Psychologist Umme Salma Saima

Psychologist Umme Salma Saima প্রফেশনাল সাইকোলজিস্ট(মনোবিজ্ঞানী), সাইকোথেরাপিস্ট, কাউন্সেলর, মেন্টাল হেলথ এক্সপার্ট

কাউন্সেলিং ও সাইকোথেরাপি নিয়ে ভূল ধারণা আর যে সমস্যাগুলো দেখা যায় তার কিছু অংশ তুলে ধরাটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি (পার্ট-১...
07/06/2026

কাউন্সেলিং ও সাইকোথেরাপি নিয়ে ভূল ধারণা আর যে সমস্যাগুলো দেখা যায় তার কিছু অংশ তুলে ধরাটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি (পার্ট-১)

১. অনেকের প্রশ্ন থাকে, সাইকিয়াট্রিস্ট বা ডাক্তার যদি রোগ নির্ণয় করতে/ওষুধ লিখতে বেশি সময় না নেন, তাহলে সাইকোলজিস্টের কাছে এতো সময় দিতে হয় কেন বা এত বার আসতে হয় কেন?
উত্তরটা হলো, সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ যে ওষুধ দেন তা কেবল শারীরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে কাজ করে। কিন্তু মানসিক রোগের বড় একটা অংশ থেকে যায় রোগ সম্পর্কৃত আচরণ, চিন্তা, আবেগ, সমস্যা, ট্রমা ইত্যাদির মধ্যে৷ মানুষ মূলত গাছের মতোন, আপনার মূল শিকর অব্দি কাজ করা না হলে, সমস্যা বার বার ফিরবে। তাই শুধু ওষুধ দিয়ে ডালপালা ছাটায় করে আপনি কখনো মূল রোগ/সমস্যা থেকে বের হতে পারবেন না। আর এই চিন্তা, আবেগ, দ্রুত পরিবর্তনশীল নয়। যার দরুন সাইকোথেরাপিতে অনেক সময় লাগে।
তার উপর তাড়াহুড়ো করে কোনো একটা নির্দিষ্ট রোগেই ফেলতে হবে বিষয়টি সঠিক নয়৷ মানুষের জীবণে এমন কিছু সমস্যা থাকতে পারে যা হয়তো হালকা কিছু লক্ষণ হিসেবে আছে, পুরোপুরি কোনো স্পেশিফিক রোগের বৈশিষ্ট্য নয় অর্থাৎ পুরোপুরি একটা নির্দিষ্ট রোগে পড়ে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কয়েকটা রোগের লক্ষণ একসাথে কয়েকটা করে মিশ্রিত অবস্থায় আছে। সেক্ষেত্রে সাইকোলজিস্ট হিসেবে এইটা লক্ষণ বা সমস্যা হিসেবে আমরা ট্রিটমেন্ট করি। তাই এসেসমেন্ট বা সমস্যার মূল পয়েন্ট নির্ণয় করতে আমাদের সাইকোলজিস্টদের অনেক সময় লাগতে পারে।
সাইকিয়াট্রিস্ট এর মতো সাইকোলজিস্ট যেহেতু শুধু শারীরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে কাজ করেনা। মূল সমস্যা এবং একজনের ছোট বেলা থেকে তথ্য নেওয়া, সমস্যার উৎস খোঁজা, এমনকি প্রতিটা সমস্যা বা লক্ষণ ধরে ধরে যেহেতু সাইকোথেরাপিতে কাজ করা হয় তাই সময় বেশি লাগাটা খুব স্বাভাবিক।
ঠিক এই কারণে কাউন্সেলিং কখনো ১ দিনে হয় না। আপনার মূল সমস্যা বের করতেই ৩-৪ টা সেশন এভারেজে লেগে যেতে পারে। টেকনিক ব্যবহার করে আপনার চিন্তা আবেগ ও সমস্যার মূলে পৌঁছানো, তারপর সেশনের লক্ষ্য ঠিক করা, ট্রিটমেন্ট দেওয়া সহ এইটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার বলা চলে। যেহেতু আপনার সমস্যাটা গতদিনের না সেহেতু ১-২ টা সেশনে আপনি একজন পার্ফেক্ট হয়ে যেতে পারবেন এই আশা রাখাটাও ত্রুটিমূলক চিন্তা।
একটু ভেবে দেখুন কি কারণে সাইকোলজিস্ট এর আপনার সব সমস্যা, কথা শোনা জরুরি! আপনি এই সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন না বলেই অনেক সাফার করে শেষে পেশাদার সাহায্যর কথা ভাবেন। এই একই কথাগুলো যদি আপনি সবাইকে বলতে পারতেন সবাই আপনাকে বুঝতে পারতো, আপনার সমস্যাটাকে খুব একটা সমস্যা মনে হতো না। যেহেতু একজন পেশাদার সাইকোলজিস্ট এর কাজ আপনার ইমোশনগুলোকে গ্রহণ করা, তাই এই সেবাটাকে ছোট করার কোনো অবকাশ নাই।
এরপর যে পয়েন্টটা বলতে হয় "নন-জার্জমেন্টাল"। আপনাকে বিচার করার জন্য পুরো পৃথিবী আছে, পাড়া প্রতিবেশী,জানা অজানা অনেক মানুষ আছে। যে মানুষ ৭ টা খুন করেও সাইকোলজিস্ট এর কাছে আসবে সেও নিশ্চয় চাই, আমাকে আমার মতো বিচারহীনভাবে কেউ বুঝুক। আগেই বলেছি সাইকোথেরাপি এর একটা বড় অংশ চিন্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষ করে সিবিটি থেরাপিতে৷ যেখানে চলমান চিন্তাটাকে চ্যালেঞ্জ করতে হয়। কিন্তু শুরুতেই যদি আপনাকে আপনার চিন্তাটা ভূল কেউ বলে আপনার তাকে আর ভালো লাগবে কি? আপনি মেনে নিতে পারবেন কিনা? নিশ্চিয় না। তখন মনে হবে সবার মতোন উনিও আপনাকে জার্জমেন্ট/বিচার করলেন। তাই প্রতিটা সাইকোথেরাপি একটা নির্দিষ্ট ফরম্যাট বা স্ট্রাকচারে চলে। যেহেতু পরের কাজ আগে করা যায় না এবং এতে আপনি উপকৃত ও হবেন না। তাই সাইকোথেরাপি একটা লম্বা কিন্তু ইফেক্টিভ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।

২. আপনি তোহ প্রেসক্রিপশন লিখবেন না। তাহলে ফি টা বেশি হয়ে গেল না?
উল্লেখিত বিষয়টি বুঝে থাকলে এইটাও আশা করি বুঝাতে পারছি কি কারণে এই সেবাটা নেওয়া এতো গুরুত্বপূর্ণ। এইখানে অনেক টুলস টেকনিক ব্যবহার করা হয় যা চোখে দেখা যায় না। তাই যেহেতু সাইকোথেরাপি মেডিসিন এর মতো আংশিক বা সম্পূর্ণ দেখা যায় না তাই হয়তো প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয় না। তবে অবশ্যই প্রতি সেশনে কি কি কাজ হয়েছে তা ক্লায়েন্টকে লিখে নিতে বলা হয়। এবং এইখানে মেডিসিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয় কিছু দক্ষতা, টেকনিক ও হোম ওয়ার্ক। প্রতিটা সেশন যেহেতু ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা করে হয়, কাজেই ফি টা সময়, কাজ, অভিজ্ঞতা যাচাইয়ে তার কাছে যা ন্যায্য তাই ধার্য করেন। তাছাড়া এইগুলো অভিজ্ঞতার বাইরের অংশ না। তা না হলে সাইকোথেরাপিস্ট আপনি পথে পথে পাবেন।

চলবে..........

উম্মে সালমা সায়মা
প্রফেশনাল সাইকোলজিস্ট

fans

হয়তো খেয়াল করেছেন, ফোন কানে নিতেই আপনি ঘরের এক কোণ থেকে আরেক কোণে চলে গেছেন। কথোপকথন শেষ হওয়ার পর বুঝতে পারলেন, আপনি বেশ...
02/06/2026

হয়তো খেয়াল করেছেন, ফোন কানে নিতেই আপনি ঘরের এক কোণ থেকে আরেক কোণে চলে গেছেন। কথোপকথন শেষ হওয়ার পর বুঝতে পারলেন, আপনি বেশ কিছুক্ষণ ধরেই হাঁটছিলেন!
আসলে এটি শুধুই একটি অভ্যাস নয়। যখন আমরা কারও সঙ্গে কথা বলি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক একসাথে ভাষা, আবেগ, স্মৃতি এবং মনোযোগ নিয়ে কাজ করে। এই ব্যস্ত মানসিক কার্যকলাপের সঙ্গে শরীরের হালকা নড়াচড়া অনেক সময় স্বাভাবিকভাবেই যুক্ত হয়ে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, "চলাফেরা" চিন্তাকে আরও প্রবাহমান করতে, মনোযোগ ধরে রাখতে এবং কথোপকথনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সাহায্য করতে পারে। তাই কথা বলার সময় মস্তিষ্কের এই ভেতরের গতি শরীরের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়। যার কারণে ফোনে কথা বলতে বলতে হাঁটাহাঁটি করা অস্থিরতার লক্ষণ নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি চিন্তা, মনোযোগ ও শরীরের একটি স্বাভাবিক সমন্বয়।
তাই, আমাদের মন অনেক সময় যেভাবে চিন্তা করে, আর শরীর সেই চিন্তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শুরু করে।

উম্মে সালমা সায়মা
প্রফেশনাল সাইকোলজিস্ট

অনেক সময় আমরা শুধু বলি “খারাপ লাগছে”, “অস্বস্তি হচ্ছে” বা “মনটা ভালো নেই”। কিন্তু একটু থেমে খেয়াল করলে দেখা যায়, এই সাধা...
31/05/2026

অনেক সময় আমরা শুধু বলি “খারাপ লাগছে”, “অস্বস্তি হচ্ছে” বা “মনটা ভালো নেই”। কিন্তু একটু থেমে খেয়াল করলে দেখা যায়, এই সাধারণ খারাপ লাগার ভেতরে লুকিয়ে থাকে নানা ধরনের অনুভূতি: রাগ, ভয়, কষ্ট, হতাশা কিংবা অজানা এক অস্থিরতা।

সমস্যা হয় তখনই, যখন আমরা বুঝতে পারি না ঠিক কী অনুভব করছি। ফলে সেই অস্বস্তিটা আরও ঘনীভূত হয়, মন ও শরীর দুটোই চাপ অনুভব করতে থাকে।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, নিজের অনুভূতিকে চিহ্নিত করে একটি নাম দেওয়াকে বলা হয় “emotion labeling” বা অনুভূতির নামকরণ। যখন আমরা বলতে পারি “আমি ভয় পাচ্ছি”, “আমার কষ্ট লাগছে” বা “আমি হতাশ”। তখন মস্তিষ্কের আবেগপ্রবণ অংশ (amygdala) কিছুটা শান্ত হয় এবং চিন্তাশীল অংশ(prefrontal cortex) বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে আবেগের তীব্রতা কমে এবং আমরা আরও সচেতনভাবে পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানাতে পারি।
অদ্ভুত হলেও সত্যি, শুধু অনুভূতিটাকে একটি সঠিক নাম দেওয়ার মাধ্যমেই ভেতরের চাপ অনেকটা হালকা হয়ে যায়। তখন সেটা আর শুধু অস্পষ্ট “খারাপ লাগা” থাকে না। বরং আমরা বুঝতে পারি কীভাবে সেটাকে সামলাতে হবে।
তাই যখনই মন অস্থির লাগবে, একটু থেমে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, “আমি ঠিক কী অনুভব করছি?”
নিজের অনুভূতিকে চেনা, তাকে স্বীকার করা এবং নাম দেওয়া। এই ছোট ছোট সচেতন চর্চাগুলোই ধীরে ধীরে আমাদের মানসিক স্বচ্ছতা ও স্থিতি গড়ে তোলে।

উম্মে সালমা সায়মা
প্রফেশনাল সাইকোলজিস্ট

কুরবানি একটা কষ্টের মুহূর্ত। অনেকদিন লালন পালন করা খুব আদরের পশুটাকে একটা সময় ছেড়ে দিতে হয়। এই ছেড়ে দেওয়ার কষ্টটা হয়তো খ...
27/05/2026

কুরবানি একটা কষ্টের মুহূর্ত। অনেকদিন লালন পালন করা খুব আদরের পশুটাকে একটা সময় ছেড়ে দিতে হয়। এই ছেড়ে দেওয়ার কষ্টটা হয়তো খুব বেশি ফিল করি আমরা এই মাসে। সাইকোলজি আমাদের প্রতিটা অংশে অংশে, এই যে attachment, তারপর ত্যাগ, কষ্ট, মায়া— সব কিছু এর অন্তর্ভুক্ত।

মানুষ যেটার সাথে আবেগ জড়িয়ে ফেলে, সেটাকে সহজে ছেড়ে দিতে পারে না। কারণ মায়া শুধু অনুভূতি না, এটা এক ধরনের মানসিক বন্ধন। আর সবক্ষেত্রে সেই বন্ধন ছিঁড়ে যাওয়ার অনুভূতি প্রতিটা মানুষকে নাড়া দেয়। হয়তো এ কারণেই কুরবানির শিক্ষা এত গভীর।

এটা শুধু একটি পশু ত্যাগ করার বিষয় না, বরং নিজের ভেতরের এমন কিছু অনুভূতি, আসক্তি,মায়া, মোহ আর অহংকে ছেড়ে দেওয়ার শিক্ষা। যেগুলো আঁকড়ে ধরে রাখতে রাখতে মানুষ নিজেই হয়তো একসময় ভারী হয়ে যায়।
কিছু ত্যাগ মানুষকে খালি করে না, বরং ভেতরটা একটু পরিষ্কার করে, উপলব্ধি করায়, সব আকড়ে ধরে নিজের মতো করে রেখে দেওয়া যায় না।

সবাইকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা 💙

প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর আজই খুঁজে পাওয়া জরুরি নয়। অতিরিক্ত ভাবনা কখনো ভবিষ্যৎ বদলায় না, না আপনার অতীতকে ঠিক করে দিবে। বরং...
24/05/2026

প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর আজই খুঁজে পাওয়া জরুরি নয়। অতিরিক্ত ভাবনা কখনো ভবিষ্যৎ বদলায় না, না আপনার অতীতকে ঠিক করে দিবে। বরং এতে বর্তমানের সুন্দর মুহূর্তগুলো নষ্ট হয়। ওভারথিংকিং এমন এক নীরব যুদ্ধ, যেখানে মানুষ নিজের চিন্তার কাছেই বারবার হেরে যায়।
তাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে, কখনো কখনো নিজেকে শান্ত থাকতে শেখান, মনকে বিশ্রাম দিন, সর্বদা নিজেকে দোষারোপ বা সমালোচনার ভান্ডারে না রেখে, সহানুভূতির জায়গায় দেখুন।

উম্মে সালমা সায়মা
প্রফেশনাল সাইকোলজিস্ট

#ওভারথিংকিং , fans

অনেক সময় মুভি বা গল্পে আমরা দেখি একজন মানুষের ভেতর হুট করে অন্য কেউ ভর করেছে, কিংবা কেউ মনোযোগ পাওয়ার জন্য "নাটক" করছে। ...
18/05/2026

অনেক সময় মুভি বা গল্পে আমরা দেখি একজন মানুষের ভেতর হুট করে অন্য কেউ ভর করেছে, কিংবা কেউ মনোযোগ পাওয়ার জন্য "নাটক" করছে। একটি দেহ, অথচ তার ভেতরে বয়ে চলে এক বহুমাত্রিক জীবনের গল্প (যেমন: সাউথের ‘অপরিচিত’ বা বলিউডের ‘ভুল ভুলাইয়া’ সিনেমা)। তবে সিনেমায় একে যেভাবে কিছুটা ভৌতিক বা ক্ষতিকর হিসেবে দেখানো হয়, বাস্তবে বিষয়টি মোটেও তেমন নয়।
'ডিসোসিয়েটিভ আইডেন্টিটি ডিসঅর্ডার' (DID) কোনো সিনেমা বা গল্পের রোমাঞ্চকর প্লট নয়। এটি মানুষের মনের এক চরম আত্মরক্ষার নীরব লড়াই।

এটি একটি বিরল মানসিক অবস্থা। সহজ কথায় একজন মানুষের ভেতরেই দুই বা তার বেশি আলাদা 'ব্যক্তিত্ব' বা 'সত্তা' তৈরি হওয়া। একে আগে ‘মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ বলা হতো।

কাদের মধ্যে এটা বেশি দেখা যায়?
DID রাতারাতি বা বড় বয়সে হঠাৎ তৈরি হয় না। এর শিকড় লুকিয়ে থাকে শৈশবের গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের মধ্যে (সাধারণত যারা ৯ বছরের নিচে) প্রচণ্ড মানসিক আঘাত, পারিবারিক নির্যাতন বা তীব্র কোনো ট্রমা/অবহেলার মধ্য দিয়ে গেছেন, সারাক্ষণ এক ভীতিময় ও অনিরাপদ পরিবেশে বড় হয়েছেন মূলত তাদের মধ্যেই এটি দেখা যায়। সেই অসহ্য কষ্ট থেকে মনকে বাঁচাতে অবচেতনভাবেই মানুষটির ভেতরে এই আলাদা সত্তাগুলো তৈরি হয়। "Dissociation" বা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। শিশুটি তখন বিশ্বাস করতে শুরু করে, "এই কষ্টটা আমার সাথে হচ্ছে না, অন্য কারো সাথে হচ্ছে।" দীর্ঘদিন ধরে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে মনের সেই বিচ্ছিন্ন অংশগুলো আলাদা আলাদা Identity State বা স্বতন্ত্র সত্তার রূপ নেয়।

প্রধান লক্ষণগুলো কী কী?

• স্মৃতি বিভ্রাট (Amnesia): সাধারণ ভুলে যাওয়া নয়, বরং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বড় অংশ হঠাৎ ভুলে যাওয়া।

• ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন (Switching Identities): মনে হতে পারে শরীরের ভেতর আলাদা আলাদা মানুষ বাস করছে, যাদের কথা বলার ধরন বা আচরণ ভিন্ন।

• নিজের মাঝেই অচেনা অনুভূতি: মাঝেমধ্যে মনে হওয়া যে নিজের হাত-পা বা শরীর নিজের নয় (Depersonalization)।

• আশেপাশের জগতকে স্বপ্ন মনে হওয়া: মনে হতে পারে চারপাশের সবকিছু নকল বা ঝাপসা (Derealization)।

• ভেতরের কণ্ঠস্বর: নিজের মনের ভেতর অন্য কারো কথা বা কথোপকথন শুনতে পাওয়া।

DID-এ আক্রান্ত মানুষগুলো কোনো ভুতুড়ে কাণ্ড বা নাটক করছেন না। শৈশবের যে ট্রমা একসময় তাদের মনকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়েছিল, সেই ভাঙা টুকরোগুলোকে নিয়েই তারা প্রতিদিন বেঁচে থাকার এক কঠিন লড়াই লড়ছেন।
তাদেরকে উপহাস বা ভয় না করে আমাদের প্রয়োজন সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া। সঠিক সাইকোথেরাপির মাধ্যমে এই ভাঙা সত্তাগুলোকে আবার একত্রিত করা এবং একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।

আসুন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কুসংস্কার দূর করি এবং সচেতনতা ছড়াই। 💚

শুরুটা হয় সুক্ষ্মভাবে, অনেক কথা জমিয়ে রাখা দিয়ে। আমরা হয়তো ভাবি ঝগড়া না হওয়া মানেই সব ঠিক আছে, কিন্তু আসলে নিস্তব্ধতা হচ...
13/05/2026

শুরুটা হয় সুক্ষ্মভাবে, অনেক কথা জমিয়ে রাখা দিয়ে। আমরা হয়তো ভাবি ঝগড়া না হওয়া মানেই সব ঠিক আছে, কিন্তু আসলে নিস্তব্ধতা হচ্ছে সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ঘাতক। মাঝে মাঝে দূরত্ব তৈরি হতে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির প্রয়োজন হয় না, কেবল সময়ের অবহেলাই যথেষ্ট।

যেখানে একসময় তুচ্ছ বিষয় নিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে যেত, সেখানে আজ এক আকাশ সমান নিঃশব্দতা। প্রতিদিনের সেই সাধারণ খোঁজখবরগুলো একসময় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে, অভ্যাসের আড়ালে বদলে যায় মনের মানচিত্র।

আমরা কেউ কাউকে বিদায় বলিনি, কোনো ঝগড়া করে দরজা টেনে বেরিয়ে যাইনি। অথচ আজ আয়নার সামনে দাঁড়ালে বুঝতে পারি মানুষটা পাশে আছে ঠিকই, কিন্তু তার মনের আঙিনায় আমার আর যাতায়াত নেই। সময়ের স্রোতে দুজন মানুষ একে অপরের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু থেকে ক্রমশ পরিধির বাইরে চলে যায়।
ঝগড়া হলে অন্তত একটা কারণ থাকে, অভিযোগ করার সুযোগ থাকে, মিটমাট করার একটা শেষ চেষ্টা থাকে। কিন্তু এই যে নিঃশব্দে সরে যাওয়া–এটার কোনো ব্যাখ্যা নেই।

সব সম্পর্কের শেষটা চিৎকার করে হয় না। কিছু সম্পর্ক শেষ হয় অভ্যাসের পরিবর্তনে। আমরা এখনো একে অপরকে চিনি, কিন্তু আমরা আর একে অপরের 'প্রয়োজন' নই। এই ব্যাখ্যাতীত দূরত্বটুকু বড় যন্ত্রণার, কারণ এখানে হারানোর শোক আছে, কিন্তু অভিযোগ করার মতো কোনো শক্ত কারণ নেই।

শেষমেষ সম্পর্কটা হয়তো টিকে আছে কাগজে-কলমে বা সামাজিকতায়। একই ছাদের নিচে থেকেও মনে হয় মানুষটা কয়েক আলোকবর্ষ দূরে। আমরা একই স্মৃতি হাতড়াই, একই নাম ধরে ডাকি, কিন্তু সেই পুরনো ‘কানেকশন’টা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ প্রাণের সেই স্পন্দনটা হারিয়ে গেছে সেই কবেই।

পরিশেষে বলতে হয় দাম্পত্য জীবনের ছোট ছোট ঝামেলা গুলো বড় আকারে রুপান্তরিত হওয়ার আগেই আমাদের কোনো পেশাদার সাইকোলজিস্ট থেকে দাম্পত্য কাউন্সেলিং নিয়ে সমস্যার মাত্রা কমিয়ে আনা সম্পর্কের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

উম্মে সালমা সায়মা
প্রফেশনাল সাইকোলজিস্ট

fans

"শক্ত হও", "কান্নাকাটি করো না"-ছোটবেলা থেকেই আমাদের এভাবে আবেগ চেপে রাখতে শেখানো হয়। আমাদের সমাজে মনের কষ্ট শেয়ার করাটা ...
07/05/2026

"শক্ত হও", "কান্নাকাটি করো না"-ছোটবেলা থেকেই আমাদের এভাবে আবেগ চেপে রাখতে শেখানো হয়। আমাদের সমাজে মনের কষ্ট শেয়ার করাটা অনেকটা বিলাসিতা বা দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু মন যখন আর সইতে পারে না, তখন সে শরীরকে ব্যবহার করে তার প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে। একেই আমরা বলি সোমাটাইজেশন।

আপনি হয়তো বছরের পর বছর গ্যাসের ওষুধ বা পেইন কিলার খেয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু সাময়িক স্বস্তি মিললেও রোগ যেন কিছুতেই সারছে না। কারণ, আগুনের শিখাটা জ্বলছে মনে, আর আপনি পানি ঢালছেন শরীরে। ল্যাব টেস্ট বা রক্ত পরীক্ষায় আপনার এই কষ্ট ধরা না পড়লেও, এই ব্যথাগুলো কিন্তু মোটেও কাল্পনিক নয়। আপনার অনুভূতিগুলো সত্যি, আপনার কষ্টটাও সত্যি।
যখন আমরা আবেগগুলো শব্দ দিয়ে প্রকাশ করতে পারি না, তখন আমাদের স্নায়ুতন্ত্র শরীরকে সবসময় এক ধরণের অস্থিরতা বা 'ফাইট অর ফ্লাইট' মোডে রাখে। শরীর তখন আপনার হয়ে বিদ্রোহ শুরু করে, যাতে অন্তত শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে আপনি একটু বিশ্রাম পান বা নিজের দিকে একটু নজর দেন।

মনে রাখবেন, মনের জট না খুললে শরীরের গিটগুলো কখনো ঢিলা হবে না। সুস্থ হওয়ার প্রথম ধাপ হলো নিজের আবেগকে অস্বীকার না করে তা স্বীকার করা এবং প্রয়োজনবোধে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।

উম্মে সালমা সায়মা
প্রফেশনাল সাইকোলজিস্ট

অন্যের হাসি জুড়াতে গিয়ে, নিজেকে হারাই অনুভবে।নিজের যত্ন নিন এবার, তবেই জীবন সার্থক হবে।
01/05/2026

অন্যের হাসি জুড়াতে গিয়ে, নিজেকে হারাই অনুভবে।
নিজের যত্ন নিন এবার, তবেই জীবন সার্থক হবে।

27/04/2026

বছর গুনে বড় হওয়ার ভাবনাটা সুন্দর শোনালেও, জীবনের অভিজ্ঞতা প্রায়ই এর উল্টো কথা বলে। অনেকে মনে করেন বয়সই মানুষকে পরিণত করে, অথচ জীবন বারবার দেখিয়েছে সংখ্যা আর উপলব্ধি এক জিনিস নয়। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টালেই মানুষ পরিণত হয় না, পরিপক্কতা আসে তখনই, যখন জীবন মানুষকে থামিয়ে দেয়, প্রশ্ন করে, ভেঙে দেয় আর তারপর আবার দাঁড়াতে শেখায়।
তাই কেউ কেউ দেখবেন সারাজীবন নিরাপদ গণ্ডির ভেতর থেকে বের হয় না। আবেগে অপরিণত, দায়িত্বে অনীহ, বাস্তবতায় অনভ্যস্ত এরা। কারণ তারা কখনো সত্যিকারের ক্ষতির মুখোমুখি হয়নি, কখনো নিজেদের ভুলের ভার বইতে শেখেনি। জীবন তাদের ছাড় দিয়েছে আর সেই ছাড়ই তাদের বড় হতে দেয়নি।
আবার এমন মানুষও আছে, যারা অল্পতেই থেমে যেতে বাধ্য হয়েছে। জীবন তাদের সহজ রাস্তা দেয়নি। হারানো, অপূর্ণতা আর একাকীত্বের ভেতর দিয়ে তারা শিখেছে চুপ করে শক্ত হতে। তারা জানে সব কথা বলা যায় না, সব কষ্ট দেখানো যায় না, আর সবাই সবটা বোঝে না। পরিণত মানুষ তাই হঠাৎ রেগে যায় না, অপ্রয়োজনীয় নাটকেও জড়ায় না।
কষ্ট মানুষকে কঠোর করে না, কষ্ট মানুষকে বাস্তববাদী করে। তখন মানুষ সম্পর্ক দেখে অনুভূতি দিয়ে নয়, আচরণ দিয়ে। কে পাশে থাকবে আর কে থাকবে না এটা তখন আর প্রশ্ন হয় না, বরং এইটাই উত্তর।
পরিপক্কতার একটা লক্ষণ হলো অপ্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া কমে যাওয়া। ছোটখাটো কথায় আর মন খারাপ হয় না। অকারণ ব্যাখ্যা দেওয়ার তাড়নাও থাকে না। কারণ মানুষ তখন বুঝে যায়, সব জায়গায় নিজের প্রমাণ দেওয়া জরুরি নয়।
আবার, ম্যাচিউরিটি মানে সব বোঝা একা টেনে নেওয়া নয়। কোথায় থামতে হবে, কখন ছেড়ে দিতে হবে তা উপলব্ধি করতে পারা, কখনো নীরব থাকা, কখনো সরে যাওয়া। আর এই সিদ্ধান্তগুলোই মানুষকে বড় করে তোলে।
দুঃখ মানুষকে নিষ্ঠুর করে না বরং দুঃখ মানুষকে স্পষ্ট করে। পার্থক্য সব চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। হয়তো তখন সম্পর্ক কমে যায়, কিন্তু সম্পর্কের মান বাড়ে। এই বোঝাপড়া জন্মগত নয়। এটা আসে ভরসা হারানোর পর, ভাঙার পর, একা হয়ে যাওয়ার পর, যখন কেউ বুঝে ফেলে সব প্রশ্নের উত্তর নেই, সব সম্পর্ক টেকে না, আর সব চেষ্টার ফল পাওয়া যায় না।
জীবন মানুষকে তৈরি করে ধীরে, নির্দয়ভাবে, কিন্তু গভীর যত্নে। আর যারা এই শিক্ষাকে এড়িয়ে যায় না বরং গ্রহণ করে তারাই সত্যিকার অর্থে পরিণত মানুষ হয়ে উঠতে পারে।

উম্মে সালমা সায়মা
প্রফেশনাল সাইকোলজিস্ট

Address

Nasirabad Housing Society, Road No 4, Building No 07, Sholoshahar, Panchlaish
Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Psychologist Umme Salma Saima posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share