Dr.Rajib Ghosh FCPS, MCPS, MD

Dr.Rajib Ghosh FCPS, MCPS, MD Specialist of Medicine, Rheumatolgy and Cardiology. Associate Professor
Alma mater: DMC & NICVD

চিকিৎসা ব্যবস্থার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি: যুক্তরাষ্ট্র বনাম ফ্রান্সের ক্ষতিপূরণ নীতিআধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অত্যন্ত উন্নত হলেও...
29/05/2026

চিকিৎসা ব্যবস্থার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি: যুক্তরাষ্ট্র বনাম ফ্রান্সের ক্ষতিপূরণ নীতি
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অত্যন্ত উন্নত হলেও এটি শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত নয়। অনেক সময় চিকিৎসকের সর্বোচ্চ চেষ্টা এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের পরেও রোগীর শরীরে মারাত্মক জটিলতা বা স্থায়ী ক্ষতি দেখা দিতে পারে। এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিকে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে কীভাবে মোকাবেলা করা হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য ও বিচার ব্যবস্থার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আগের পর্বে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চিকিৎসা জনিত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ কিভাবে দেওয়া হয় তা নিয়ে লিখেছিলাম।

এই লিখায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের চিকিৎসা অবহেলা (Medical Malpractice) সংক্রান্ত নীতিমালার বৈসাদৃশ্য নিয়ে আলাপ করবো।
👉 ​যুক্তরাষ্ট্রের 'ত্রুটি-ভিত্তিক' (Fault-Based) আইনি সমাধানঃ
যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রোগীর চিকিৎসা-পরবর্তী বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হলে, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার একমাত্র মূল উপায় হলো কোর্টে মামলা (Lawsuit)। মার্কিন বিচার ব্যবস্থায় এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি মাত্র প্রশ্নের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে—"চিকিৎসকের অবহেলা বা ত্রুটি (Negligence) প্রমাণ করা সম্ভব কি না?"
​এই ব্যবস্থার কারণে রোগীকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দৌড়ে নামার আগেই দীর্ঘস্থায়ী আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। বছরের পর বছর ধরে চলা মামলা, বিশেষজ্ঞ সাক্ষীর (Expert Witnesses) সন্ধান এবং বিপুল পরিমাণ আইনি খরচ বহনের পরেই কেবল প্রমাণ করা সম্ভব হয় যে, চিকিৎসক চিকিৎসার প্রচলিত মানদণ্ড (Standard of Care) লঙ্ঘন করেছেন কি না। এর ফলে রোগীরা যেমন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন, তেমনি চিকিৎসকদের মধ্যেও এক ধরণের আত্মরক্ষামূলক চিকিৎসার (Defensive Medicine) প্রবণতা তৈরি হয়।

👉 ​ফ্রান্সের বিকল্প পথ: 'ওনিয়াম' (ONIAM) ও নো-ফল্ট সিস্টেম
ফ্রান্সের চিকিৎসা ও আইনি ব্যবস্থা এই জটিল বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোণ থেকে বিবেচনা করে। ফ্রান্সে যদি কোনো রোগীর অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসার পর মারাত্মক কোনো ক্ষতি হয়, তবে চিকিৎসকের কোনো ভুল না থাকলেও রোগী ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
​ফ্রান্সে ঐতিহ্যগত আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি ONIAM (National Office for Medical Accident Compensation) নামক একটি বিশেষ জাতীয় প্রোগ্রাম রয়েছে। এটি মূলত ফরাসি স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক বীমা ব্যবস্থার (Social Insurance System) যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত একটি সরকারি তহবিল। এই ব্যবস্থার মূল দর্শন হলো—"মেডিসিনে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে।" কোনো চিকিৎসকের গাফিলতি না থাকলেও যদি কোনো ওষুধের মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অস্ত্রোপচারের বিরল কোনো জটিলতা (Therapeutic Accidents) দেখা দেয়, তবে এই ফান্ডের মাধ্যমে রোগীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

👉 ​দুই ব্যবস্থার মৌলিক পার্থক্য ও সামাজিক প্রভাবঃ
যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের এই দুই পদ্ধতির মধ্যে গভীর কিছু পার্থক্য বিদ্যমান:
১. ​আলাদা দৃষ্টিকোণ: ফরাসি ব্যবস্থা চিকিৎসকের ভুল এবং রোগীর প্রয়োজনকে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় হিসেবে দেখে। চিকিৎসকের অবহেলা থাকলে তাঁর লাইসেন্স বাতিল বা শাস্তির ব্যবস্থা আলাদাভাবে হয়, কিন্তু রোগীর ক্ষতিপূরণের জন্য চিকিৎসকের ভুল প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক নয়।
২. ​সহযোগিতামূলক বনাম দ্বন্দ্বমূলক পরিবেশ: মার্কিন ব্যবস্থাটি অত্যন্ত দ্বন্দ্বমূলক (Adversarial), যেখানে রোগীকে চিকিৎসকের দোষ প্রমাণ করতেই হয়। অন্যদিকে, ফ্রান্সের পদ্ধতিটি কম বৈরী, কারণ সেখানে ফান্ডের টাকা সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসকের পকেট থেকে বা তাঁর ব্যক্তিগত বীমা থেকে যায় না।
৩. ​ক্ষতিপূরণের ধরন: যুক্তরাষ্ট্রের মামলায় মাঝেমধ্যে বিশাল অঙ্কের (Lottery-style) ক্ষতিপূরণের রায় আসে, যা ফরাসি ব্যবস্থায় সাধারণত দেখা যায় না। ফ্রান্সে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত (Standardized) এবং এটি পেতে হলে রোগীর দীর্ঘমেয়াদী অক্ষমতা বা বড় ধরণের শারীরিক ক্ষতির সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়।

👉 যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের এই দুই ব্যবস্থার নিজস্ব ভালো-মন্দ দিক রয়েছে। মার্কিন ব্যবস্থায় হয়তো কোনো কোনো রোগী বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পান, কিন্তু সাধারণ রোগীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ আইনি জটিলতার কারণে বঞ্চিত হন। পক্ষান্তরে, ফরাসি ব্যবস্থা একটি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (Safety Net) তৈরি করে, যা চিকিৎসকের ভুল বা সঠিক চিকিৎসার ঊর্ধ্বে উঠে ভুক্তভোগী রোগীর পাশে দাঁড়ায়। চিকিৎসার মতো একটি মানবিক পেশায় ফরাসিদের এই 'নো-ফল্ট' ক্ষতিপূরণ নীতি বিশ্বজুড়ে একটি মানবিক ও টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আমাদেরও এমন কিছুর উদ্যোগ নেওয়ার সময় কি হয়নি?

নিউজিল্যান্ডের ভিন্নধর্মী চিকিৎসা ব্যবস্থা ও চিকিৎসা ত্রুটি নিরসনের ব্যবস্থাঃ​চিকিৎসা ক্ষেত্রে মানবিক ভুল বা ত্রুটি একটি...
28/05/2026

নিউজিল্যান্ডের ভিন্নধর্মী চিকিৎসা ব্যবস্থা ও চিকিৎসা ত্রুটি নিরসনের ব্যবস্থাঃ
​চিকিৎসা ক্ষেত্রে মানবিক ভুল বা ত্রুটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই চিকিৎসার গাফিলতি বা ভুলের কারণে রোগীর ক্ষতি হলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করার এবং বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই প্রচলিত ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড। দেশটি চিকিৎসা ত্রুটি এবং এর ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাপনায় এমন এক অভিনব পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিশেষজ্ঞদের চমকে দিয়েছে।

👉 ​মামলা-বর্জিত চিকিৎসা সংস্কৃতি (No-Fault System):
​নিউজিল্যান্ডে চিকিৎসকের ভুলের জন্য তার বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করা বা আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়া কার্যত অবৈধ। বাহ্যিকভাবে এটি সাধারণ মানুষের কাছে চরম বিপজ্জনক বা চিকিৎসকদের একতরফা সুবিধা দেওয়ার মতো মনে হতে পারে। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে দেশটির একটি অনন্য সরকারি উদ্যোগ, যার নাম ACC (Accident Compensation Corporation) বা দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ সংস্থা।
​এটি মূলত একটি সরকারি তহবিল বা 'নো-ফল্ট' (কারো দোষ না খোঁজার) ইন্স্যুরেন্স পুল। চিকিৎসার কোনো ত্রুটির কারণে রোগীর শারীরিক ক্ষতি হলে, কোনো পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত না করেই সরাসরি এই সংস্থা থেকে রোগীর পাশে দাঁড়ানো হয়।

👉 ​রোগীবান্ধব ক্ষতিপূরণ ও সহায়তাঃ
​প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় একজন রোগীকে চিকিৎসকের অবহেলা প্রমাণ করতে বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হয়, গুনতে হয় আইনজীবীর মোটা অঙ্কের ফি। নিউজিল্যান্ডের এ পদ্ধতিতে সেই জটিলতা নেই। কোনো দুর্ঘটনা বা ভুল চিকিৎসার শিকার হলে রোগী কেবল একটি আবেদন বা ক্লেইম ফাইল করেন। ক্ষতি নিশ্চিত হলে ACC সরাসরি নিচের সুবিধাগুলো প্রদান করে:
১. ​যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করা।
২. ​শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ফিজিওথেরাপি বা থেরাপির খরচ দেওয়া।
৩. ​অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারালে উক্ত সময়ের আয়ের সর্বোচ্চ ৮০% পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

👉 ​প্রতিরক্ষামূলক চিকিৎসা (Defensive Medicine) হ্রাসঃ
​আমেরিকা বা ইউরোপের মতো দেশগুলোতে চিকিৎসকেরা প্রতিনিয়ত মামলার আতঙ্কে ভোগেন। এই ভয় থেকে বাঁচতে তারা রোগীদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা টেস্ট করাতে বাধ্য হন, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে 'ডিফেন্সিভ মেডিসিন' বলা হয়। এতে স্বাস্থ্য খাতের পেছনে শত শত কোটি টাকার অপচয় হয়। নিউজিল্যান্ডে মামলার ভয় না থাকায় চিকিৎসকেরা স্বাধীনভাবে এবং সঠিক প্রয়োজনে চিকিৎসা দিতে পারেন, যা পুরো ব্যবস্থার খরচ কমিয়ে আনে।

👉 ​সততা এবং ভুল থেকে শেখার প্রবণতা
​নিউজিল্যান্ডের এই ব্যবস্থার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো চিকিৎসকদের সততা। মামলার ভয় না থাকায় চিকিৎসকেরা কোনো ভুল হলে তা লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন না। তারা সরাসরি রোগীর কাছে ভুল স্বীকার করতে পারেন এবং ACC-র ফর্ম পূরণে রোগীকে সাহায্য করেন। এর ফলে সরকারের কাছে চিকিৎসা ত্রুটি সংক্রান্ত অত্যন্ত নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত তথ্য বা ডেটা জমা হয়।
​যদি কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসক বারবার একই ভুল করেন, তবে মেডিকেল বোর্ড সহজেই তা চিহ্নিত করে তার লাইসেন্স বাতিল বা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। ফলে শাস্তি দেওয়ার চেয়ে ভবিষ্যতে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধ করাই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

​ পরিশেষে বলা যায়
​নিউজিল্যান্ডের এই মডেলটি প্রমাণ করে যে, আইনি লড়াই বা চিকিৎসকের শাস্তির চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রোগীর দ্রুত পুনর্বাসন এবং চিকিৎসকদের স্বচ্ছতা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে অনেক বেশি কার্যকর। জয়-পরাজয়ের আইনি খেলা বাদ দিয়ে রোগীর যত্ন নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ ত্রুটি প্রতিরোধের এই বৈপ্লবিক দৃষ্টিভঙ্গি অন্যান্য দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্যও একটি বড় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।
আমাদের দেশেও এমন একটা ব্যবস্থা হলে কেমন হবে?

আরেকটু বলি...
অ্যাকসিডেন্ট কমপেনসেশন কর্পোরেশন (Accident Compensation Corporation - ACC) হলো নিউজিল্যান্ড সরকারের একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, যা দেশের সকল নাগরিক, কর্মজীবী এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য একটি 'নো-ফল্ট' (no-fault) ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা স্কিম পরিচালনা করে। এর অর্থ হলো, নিউজিল্যান্ডে কোনো দুর্ঘটনায় কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হলে সেটি কার ভুলে বা কীভাবে ঘটেছে তা বিবেচনা না করেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। ১৯৭৪ সাল থেকে এই কার্যক্রম চলে আসছে। নিউজিল্যান্ডে এই সর্বজনীন নো-ফল্ট স্কিম থাকার কারণে, কোনো ব্যক্তি দুর্ঘটনায় আহত হলে ক্ষতিপূরণ চেয়ে অন্য কারও বিরুদ্ধে আদালতে সাধারণ দেওয়ানি মামলা (Sue) করতে পারেন না। তবে এর ব্যতিক্রম হিসেবে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন বা বিপজ্জনক আচরণের ক্ষেত্রে আদালত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ (Exemplary Damages) ধার্য করতে পারে।
অর্থাৎ কেবল চিকিৎসা সংক্রান্ত দুর্ঘটনা নয় যে কোন রকমের দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এই স্কিমে ক্ষতিপূরণ পায়।

23/05/2026

উচ্চ মানের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা (High Emotional Intelligence/EQ) এবং এর একটি বিশেষ দিক ‘কগনিটিভ এম্প্যাথি’ (Cognitive Empathy) বা ‘ বুদ্ধিবৃত্তিক সহানুভূতি’র প্রভাব নিয়ে আলোচনা।

❤️ ​কগনিটিভ এম্প্যাথি: উচ্চ আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার উপহার ও জটিলতা

​মনোবিজ্ঞানের অন্যতম আকর্ষণীয় এবং গভীর একটি ক্ষেত্র হলো আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বা ইমোশনাল কোশেন্ট (EQ)। সাধারণত আমরা মনে করি, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা মানে কেবল মানুষের প্রতি দয়াশীল হওয়া বা নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু এর পরিধি আরও অনেক বিস্তৃত। উচ্চ মানের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার অন্যতম প্রধান একটি লক্ষণ হলো মানুষের আচরণের পেছনের গভীর কারণগুলোকে অনুধাবন করার ক্ষমতা, যা মনোবিজ্ঞানের ভাষায় 'কগনিটিভ এম্প্যাথি' (Cognitive Empathy) বা বুদ্ধিবৃত্তিক সহানুভূতি নামে পরিচিত। এটি এমন এক মানসিক অবস্থা, যা একই সাথে একজন মানুষের জন্য আশীর্বাদ এবং এক নীরব মানসিক সংগ্রাম।

​কগনিটিভ এম্প্যাথি কী?
​সহানুভূতি বা এম্প্যাথিকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. আবেগীয় সহানুভূতি (Emotional Empathy): যখন আমরা অন্য কারও কষ্ট দেখে নিজের মনেও ঠিক একই কষ্ট অনুভব করি।
২. করুণামূলক সহানুভূতি (Compassionate Empathy): যখন আমরা অন্য কারও কষ্ট দেখে তাকে সরাসরি সাহায্য করার জন্য উদ্বুদ্ধ হই।
৩. কগনিটিভ এম্প্যাথি (Cognitive Empathy): এটি মূলত একটি মানসিক বিশ্লেষণ ক্ষমতা। কোনো ব্যক্তি কেন একটি নির্দিষ্ট আচরণ করছেন, তার পেছনের মানসিক অবস্থা বা যুক্তি কী—তা নিজের বুদ্ধিমত্তা ও মনস্তাত্ত্বিক সচেতনতা দিয়ে হুবহু বুঝতে পারার নামই কগনিটিভ এম্প্যাথি।
এটি এমন একটি গুণ যেখানে আপনি শুধু মানুষের কাজটাই দেখেন না, বরং তারা কাজটি কেন করেছে তা গভীর থেকে উপলব্ধি করতে পারেন।

@ এটা ​আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?
ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক রূপ

​উচ্চমানের কগনিটিভ এম্প্যাথির অধিকারী ব্যক্তিরা সহজে কাউকে মন থেকে ঘৃণা করতে পারেন না। কারণ, তারা অপর ব্যক্তির নেতিবাচক আচরণের আড়ালের ক্ষতগুলো দেখতে পান।যেমন:

১. ​ব্যঙ্গাত্মক আচরণের পেছনে শৈশবের ট্রমা: কেউ যখন অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যঙ্গ বা উপহাস (Sarcasm) করে, একজন সাধারণ মানুষ হয়তো ক্ষুব্ধ হন। কিন্তু উচ্চ EQ-সম্পন্ন ব্যক্তি বোঝেন যে, এটি আসলে সেই মানুষের শৈশবের কোনো মানসিক আঘাত বা আত্মরক্ষার (Defense Mechanism) একটি দেয়াল মাত্র।

২. ​দূরত্বের পেছনে ভয়: অনেকে মানুষের সাথে দূরত্ব বজায় রাখে বা অহংকারী আচরণ করে। এর পেছনে আসলে থাকে সমাজ বা মানুষের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার এক গভীর ভয়।

৩. ​নিষ্ঠুরতার পেছনে আত্ম-ঘৃণা: অন্যের প্রতি অবিচার বা নিষ্ঠুরতার উৎস অনেক সময়ই নিজের প্রতি জমে থাকা তীব্র ক্ষোভ ও আত্ম-ঘৃণা।

​যখন একজন মানুষ অন্যকে এভাবে পড়তে পারেন, তখন তার জন্য অপরকে পুরোপুরি দোষী সাব্যস্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। একবার মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝার এই চোখ তৈরি হয়ে গেলে, তা আর কখনো বন্ধ করা যায় না। তাই অনেক সময় এই উপহারটি একটি মানসিক বোঝা বা অভিশাপের মতো মনে হতে পারে।

@ ​সচেতনতা বনাম সীমানা নির্ধারণের দ্বন্দ্ব
​উচ্চমানের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার মানুষরা প্রায়ই একটি অদ্ভুত দোলাচলের মধ্যে বাস করেন। তারা একাধারে মানুষের কষ্টের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন, আবার অন্যদিকে নিজেদের মানসিক শান্তি বজায় রাখার জন্য সীমানা (Boundaries) নির্ধারণের তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
​তারা এতটাই সচেতন যে চাইলেও দীর্ঘ সময় কারও ওপর রেগে থাকতে পারেন না, আবার তারা ভেতরে ভেতরে এতটাই আঘাত পান যে সব কিছু ভুলে স্বাভাবিক হওয়ার ভানও করতে পারেন না। এই নীরব টানাপোড়েন তাদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে। তারা প্রায়ই মনে মনে আশা করেন, ইস! যদি অন্য কেউ তাদেরও ঠিক এই গভীরতা এবং বোঝাপড়া দিয়ে একটু বোঝার চেষ্টা করত!

@ ​আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বনাম আবেগীয় প্রাপ্যতা
​মনোবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সত্য "আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা (Emotional Intelligence) মানেই আবেগীয় প্রাপ্যতা (Emotional Availability) নয়।" আপনি কারও কষ্টের কারণ বা তার আচরণের পেছনের ট্রমা বুঝতে পারছেন—তার মানে এই নয় যে আপনাকে তার জীবনের সব অন্যায় সহ্য করে তার পাশে থেকে যেতে হবে। আপনি একজন মানুষের ভেতরের ভাঙচুরকে সম্মান করতে পারেন, তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন, কিন্তু একই সাথে নিজের সুরক্ষার জন্য তার জীবন থেকে চিরতরে চলেও আসতে পারেন।
​কোনো আচরণ কেন ঘটছে তা যৌক্তিকভাবে বুঝতে পারা (It makes sense) আর সেই আচরণকে নিজের জীবনে প্রশ্রয় দেওয়া—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কোনো বিষাক্ত সম্পর্ক বা মানুষ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া কোনো নিষ্ঠুরতা বা যত্নহীনতা নয়; এটি আসলে নিজের মানসিক সুস্থতা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য এক ধরণের স্পষ্ট দূরদর্শিতা (Clarity and Vision)।
সব শেষে বলা যায়..
​উচ্চমানের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বা কগনিটিও এম্প্যাথি মানুষকে এক বিশাল হৃদয়ের অধিকারী করে তোলে। এটি সমাজকে আরও মানবিক উপায়ে দেখতে শেখায়। তবে এর প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে, যখন এই সহানুভূতি কেবল অন্যের প্রতিই নয়, নিজের প্রতিও সমভাবে প্রয়োগ করা হয়। অন্যের ক্ষতকে বোঝার পাশাপাশি নিজের মানসিক সীমানাকে শ্রদ্ধা করাই হলো প্রকৃত সুস্থ আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
ডা. রাজীব ঘোষ
সহযোগী অধ্যাপক
২৩ মে, ২০২৬
রাঙ্গামাটি

লিখাটার সাথে অমৃতা কৌর পরিবেশনায় "খাজা মেরে খাজা" গানটি দিলাম। উনি যেভাবে গানটি পরিবেশন করছেন, তাতে মূলত রাগ আহির ভৈরব (Raga Ahir Bhairav)-এর স্পষ্ট প্রভাব রয়েছে।
​মূলত এ. আর. রহমানের তৈরি করা মূল গানটি 'রাগ ভৈরব' এবং 'আহির ভৈরব'-এর মিশ্রণে সাজানো।

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমে (PCOS) আক্রান্ত নারীর অদ্ভুত জৈবিক সুবিধাঃপ্রকৃতি বড় বিচিত্র। যাকে সে একহাতে কষ্ট দেয়, অন্...
20/05/2026

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমে (PCOS) আক্রান্ত নারীর অদ্ভুত জৈবিক সুবিধাঃ
প্রকৃতি বড় বিচিত্র। যাকে সে একহাতে কষ্ট দেয়, অন্যহাতে তাকে দিয়ে দেয় এক গোপন উপহার।
পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম — নামটা শুনলেই অনেক নারীর বুকে একটা চাপা ভয় জমে ওঠে। অনিয়মিত মাসিক, হরমোনের ওঠানামা, ওজন বাড়ার প্রবণতা — এই সব মিলিয়ে PCOS যেন এক অদৃশ্য শত্রু। আর সবচেয়ে বড় ভয়? "আমি কি কোনোদিন মা হতে পারব?"
কিন্তু বিজ্ঞান এখন বলছে — থামুন। গল্পটা এখানেই শেষ নয়। বরং এখানেই শুরু এক আশ্চর্য অধ্যায়ের।
শরীরের ভেতরে এক নীরব যুদ্ধ
একজন PCOS আক্রান্ত নারীর ডিম্বাশয়ে থাকে অসংখ্য ছোট ছোট ফলিকল — ডিম্বাণু ধারণকারী ক্ষুদ্র থলি। এই থলিগুলো প্রতিনিয়ত একটি হরমোন নিঃসরণ করে চলে, যার নাম অ্যান্টি-মুল্যারিয়ান হরমোন বা AMH।
সুস্থ নারীর শরীরে এই হরমোন থাকে পরিমিত। কিন্তু PCOS-এ? এই মাত্রা বেড়ে যায় দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত। আর এই অতিরিক্ত AMH-ই হয়ে ওঠে মূল খলনায়ক — ডিম্বাণুর পরিপক্বতাকে থামিয়ে দেয়, ওভুলেশনকে করে বিপর্যস্ত। ফলে অল্প বয়সে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ হয়ে পড়ে কঠিন।
কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য রহস্য।
যখন বাধাই হয়ে ওঠে রক্ষাকবচ
একটু ভাবুন। PCOS আক্রান্ত নারীর ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণুর মজুদ থাকে অনেক বেশি। শরীর তার ডিম্বাণুগুলোকে যেন "সঞ্চয়" করে রাখে ভবিষ্যতের জন্য।
সাধারণ নারীদের ক্ষেত্রে ৩০ পেরোতেই এই মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসতে শুরু করে। AMH কমে, ওভারির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা ক্রমশ সংকুচিত হয়।
কিন্তু PCOS-এ? সেই অতিরিক্ত মজুদ থাকার কারণে এই ক্ষয় হয় ধীরে ধীরে। বয়স ৩৫ থেকে ৪৫-এর মধ্যে যখন এই অতিরিক্ত AMH একটু একটু করে কমে আসে — তখন সেটা পৌঁছায় এক "জাদুকরী ভারসাম্যে"। আর ঠিক তখনই ডিম্বাশয় যেন নতুন করে জেগে ওঠে। ওভুলেশন শুরু হয় নিয়মিত। গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ে স্বাভাবিকভাবেই।
বিজ্ঞান কী বলছে?
সুইডেনের বিখ্যাত কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য: PCOS আক্রান্ত নারীদের ডিম্বাশয় জৈবিকভাবে প্রায় দুই থেকে চার বছর "তরুণ" থাকে। যে বয়সে একজন সুস্থ নারীর প্রজনন ক্ষমতা দ্রুত নামছে, ঠিক সেই বয়সে PCOS আক্রান্ত নারীর গর্ভধারণের হার বরং ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
প্রকৃতি যেন একটু দেরি করে হলেও সুদে-আসলে ফিরিয়ে দেয় তার পাওনা।
তবে সতর্কতা জরুরি
এই তথ্য আশাব্যঞ্জক — কিন্তু এটাকে অজুহাত বানানো চলবে না।
"৪০-এ এমনিই হবে" ভেবে চুপ করে বসে থাকা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ ৩৫-এর পর গর্ভধারণে উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা ক্রোমোজোমাল জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে — সেটা PCOS থাকুক বা না থাকুক। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ, সঠিক জীবনযাত্রা, এবং সময়মতো চিকিৎসা — এই তিনটি পথ সবসময় খোলা রাখতে হবে।
শেষ কথা — একটু অন্যরকম দৃষ্টিতে
PCOS একটি রোগ, সন্দেহ নেই। কিন্তু এটি একটি বাক্য নয় যা দিয়ে কারো ভাগ্য চিরতরে লেখা হয়ে যায়।
প্রকৃতি হয়তো PCOS আক্রান্ত নারীকে বলতে চায় — "তাড়া নেই, আমি তোমার জন্য একটু বেশি সময় রেখে দিয়েছি।"
সেই সময়টুকু কাজে লাগানোর দায়িত্ব আমাদের — সঠিক জ্ঞান দিয়ে, সঠিক যত্ন দিয়ে, এবং সঠিক আশা নিয়ে।

17/05/2026

বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে কিছু কথা।

পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের ব্যাপকতা নিয়ে আমার একটা গবেষণার ভিত্তিতে আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন। মূল স...
17/05/2026

পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের ব্যাপকতা নিয়ে আমার একটা গবেষণার ভিত্তিতে আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন।
মূল সংবাদের লিংক
https://dainikpurbokone.net/zila-upazila-gram/575153/
মূল আর্টিকেল এর লিংক
https://www.mendeley.com/catalogue/4ec6bdde-dba5-3757-9671-2af7008d1026/

14/05/2026
PCOS আর নেই — এখন PMOS: একটি নামের পেছনে দশ বছরের লড়াই।পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) নামটি চিরতরে বদলে গেল। নতুন না...
14/05/2026

PCOS আর নেই — এখন PMOS: একটি নামের পেছনে দশ বছরের লড়াই।
পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) নামটি চিরতরে বদলে গেল।
নতুন নাম: Polyendocrine Metabolic Ovarian Syndrome — সংক্ষেপে PMOS।
শুধু একটি অক্ষরের পরিবর্তন নয়
মে ১২, ২০২৬। প্রাগে European Congress of Endocrinology-র মঞ্চে ঘোষণাটি এলো, আর একই সঙ্গে প্রকাশিত হলো বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী চিকিৎসা জার্নাল The Lancet-এ। বিশ্বব্যাপী ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের আছে এমন একটি রোগের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বদলে গেল — PCOS হলো PMOS।
দেখতে মাত্র একটি অক্ষরের হেরফের। কিন্তু এর পেছনে আছে ১১ বছরের গবেষণা, বিতর্ক, এবং ২২,০০০ মানুষের মতামত।
পুরনো নামের সমস্যা কোথায় ছিল?
"Polycystic O***y Syndrome" — নামটি শুনলেই মনে হয় ওভারিতে সিস্ট আছে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক জটিল।
Yale University-র Dr. Alla Vash-Margita বলেন, "Polycystic O***y বলতে গিয়ে আমরা আসল ছবিটাই মিস করে যাচ্ছিলাম। রোগীরা ভাবতেন তাদের বড় সিস্ট আছে — আসলে নেই।"
পুরনো নামটি "inaccurate" ছিল কারণ এটি এন্ডোক্রাইন ও মেটাবলিক জটিলতাগুলো আড়াল করে ফেলত এবং রোগ নির্ণয়ে দেরি, অপ্রতুল চিকিৎসা ও সামাজিক কলঙ্কের জন্ম দিত।
এই বিভ্রান্তির ফল ছিল ভয়াবহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, এই রোগে আক্রান্ত ৭০% মানুষ এখনো অনির্ণীত অবস্থায় থাকেন।
PMOS নামটি কেন বেশি সঠিক?
নতুন নামের প্রতিটি শব্দ অর্থবহ:
Poly-endocrine → এটি একাধিক হরমোন গ্রন্থিকে প্রভাবিত করে
Metabolic → রক্তে শর্করা, ওজন, কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য — সবই যুক্ত
Ovarian → ওভারির ভূমিকা আছে, তবে এটিই সব নয়
Syndrome → এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা
নতুন নামটি স্পষ্ট করে যে এটি শুধু গাইনোকোলজিক্যাল রোগ নয় — এটি একটি জটিল, মাল্টিসিস্টেম কন্ডিশন যা এন্ডোক্রাইন, মেটাবলিক, রিপ্রোডাক্টিভ, ডার্মাটোলজিক্যাল এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।
১১ বছরের যাত্রা
২০১৫ সালে সিসিলিতে একটি বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা প্রথমবার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে মুখোমুখি হন — এবং তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। সেই শুরু।
এরপর চলেছে বৈশ্বিক জরিপ, Delphi পদ্ধতিতে মতামত সংগ্রহ, রোগী-চিকিৎসক-গবেষকদের সম্মিলিত আলোচনা।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে PMOS নামটি বিপুল সমর্থনে জয়ী হয়। ৯০ জন ভোটারের মধ্যে ৮৭ জন সঙ্গে সঙ্গে সমর্থন দেন।
এই প্রক্রিয়ায় Endocrine Society সহ ৫০টিরও বেশি পেশাদার ও রোগী সংগঠন অংশ নেয়।

Address

Katalganj Road
Chittagong
4000

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr.Rajib Ghosh FCPS, MCPS, MD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr.Rajib Ghosh FCPS, MCPS, MD:

Shortcuts

Share

Category