01/06/2026
📢 পেশাজীবী অঙ্গনে দলীয় দাসত্ব: একটি আত্মোপলব্ধি ও শৃঙ্খল মুক্তির আহ্বান ✊🔥
প্রিয় দেশবাসী,সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী,
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আজ অত্যন্ত ভারী মন নিয়ে, কিন্তু এক গভীর আত্মোপলব্ধি থেকে কিছু কথা বলতে এসেছি। এই কথাগুলো হয়তো আমাদের সবার ভেতরের সুপ্ত বিবেককে কিছুটা হলেও নাড়া দেবে।
স্বাধীনতার পর থেকে ঠিক কবে থেকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল, তা আজ সুনির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কিন্তু একটি সত্য আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট—আমাদের প্রতিটি পেশাজীবী অঙ্গনে এক ভয়াবহ বিষবৃক্ষ ডালপালা মেলেছে।
🩺 ডাক্তার, 🏗️ ইঞ্জিনিয়ার, 🎓 বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ⚖️ আইনজীবী, 📰 সাংবাদিক, 🌾 কৃষিবিদ, 🦷 ডেন্টিস্ট, 🩺 নার্স, 🔬 মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, 💼 ব্যাংকার কিংবা 🏛️ আমলা—কেউই আজ এর করাল গ্রাস থেকে মুক্ত নন। আর সেই বিষবৃক্ষটির নাম হলো: "পেশাজীবী সংগঠনগুলোতে সরাসরি দলীয় রাজনীতির অনুপ্রবেশ ও নির্লজ্জ লেজুড়বৃত্তি।"
🏛️ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব
আমরা অত্যন্ত ক্ষোভ এবং বেদনার সাথে লক্ষ্য করছি যে, স্ব-স্ব পেশার মানোন্নয়ন ও অধিকার আদায়ের জন্য যে জাতীয় সংগঠনগুলো গড়ে উঠেছিল, সেগুলো আজ দলীয় কার্যালয়ের বর্ধিত অংশে পরিণত হয়েছে:
🩺 বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (BMA):যেখানে চিকিৎসকদের পেশাগত উৎকর্ষ আর চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা, সেখানে আজ প্রাধান্য পায় বদলি, পদায়ন আর দলীয় আধিপত্যের রাজনীতি।
⚖️আইনজীবী সমিতি ও বার কাউন্সিল: আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের যে শেষ আশ্রয়স্থল, সেখানে মেধার চেয়ে বড় পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কে কোন প্যানেলের অনুসারী।
🏗️ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (IEB) ও কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট: দেশের অবকাঠামোগত ও কৃষি বিপ্লবের কারিগরদের এই মেধাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো আজ দলীয় ঠিকাদারি ও তদবিরের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
📰প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন:
গনতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় গণমাধ্যমকে। কিন্তু আজ সাংবাদিকদের এই জাতীয় সংগঠনগুলো স্পষ্টত দ্বিধাবিভক্ত, যেখানে সত্য প্রকাশের চেয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নই যেন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
📌এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণভাবে 'দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা' আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এগুলো কোনো দলের অঙ্গসংগঠন নয়, এগুলো পুরো জাতির সম্পদ।>
💨 বিষবাষ্প ও নীরব বিপর্যয়: লেজুড়বৃত্তির নির্মম বাস্তব চিত্র
এই লেজুড়বৃত্তির বিষবাষ্প যখনই কোনো পেশাজীবী সংগঠনে ছড়িয়েছে, তখনই সেখানে শুরু হয়েছে এক নীরব বিপর্যয়। 📉
🔺দৌরাত্ম্য ও আধিপত্য:যখন যে দলের সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেই দলের অনুগত পেশাজীবীদের দৌরাত্ম্য ও আধিপত্য বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।
🚫পেশাগত নৈতিকতার অবক্ষয়: অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, অনেকেই সেই দলীয় তকমাকে পুঁজি করে নিজেদের মূল দায়িত্ব ও অফিস-কাজকর্ম ঠিকমতো করেননি; বরং পোস্টিং, প্রমোশন, তদবির আর নিয়োগ বাণিজ্যকে পেশার চেয়ে বড় করে দেখেছেন।
💥সেবার মান ধস: এর অবধারিত ফল হিসেবে স্ব-স্ব সেক্টরে সেবার মান আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, ব্যাহত হয়েছে চরম পেশাগত মানোন্নয়ন। যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণেরা অবহেলিত হয়েছেন, আর অযোগ্য ব্যক্তিরা দলীয় ছত্রছায়ায় পেয়েছেন অযাচিত সব সুবিধা।
⚔️ সহকর্মী এখন শত্রু: এর চেয়ে বড় সামাজিক বিপর্যয় আর কী হতে পারে যে, আজ এক পেশাজীবী আরেক পেশাজীবীর কাছে পরম শ্রদ্ধেয় সহকর্মী নন, বরং পরিণত হয়েছেন দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী বা পরম শত্রুতে!
👥সাধারণ মানুষের ভোগান্তি: আর এই বিষাক্ত পরিবেশের চূড়ান্ত ভুক্তভোগী হয়েছে সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষ। দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষকে পদে পদে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে, যার ফলে আমাদের সামগ্রিক পেশাগত মান-সম্মান আজ ধূলিসাৎ।
👤 একটি ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি ও অনুতাপ🙏
আমি কোনো আকাশ থেকে পড়া মানুষ নই। দুর্ভাগ্যবশত, আমিও একসময় চিকিৎসকদের একটি দলীয় সহযোগী সংগঠনের জেলা শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি। কাছ থেকে দেখেছি এই ব্যবস্থার ভেতরের কদর্য রূপ।
আমার বিবেক সাক্ষী, আমি আমার সরকারি দায়িত্ব, শিক্ষকতা বা ব্যক্তিগত চেম্বারে কখনোই কোনো রোগীকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করিনি। কিন্তু আজ পেছনে তাকালে মনে হয়,সেই দলীয় পরিচয়টি কোনো না কোনোভাবে আমার পেশাগত মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছিল।আজ আমি নিজের সেই অতীতের জন্য গভীর অনুতাপ বোধ করি। আর এই অনুতাপ থেকেই আমার আজকের এই উপলব্ধি—আমাদের এই বিষাক্ত বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতেই হবে। এখনই সময়। ⏳
💔 সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, জাতীয় নির্বাচনের একটু টিকিটের আশায় কিংবা দলীয় শীর্ষ নেতাদের সুনজরে থাকার জন্য, এই পেশাজীবী নেতারা স্বজাতির দাবি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থকে অনায়াসে জলাঞ্জলি দেন। দলীয় কর্মসূচিতে এই উচ্চশিক্ষিত মানুষদের যখন সাধারণ লাঠিয়াল বাহিনীর মতো ব্যবহার করা হয়, তখন তা কেবল তাঁদের ব্যক্তিগত পরাজয় নয়,'পুরো জাতির বিবেকের অবমাননা।'
💡 Political Awareness বনাম দলীয় দাসত্ব
🌍 প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল কিংবা উন্নত বিশ্বের দিকে তাকান—কোথাও পেশাজীবী সংগঠনগুলো এভাবে সরাসরি কোনো political দলের লেজুড়বৃত্তির শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয় না। উন্নত বিশ্বে একে ‘পেশাগত আত্মহত্যা’ ছাড়া আর কিছু ভাবা হয় না।
ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো মানুষ যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারণ করতে পারেন, ভোট দিতে পারেন—সেটি তাঁর নাগরিক অধিকার। কিন্তু 'রাজনৈতিক সচেতনতা আর দলীয় দাসত্ব এক জিনিস নয়।'
🎯 পেশাগত জীবনে প্রবেশ করার পর আমাদের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত—আমরা জনসেবক, আমরা জাতির মেধাবী সন্তানদের প্রতিনিধি। আমাদের কর্মক্ষেত্র হবে দলমত-নিরপেক্ষ, ন্যায়নিষ্ঠ ও মানবিক।
যদি এখনই আমরা এই আত্মঘাতী পথ থেকে ফিরে না আসি, তবে প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বে জাতি হিসেবে আমরা ছিটকে পড়ব। আমাদের সন্তানরা এমন এক সমাজ পাবে, যেখানে মেধার কোনো মূল্য থাকবে না, থাকবে শুধু তোষামোদের রাজনীতি।
🙏 শ্রদ্ধাবনত কৃতজ্ঞতা
আমার এই আত্মোপলব্ধির পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, লেখাটি শেষ করার আগে তাঁকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করতে চাই। তিনি নোয়াখালীর বিশিষ্ট সিনিয়র চিকিৎসক ও প্রথিতযশা হার্ট স্পেশালিস্ট ডা. করিমুল হুদা সিরাজী ভাই। 🩺❤️
তাঁর নির্লোভ পেশাদারিত্ব, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মানবসেবার প্রতি অকৃত্রিম নিষ্ঠা এবং আমার সাথে বিভিন্ন আলাপচারিতায় তিনি যে দর্শনের আলো দেখিয়েছেন, সেটাই আমার এই লেখার মূল প্রেরণা।
🔥 আসুন, শপথ নিই
আসুন, আমরা যার যার অবস্থান থেকে পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে দলীয়করণের হাত থেকে মুক্ত করার লড়াইয়ে শামিল হই। পেশায় ফিরিয়ে আনি মর্যাদা, সেবায় ফিরিয়ে আনি মানবিকতা। মেধা আর যোগ্যতার ভিত্তিতে গড়ে তুলি একটি বৈষম্যহীন, আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ। 🇧🇩
✊✊পেশাজীবীদের দলীয় দাসত্ব নিপাত যাক, মেধা ও পেশাদারিত্বের জয় হোক।
✌️✨
বিনীত নিবেদক
ডাঃ ফজলে এলাহী খাঁন
এমবিবিএস,বিসিএস(স্বাস্থ্য)
এমডি(নেফ্রোলজি)
সহযোগী অধ্যাপক,নেফ্রোলজি।
সংযুক্তঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর,মহাখালী,ঢাকা।