Dr Tasnuva Farzin

Dr Tasnuva Farzin Gynecologist and pregnancy care center

08/05/2026

কৃমিনাশক না খেলে কী হয়?

বাচ্চাটা ঠিকমতো খায়না,শুকিয়ে যাচ্ছে।

পড়াশোনায় মনোযোগ নেই।

সারাক্ষণ নাক চুলকায়, পেটে ব্যথা করে।

রাতে ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করে।

মা ভাবছেন — হয়তো খাওয়ার রুচি নেই।

হয়তো দুষ্টুমি করছে।

কিন্তু আসল সমস্যাটা অন্য জায়গায়।

পেটের ভেতর কৃমি আছে।

আর সেই কৃমি প্রতিদিন চুপ করে খেয়ে যাচ্ছে —

বাচ্চার খাবার থেকে শুরু করে তার ভবিষ্যৎ পর্যন্ত।

কৃমি আসলে কী করে শরীরে?

অনেকে ভাবেন কৃমি মানে শুধু পেটে একটু অস্বস্তি।

না।

কৃমি আপনার শরীরে থাকলে সে প্রতিদিন যা করে —

১. রক্ত চুষে নেয়
হুকওয়ার্ম বা গোলকৃমি অন্ত্রের দেওয়ালে আটকে থেকে প্রতিদিন রক্ত খায়। ধীরে ধীরে শরীরে আয়রনের অভাব হয়। রক্তশূন্যতা আসে। মুখ ফ্যাকাশে হয়, শরীর দুর্বল লাগে — কিন্তু কারণটা ধরা পড়ে না।
২. খাবারের পুষ্টি নিজে নিয়ে নেয়
আপনি খাচ্ছেন ঠিকই — কিন্তু সেই খাবারের ভিটামিন, প্রোটিন, মিনারেল কৃমি আগে নিয়ে নিচ্ছে।
৩. বাচ্চার মস্তিষ্কের বিকাশ থামিয়ে দেয়
পুষ্টির অভাব হলে শুধু শরীর না — মাথাও বাড়ে না। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃমিতে আক্রান্ত শিশুদের IQ এবং স্কুলের ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে
কৃমি থাকলে শরীর সবসময় একটা অদৃশ্য যুদ্ধে ব্যস্ত থাকে। ফলে বাইরের ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়ার শক্তি কমে যায়। ঘন ঘন সর্দি, জ্বর, পেটের সমস্যা লেগেই থাকে।
৫. ঘুম নষ্ট করে
পিনওয়ার্ম রাতের বেলা পায়ুপথের কাছে ডিম পাড়ে। এতে প্রচণ্ড চুলকানি হয়। বাচ্চা ঘুমাতে পারে না, বড়রাও পারেন না — কিন্তু লজ্জায় কাউকে বলেন না।
শুধু বাচ্চা না — বড়রাও আক্রান্ত হয়।
খালি পায়ে হাঁটলে, কাঁচা বা আধাসিদ্ধ খাবার খেলে, অপরিষ্কার হাতে মুখে দিলে — যেকোনো বয়সে কৃমি ঢুকতে পারে।
বড়দের ক্ষেত্রে কৃমির লক্ষণ আরও বেশি মুখোশ পরে আসে —

দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, কাজে মনোযোগ না থাকা, হজমের সমস্যা, অকারণ ওজন কমে যাওয়া।

কতদিন পরপর খাবেন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী —

✅ ২ বছরের উপরে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক সবাই প্রতি ৬ মাস পরপর কৃমিনাশক খাবেন

✅ অ্যালবেন্ডাজল ৪০০ মিগ্রা — একটাই ডোজ, একদিনেই কাজ হয়

✅ গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস বাদে বাকি সময় ডাক্তারের পরামর্শে খাওয়া যায়

যে ভুলটা আমরা সবাই করি

ওষুধ খাওয়া হয় না,কারণ কৃমি দেখা যায় না।

ব্যথা তীব্র না,সমস্যাটা ধীরে ধীরে আসে।

কিন্তু ধীরে ধীরে আসা ক্ষতিটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক —

কারণ সেটা আমরা টের পাই না।

এই দুইটা ট্যাবলেট আপনার বাচ্চার পড়াশোনা, শরীর, ঘুম — সবকিছু রক্ষা করতে পারে।

আজ মনে করুন — শেষবার কবে কৃমিনাশক খেয়েছিলেন?

মনে নেই?

তাহলে এটাই সময়।

(copied)

04/04/2026

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায় হলো MR (Measles-Rubella) টিকা নেওয়া। সরকারি রুটিন টিকাদান কর্মসূচিতে এটি বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

বেসরকারিভাবেও দেওয়া যায়। MMR (Measles-Mumps-Rubella) ভ্যাকসিন। চাইলে বড়োরাও এই ভ্যাকসিন নিতে পারে।

# টিকা কখন দিতে হয়?

সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে হয়। একটি ডোজও মিস করা যাবে না।

এটি বাংলাদেশ সরকারের EPI শিডিউলের অন্তর্ভুক্ত।

তবে বর্তমানের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ৬ মাস বয়সীদেরও এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। (আসন্ন এই ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকেই হামের টিকা দেওয়া হবে। এমনকি আগে পূর্ণাঙ্গ/অপূর্ণাঙ্গ ডোজ দেওয়া থাকলেও। )

এই প্রসঙ্গে কয়েকটি কৌতুহলের জবাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

# কেন এই টিকাটি ৯ মাসে গিয়ে দেওয়া হয়? যেখানে আরও বেশ কিছু টিকা আগেই দিয়ে ফেলা হয়?

জন্মের সময় শিশু তার মায়ের শরীর থেকে প্লাসেন্টার মাধ্যমে হাম প্রতিরোধের প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডি নিয়ে জন্মায়। এই অ্যান্টিবডিগুলো শিশুকে জীবনের প্রথম কয়েক মাস সুরক্ষা দেয়।

# আগে দেওয়া হয় কি?

হ্যাঁ, যদি কোনো এলাকায় হামের ব্যাপক আউটব্রেক দেখা দেয়, তবে অনেক সময় চিকিৎসকরা ৬ মাস বয়সেই একটি অতিরিক্ত ডোজ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেটিকে 'জিরো ডোজ' ধরা হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী ৯ মাস পূর্ণ হলে আবার নিয়মিত ডোজ দিতে হয়।

# কেন ২ ডোজ?

প্রথম ডোজে প্রায় ৮৫-৯০% সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। বাকি ১০-১৫% ক্ষেত্রে যেন কোনো ঝুঁকি না থাকে, সেজন্য ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়।

মনে রাখতে হবে, এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। এর সঙ্গে অটিজম বা প্রতিবন্ধত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। কন্সপিরেসি থিওরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এই মুহূর্তে যারা ছড়াবে তাদেরকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে হবে ও বর্জন করতে হবে।

# টিকা দেবার পরেও কি হাম হতে পারে?

হ্যাঁ, পারে। বলা হয়, হামের টিকা প্রায় ৯০-৯৫% কার্যকর। তবে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভোগে, দীর্ঘমেয়াদি অসুখে ভোগে তাদের ক্ষেত্রে টিকা নেয়া থাকলেও হাম হতে পারে। তবে আশার বিষয় এই যে, টিকা নেয়া থাকলে সাধারণত হামের জটিলতা বেশ কম হয়।

Written by : Dr. Maruf Raihan khan

27/12/2025

আত্নীয়দের মাঝে (রক্তের সম্পর্কের) কারো সাথে বিয়ের আগে সাবধান…
উত্তরবঙ্গে থ্যলাসেমিয়া রোগ অনেক বেশি। এই রোগ যাদের হয় তাদের কষ্ট তো বটেই কিন্তু বাবা-মার কষ্ট সবচেয়ে বেশি। কিছুদিন পর পর রক্ত দিয়ে বাচ্চাটাকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। একবার রক্ত দেয়ার কয়েকদিন পরেই ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হতে থাকে কলিজার টুকরা। এভাবে রক্ত দিতে দিতে একদিন কলিজার টুকরা সব মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে চলে যায়।

অথচ এই রোগটা খুব সহজেই প্রতিরোধ করা যায়। এই রোগ হতে গেলে বাবা- মা দুজনকেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক বা একজনের থ্যালাসেমিয়া রোগ ও একজনকে বাহক হতে হয়।

কেন আত্নীয়দের মধ্যে (রক্তের সম্পর্কের) মধ্যে বিয়ে করলে থ্যালাসেমিয়া রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়?

উত্তরঃ আমার পরিবারে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক আছে। আমার সব ভাই-বোন (আমি ছাড়া) থ্যলাসেমিয়ার বাহক, আমাদের খালাতো ভাইবোনদের অধিকাংশই থ্যলাসেমিয়ার বাহক। তাই যদি আমাদের খালাতো ভাইবোনদের মধ্যে বিয়ে হয়, তাহলে সন্তানদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া হবার সম্ভবনা অনেক বেশি হবে।

আত্নীয় ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করলে কি থ্যালাসেমিয়া হবার সম্ভবনা আছে?

উত্তরঃ অবশ্যই আছে। যদি বর ও কনের দুজনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হোন তাহলে বাচ্চাদের থ্যালাসেমিয়া হতে পারে। আর থ্যালাসেমিয়ার বাহকদের কোন লক্ষন থাকে না, তাই টেস্ট না করে বোঝা যায় না।

কোন টেস্ট করে থ্যালাসেমিয়ার বাহক বা থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয় করা যায়।

উত্তরঃ হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস (Hb Electrophoresis). রক্ত নিয়ে এই পরীক্ষা করা হয়, মাত্র ১০০০-১৫০০ টাকা দিয়ে এই পরীক্ষা করা যায়।

বর- কনের মধ্যে যে কোন একজন যদি থ্যালাসেমিয়ার বাহক হয় তাহলে কি সন্তানদের থ্যালাসেমিয়া হতে পারে?

উত্তরঃ না। সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের কেউ কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক হতে পারে। আর বাহক কোন সমস্যা না, কোন রোগ না।

থ্যালাসেমিয়া কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

উত্তরঃ বর্তমানে যুগে বিয়ের আলাপ আলোচনা শুরুর দিকেই ছেলে- মেয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সিভির আদান-প্রদান হয়। Hb Electrophoresis টেস্টের রিপোর্ট এ যুগে সবার সিভিতে (বিশেষ করে বিয়ের সিভিতে) থাকা উচিত।

শুধু থ্যালাসেমিয়া নয় লিভারসহ আরো কিছু রোগ এভাবে আত্নীয়দের মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে হতে পারে। তাই সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। বিয়ের আগে অনেক কিছুই মনে হতে পারে, এমনও মনে হয় সন্তান না হলেও কোন অসুবিধা নাই ইত্যাদি ইত্যাদি, কিন্তু বিয়ের পর বোঝা যায় পৃথিবীতে একমাত্র অনুভুতি, একমাত্র ভালোলাগা, ভালোবাসার অনুভূতি হলো সন্তান। সেই সন্তান যেন কোনভাবেই কষ্ট না পায়।

ডাঃ রতীন্দ্র নাথ মন্ডল
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
রংপুর স্পেশালাইজড হাসপাতাল

23/11/2025

#ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কখন কোথায় ভূমিকম্প হবে, তা আমরা আগে থেকে জানি না। কিন্তু ভূমিকম্পের সময় কী করণীয়, তা জানা আমাদের সবার জন্য খুবই জরুরি।

#ভূমিকম্প চলাকালে করণীয়–

#যদি আপনি ঘরের ভেতরে থাকেন:–

* আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকুন।

* বারান্দা, জানালা বা ছাদ থেকে লাফ দেবেন না।

* লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।

* মজবুত টেবিল বা পিলারের নিচে আশ্রয় নিন।

* বৈদ্যুতিক সুইচ ও গ্যাস লাইন বন্ধ করুন।

* ঝুলন্ত বা ভাঙা জিনিসের নিচে যাবেন না।

* পাশে কেউ থাকলে, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা করুন।

#যদি আপনি বাইরে থাকেন:–

* খোলা ও নিরাপদ জায়গায় অবস্থান করুন

* বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ বা সেতুর কাছ থেকে দূরে থাকুন

* গাড়িতে থাকলে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামিয়ে ভেতরে থাকুন

#ভূমিকম্পের পর করণীয়:–

* কোথাও আটকা পড়লে শব্দ বা সংকেত দিয়ে সহায়তা চান।

* আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত সহায়তা করুন।

* ভবনের কোনো ত্রুটি থাকলে তা পরীক্ষা করে নিরাপদ ব্যবস্থা নিন।

#ভূমিকম্পের আগে প্রস্তুতি:–

* ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মেরামত করুন।

* নিরাপদ খোলা জায়গা ও বের হওয়ার পথ আগেই চিনে রাখুন।

* ঘর বা অফিসের নিরাপদ স্থানগুলো চিহ্নিত করুন এবং তা পরিবারের সদস্য বা সহকর্মীদের জানিয়ে রাখুন।

* জরুরিভাবে একটি ব্যাগে টর্চ, ওষুধ,
পানি, শুকনো খাবার, বাঁশি ও দড়ি রাখুন।

* জরুরি নম্বর দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখুন: (জরুরি সেবা: ৯৯৯, ফায়ার সার্ভিস: ১০২, ১৬১৬৩)

সতর্কতা ও সচেতনতাই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচাইতে কার্যকর উপায়।

04/11/2025

'বাংলাদেশ সোসাইটি অব জেনারেল ফিজিশিয়ান্স' এর তত্ত্বাবধানে সারা দেশে ২০০ এর অধিক শাখার মাধ্যমে রেজিস্টার্ড এম.বি.বি.এস চিকিৎসক দ্বারা পরিচালিত 'ডাক্তারখানা' মান সম্মত চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। প্রতি নিয়ত নতুন নতুন শাখা চালু হচ্ছে।

স্বল্প মূল্যে সঠিক স্বাস্থ্য সেবা পেতে আপনার নিকটস্থ 'ডাক্তারখানা'র শাখায় যোগাযোগ করুন।

আপনার নিকটবর্তী ডাক্তারখানাকে আপনার পারিবারিক চিকিৎসা কেন্দ্র করুন। ডাক্তারখানা সেন্টার থেকে সকল ধরনের রোগের প্রাথমিক ও দীর্ঘমেয়াদী সেবা নিন। এতে আপনারা অত্যন্ত কম মূল্যে সঠিক সময়ে, সঠিক চিকিৎসা পাবেন।

জটিল রোগের ক্ষেত্রে কোথায় পরবর্তী সঠিক চিকিৎসা পাবেন তার রেফারেল পরামর্শ পাবেন।

ডায়াবেটিস, হাইপ্রেসার, হার্টের, কিডনী, স্ট্রোক, বাত-ব্যাথার রোগীর বাড়ির কাছেই ফলোআপ করতে পারবেন।

26/09/2025

বছরে অন্তত একবার হলেও লিপিড প্রোফাইল চেক করুন।

লিপিড প্রোফাইল টেস্ট কি ?

সোজা বাংলায় কোলেস্টেরল টেস্ট। তিন ধরণের কোলেস্টেরল চেক করা হয় এই টেস্টে।

HDL - high-density lipoprotein . ঘণ চর্বি
LDL - ligh-density lipoprotein বা পাতলা চর্বি।
triglycerides - ট্রাইগ্লিসারাইড

ঘণ চর্বি বেশি থাকলে ভালো। পাতলা চর্বি বেশি থাকা খারাপ। ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি থাকা আরো খারাপ।

HDL বা ঘণ চর্বি থাকে পরিমিত পরিমান ঘিয়ে, বাদামে, ওমেগা ত্রি যুক্ত ডিম, ফ্যাটি এসিড বিশিষ্ট মাছ (তৈলাক্ত মাছ)

LDL বা পাতলা চর্বি বাড়ে বিভিন্ন ভাঁজা পোড়া, ফাস্ট ফুড (পিজ্জা, বার্গার শর্মা ইত্যাদি), ট্রান্সফ্যাট বিশিষ্ট খাবার খেলে। ট্র্যান্স ফ্যাট থাকে সয়াবিন তেলে। তাই এই তেলে রান্না করা খাবার খাওয়া ঠিক না। সরিষার তেল ব্যবহার করুন.
বিস্তারিত বলব ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ে। এটা কি ? এটা হচ্ছে এমন একটা ফ্যাট যেটা শরীরের থাকা অতিরিক্ত চিনি বা শর্করা জমিয়ে রাখে যদি তা ব্যবহৃত না হয়।
তাই, আপনি যেই ভাত খাচ্ছেন, মিষ্টি খাচ্ছেন, কেক, বিস্কিট চানাচুর ইত্যাদি খাচ্ছেন, এগুলার মাধ্যমে যেই ক্যালরি নিচ্ছেন (চিনি, শর্করা এগুলা সবই ক্যালরি), চিন্তা করে দেখুন তো সেই পরিমাণ কাজ কি আমরা আসলেই করি ? উত্তর হচ্ছে, না। আমরা বেশিরভাগই ডেস্কজব করি, কিংবা হোমমেকিং করি। অথব আমরা যেই পরিমানে খাই, সাধারণত রিকশা টানা বা কৃষিকাজ বা কুলির কাজ করা ছাড়া এই এনার্জি ব্যয় করা সম্ভব না।
ট্রাইগ্লিসারাইড কেন বেশি খারাপ
ট্রাইগ্লিসারাইড শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরির স্টোরেজ ফ্যাট, যা মূলত ফ্যাট সেল ও লিভারে জমে। লিভারে জমে হলে ফ্যাটি লিভার হয়। আর রক্তে বেশি ট্রাইগ্লিসারাইড থাকলে তা LDL কণার মাধ্যমে ধমনীর দেয়ালে প্লাক জমায়, যা হার্ট ব্লক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই স্বাভাবিক সীমার বাইরে যেতে দেয়া যাবে না। ট্রাইগ্লিসারাইডেক অতিরিক্ত মাত্রা HDL কমায় এবং LDL বাড়ায়।

পরিমিত মাত্রা কতটুকু ?
১৫০ এর কম থাকলে তা পরিমিত।
১৫০-১৯৯ এর মধ্যে থাকলে তা বর্ডারলাইন হাই। এতে ভবিষ্যতে হার্ট ও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়তে শুরু করে (আল্লাহ না করুন)
২০০-৪৯৯ঃ হাই। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ফ্যাটি লিভার ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি।
৫০০ এর উপরেঃ খুবই বেশি। প্যানক্রিয়াটাইটিস, মারাত্মক হার্ট ও লিভার সমস্যা হতে পারে।

ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে কার্যকরী খাবারঃ
গ্রিন টি
মেথি বীজ
ফ্ল্যাক্সসিড
রসুন
পেয়াজ
কালিজিরা (সীমিত পরিমাণে)
শাকসবজি:
শাক (পালং, লাল শাক, পুঁই শাক), সবুজ শাকসবজি, বরবটি, করলা, লাউ, মুলা, শসা, ফুলকপি, বাঁধাকপি), গাজর, বেগুন, কুমড়া
ফল (সীমিত পরিমাণে)ঃ কমলা, মাল্টা, আপেল, পেয়ারা, জাম, বেরি জাতীয় ফল, কলা ও আম সীমিত, কারণ এগুলোতে চিনি বেশি।
প্রোটিনঃ মাছ (বিশেষ করে নদীর ছোট মাছ, ইলিশ/রুই/কাতলা তেলে ভেজে নয়, সেদ্ধ/ঝোল/গ্রিল), মুরগির বুকের মাংস (চামড়া ছাড়া), ডাল, ছোলা, মসুর, ডিমের সাদা অংশ
তেল: সীমিত পরিমাণে অলিভ অয়েল, সরিষার তেল বা সয়াবিন তেল। দিনে মোট ২–৩ চামচের বেশি তেল খাবেন না
কার্বোহাইড্রেট (শর্করা): লাল চাল/আটা/ওটস/ডালিয়া, ব্রাউন ব্রেড (সীমিত)
আর প্রচুর পানি খাবেন।
বাদাম খাবেন (কাঠ বাদাম, আখরোট) তবে পরমানমত।

যা এভয়েড করবেনঃ
ভাজা-পোড়া খাবার (সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি, পরোটা, ফাস্টফুড)
ঘি, মাখন, কেক, বিস্কুট, চকলেট, চানাচুর
লাল মাংস (গরু, খাসি)
চিনিযুক্ত খাবার (মিষ্টি, আইসক্রিম, কোমল পানীয়, মিষ্টি দুধ, কেক)
বেশি চাল, আলু, নুডলস, পাস্তা
ধুমপান (যদি কেউ খান, সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে)

আরেকটা কথা, অনেকেই ডায়েটিং করে জিরো ফিগার করে ফেলেন। শরীরের মাংস চর্বি কিছুই থাকে না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ওজন অনুযায়ী শরীরে মাংস থাকা কিন্তু ভালো। কারণ, আপনি যদি অতিরিক্ত চিনি/কার্ব ইনটেক করেন, তবে অতিরিক্ত চিনি লিভার বা ধমনীতে জমার আগেই রক্তের মাধ্যমে মাংস তা নিজের মধ্যে শুষে নেয়। ফলে লিভারে জমার জন্য এক্সট্রা চিনি আর অবশিষ্ট থাকে না বা কম থাকে। (অবশ্যই মাংসের একটা ধারণক্ষমতা আছে, চিনির লিমিট তার বাইরে গেলে তা লিভারে জমবে)

এছাড়া
সাইক্লিং, সাতার, ব্যায়াম, ফুটবল বা অন্যান্য খেলাধুলা
প্রতিদিন ৩০–৪৫ মিনিট হাঁটা
ওজন নিয়ন্ত্রণ (যদি বেশি থাকে)
রাতে দেরি করে খাওয়া কমান
নিয়মিত ঘুম (৬–৮ ঘণ্টা)

পরিশেষে,রোগ ধরা পড়ার আগে সচেতনতাই কাম্য। কারণ, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম।

©collected

আজ ১৯শে মে, বিশ্ব পারিবারিক চিকিৎসক দিবস। মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য পারিবারিক চিকিৎসকদের ভূমিকা ...
19/05/2025

আজ ১৯শে মে, বিশ্ব পারিবারিক চিকিৎসক দিবস।

মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য পারিবারিক চিকিৎসকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

'বাংলাদেশ সোসাইটি অব জেনারেল ফিজিশিয়ান্স' পরিচালিত 'ডাক্তারখানা' আমাদের দেশে পারিবারিক চিকিৎসার মডেল হিসেবে সারাদেশে পারিবারিক চিকিৎসক প্রথা চালু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

ঠিকানা: ভৈরবপুর দক্ষিনপাড়া, মুন্সি মার্কেট।২ নং ওয়ার্ড, জামেমসজিদ রোড, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।
05/04/2025

ঠিকানা: ভৈরবপুর দক্ষিনপাড়া, মুন্সি মার্কেট।
২ নং ওয়ার্ড, জামেমসজিদ রোড, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।

Address

Daktarkhana Physician Centre, Munshi Market, New Market Road
Bhairab Bazar
2350

Opening Hours

Monday 18:00 - 21:00
Tuesday 06:00 - 21:00
Wednesday 18:00 - 21:00
Thursday 18:00 - 21:00
Friday 10:00 - 21:00
Saturday 18:00 - 21:00
Sunday 18:00 - 21:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Tasnuva Farzin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share