycemia থাকলে dextrose দিন
Seizure থাকলে → Diazepam দিন
Glasgow Coma Scale হিসেব করুন
👉 Household poisoning-এ কী হতে পারে:
Neurological depression → sleeping pills
Convulsion → iron, isoniazid poisoning
Coma → sedatives
---
🅴️ E – Exposure (সম্পূর্ণ শরীর পরীক্ষা)
✅ রোগী পুরো শরীর চেক করুন: ত্বক, তাপমাত্রা, ইনজুরি, র্যাশ, ফোলা।
যা করতে হবে:
শরীরের তাপমাত্রা নিন (Hypo বা Hyperthermia?)
Injection mark বা bite আছে কি?
Chemical burn বা র্যাশ চিহ্ন আছে কি?
Poison বোতল থাকলে সংগ্রহ করুন (history নেওয়ার জন্য)
বিষাক্ত জিনিস শরীর থেকে বের করার চেষ্টা
Activated charcoal (১ ঘণ্টার মধ্যে খেলে উপকার)
গ্যাস্ট্রিক ল্যাভাজ (পেট পরিষ্কার) – শুধু কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে
---
🌓🌕🌔🔸 বিশেষ প্রতিষেধক (Specific Antidotes):
বিষাক্ত বস্তু প্রতিষেধক / Antidote
1.প্যারাসিটামল -NAC (N-acetylcysteine)
2.Organophosphate -অ্যাট্রোপিন + প্রালিডক্সিম
3.ঘুমের ওষুধ (Benzodiazepine)- ফ্লুমাজেনিল (Flumazenil)
4.Iron tablet -ডিফেরক্সামিন (Deferoxamine)
5.আফিম জাতীয় ওষুধ (Opioid) -ন্যালক্সোন (Naloxone)
---
🧒 শিশুদের ক্ষেত্রে:
শিশুরা অনেক সময় খেলতে খেলতে ওষুধ বা কেরোসিন খেয়ে ফেলে
Iron ট্যাবলেট বা cough syrup খেলেও সমস্যা হতে পারে
তাদের জন্য চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা জরুরি
---
🛡️ প্রতিরোধ (Prevention):
✅ নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চললে ঘরোয়া বিষক্রিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব:
ওষুধ, কেমিকেল, কীটনাশক শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন
লেবেল ছাড়া বোতলে কিছু রাখবেন না
ব্যবহারের পর সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা বন্ধ করুন
শিশুর সামনে ওষুধ খাবেন না – তারা অনুকরণ করতে পারে
চাইল্ড প্রুফ বোতল ব্যবহার করুন