15/08/2026
"ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং" বুঝে/ না বুঝে অনেকেই করে থাকেন ওজন কমানোর জন্য, কিন্তু কাঙ্খিত ফলাফল পান না।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কিভাবে করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে সেটাই আজকের আলোচ্য বিষয় >
প্রথম কাজ হলো—আপনার জন্য কোন সময়টা ফাস্টিং আর কোন সময়টা ইটিং উইন্ডো হবে, সেটা খুঁজে বের করা।
ধরুন, আপনি আজ থেকে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করলেন। কিন্তু পরদিন অফিসে/কাজে গিয়ে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন।
এটা কি হতে পারে?
অবশ্যই পারে।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করলে আপনার fasting window এবং eating window আপনাকেই ঠিক করতে হবে। অন্য কেউ আপনার হয়ে এই সময়সূচি ঠিক করে দিতে পারবে না। কারণ আপনার জীবনযাপন, কাজের সময়, ঘুম এবং খাবারের অভ্যাস অন্য কারও মতো নয়।
প্রথমে একটা বিষয় জানা দরকার—ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের একাধিক পদ্ধতি আছে:
14:10 → ১৪ ঘণ্টা fasting + ১০ ঘণ্টা eating
15:9 → ১৫ ঘণ্টা fasting + ৯ ঘণ্টা eating
16:8 → ১৬ ঘণ্টা fasting + ৮ ঘণ্টা eating
18:6 → ১৮ ঘণ্টা fasting + ৬ ঘণ্টা eating
এখন আসি, কীভাবে শুরু করবেন।
♦ Hydration — পানিশূন্য হওয়া যাবে না। ফাস্টিং মানেই পানি বন্ধ করে দেওয়া নয়।
Fasting period-সহ পুরো দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া, বেশি ঘাম, শারীরিক পরিশ্রম বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে hydration-এর দিকে বেশি নজর দিতে হবে।
♦ Electrolyte balance
সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামসহ শরীরের electrolyte balance গুরুত্বপূর্ণ।
তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—সবার ক্ষেত্রে fasting-এর সময় আলাদা করে বেশি electrolyte বা mineral supplement নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
অতিরিক্ত sodium বা potassium নিজের ইচ্ছায় নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে কিডনি, হার্ট বা রক্তচাপের সমস্যা থাকলে।
তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করবেন।
♦ Macronutrients ও মোট ক্যালরি -
আপনার লক্ষ্য যদি weight loss হয়, তাহলে মোট calorie intake গুরুত্বপূর্ণ। আবার অনেকের ক্ষেত্রে calorie deficit না করেও নির্দিষ্ট eating pattern অনুসরণ করার অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
তাই আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী calorie ও protein requirement ঠিক করা উচিত।
♦ Meal distribution
শুধু দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেই intermittent fasting সফল হবে না।
Eating window-এর মধ্যে খাবারগুলো এমনভাবে ভাগ করতে হবে, যাতে আপনার দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় energy ও protein পাওয়া যায়।
একসাথে এত বেশি খাবেন না যে fasting ভাঙার পরই পেট ভার, অস্বস্তি বা ঘুমঘুম ভাব শুরু হয়ে যায়।
♦ Fat-এর quality
আপনি কী ধরনের fat খাচ্ছেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু fasting করলেই খাবারের quality অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় না। Saturated fat কমিয়ে unsaturated fat—বিশেষ করে mono- ও polyunsaturated fat—এর ভালো উৎস বেছে নেওয়াই সাধারণভাবে বেশি স্বাস্থ্যকর।
যেমন—মাছ, বাদাম, বীজ এবং উদ্ভিজ্জ তেলের পরিমিত ব্যবহার।
তাই শুধু “কত ঘণ্টা না খেয়ে থাকছি” সেটা নয়—“eating window-তে কী খাচ্ছি” সেটাও equally important।
সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা—
Intermittent fasting সবার জন্য এক নিয়মে কাজ করে না।
যাদের insulin বা অন্য glucose-lowering medication লাগে, গর্ভবতী/স্তন্যদানকারী নারী, কিডনি বা হার্টের সমস্যা আছে, eating disorder-এর ইতিহাস আছে, অথবা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন—তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া intermittent fasting শুরু করবেন না।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং আপনার জন্য উপকারী হতে পারে—যদি সেটা আপনার জীবনযাপন, পুষ্টির চাহিদা এবং স্বাস্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়।
তাই অন্যের 16:8 দেখে নিজের জন্যও 16:8 শুরু করার আগে একটা প্রশ্ন করুন—
“এই fasting schedule কি সত্যিই আমার জীবনযাপনের সঙ্গে মানানসই হবে?”
সঠিক উত্তরটা সেখান থেকেই শুরু।
✍️ ডা. সৌমেন চক্রবর্তী
#ওজনকমানো #ইন্টারমিটেন্টফাস্টিং