27/09/2026
রুবিনার বয়স তেইশ। বিয়ের আগে সে ঘুমাইত তার ছোট বোনের সাথে, এক খাটে। রাতে দুই বোন ফিসফিস কইরা গল্প করত, খুনসুটি করতো আর মা পাশের ঘর থিকা ধমক দিতেন, ঘুমা এইবার।
বিয়ের পর রুবিনা ঢাকায় আসল। দুই কামরার ফ্ল্যাট, পাঁচতলার উপরে। প্রথম রাতে তার ঘুম আসে নাই। কারণ ঘরটা এত চুপচাপ ছিল যে তার কানে লাগতেসিল। বাচ্চাটা হইল দুই বছর পর। সিজার। পেট কাটা। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর বাড়িভর্তি মানুষ। মিষ্টির প্যাকেট, নতুন কাঁথা, ছবি তোলা। সবাই একটা কথাই জিজ্ঞাসা করে। বাচ্চা দুধ খাইসে? বাচ্চা ঘুমাইসে? বাচ্চার ওজন কত?
রুবিনা খাটের এক কোণায় বইসা থাকত। সেলাইটা তখনো শুকায় নাই। উঠতে গেলে পেটে টান লাগত। কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করে নাই, তুমি কেমন আছো। পনেরো দিনের মাথায় সবাই যে যার বাড়ি চইলা গেল। স্বামী অফিসে ফিরল। শাশুড়ি গেলেন গ্রামে, ধানের সময় বইলা। রুবিনার মাও ফির্যা গেলেন বাসায়।
আর ওই ফ্ল্যাটটা আবার চুপচাপ হইয়া গেল। সেইদিন রাতে বাচ্চাটা ঘুমানোর পর রুবিনা কাঁদতে শুরু করল। কেন কাঁদতেসে সে নিজেও জানে না। রুবিনা ভয় পাইলো। ক্যান কানতেছে সে? কান্নার তো কথা না।কারণ তার তো সব আছে। বাচ্চাটা সুস্থ, স্বামী ভালো, আদর করে, ভালোবাসে, তার তো কোন অভাব নাই।
তাইলে তার কী হইল?
সকালে সে মারে ফোন দিসিল। বলসিল, আম্মা আমার কেমন জানি লাগে। আম্মা বললেন, এত ঢং কিসের। মা হইসো, বড় হইসো, তুমি তো ছোট নাই। রুবিনা আর কাউকে বলে নাই।
রুবিনার শরীরের ভিতরে কী ঘটসে, ওইটা বলার আগে একটা জিনিস বুঝায়া বলি। নাহলে পুরা ব্যাপারটা বুঝতে পারবো না আমরা।
আমাদের শরীর সারাক্ষণ একটা কাজ কইরা যাইতেসে। শরীরের ভিতরের অবস্থাটা একই রাখা। ধরেন শরীরের তাপমাত্রা। স্বাভাবিক প্রায় সাড়ে ছত্রিশ ডিগ্রি। এখন ভাবেন, আপনি শীতের ভোরে পঞ্চগড়ে দাঁড়ায়া আছেন, বাইরে পাঁচ ডিগ্রি। আর তিন মাস পরে চৈত্রের দুপুরে রাজশাহীতে, বাইরে চল্লিশ। বাইরে পঁয়ত্রিশ ডিগ্রির তফাত। আর আপনার ভিতরে? ওই একই সাড়ে ছত্রিশ ডিগ্রি। কীভাবে? শীতে আপনার শরীর কাঁপে, লোম দাঁড়ায়, রক্তনালি চিকন হইয়া ভিতরের তাপটা আটকায়। আর গরমে ঘাম দেয়, রক্তনালি চওড়া হয়। ভিতরের তাপটা কমায়ে দেয়। মানে ভিতরের তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্য আপনার শরীর বাইরে অনবরত কাজ কইরা যাইতেসে। আর আপনি টেরও পান না।
আরেকটা উদাহরণ দেই। আপনি এক প্লেট ভাত খাইলেন। রক্তে চিনি বাড়ল। সাথে সাথে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন ছাড়ল, আর চিনিটা নামায়া আনল। আর আপনি যদি সারাদিন কিছুই না খান? তখন লিভার তার জমানো চিনি ছাড়া শুরু করে, যেন রক্তের চিনিটা নিচে নাইমা না যায়। মানে খাইলেও রক্তের চিনি ঠিক থাকে, না খাইলেও থাকে। আর যেদিন এই ব্যবস্থাটা ভাইঙা পড়ে, সেইদিন ওইটার নাম হয় ডায়াবেটিস। ডাক্তারি ভাষায় এই ব্যবস্থাটার একটা নাম আছে, হোমিওস্ট্যাসিস। মানে ভিতরের ভারসাম্য ধইরা রাখা। আর আমি এইটাকে অন্য নামে ডাকি। বিধাতার অপার মহিমা।
কারণ এইটা একটা না, হাজার হাজার হিসাব একসাথে। তাপ, পানি, লবণ, চিনি, রক্তের চাপ, রক্তের অম্লত্ব, অক্সিজেন। প্রতিটার একটা নির্দিষ্ট মাত্রা আছে, আর প্রতিটা মাত্রা একটু এদিক ওদিক হইলেই আমরা বাইচ্যাই থাকবো না। আর আপনি সারা জীবন ভাত খান, ঘুমান, ঝগড়া করেন, দৌড়ান, আর ভিতরের ওই হাজারটা কাঁটা ঠিক জায়গায় দাঁড়ায়া থাকে। আপনি কিছুই করেন না। কেউ ওইটার খবরও রাখে না।
মস্তিষ্কের বেলায় এই হিসাবটা আরও কড়া। মস্তিষ্ক শরীরের সবচেয়ে হিসাবি অঙ্গ, আর ওইটা রাসায়নিকের সামান্য বদলেও সাড়া দেয়। এইবার এই কথাটা মাথায় রাইখা রুবিনার শরীরটার দিকে তাকান।
নয় মাস ধইরা তার শরীরে দুইটা হরমোন বাড়তেসিল। ইস্ট্রোজেন আর প্রোজেস্টেরন। এই দুইটা হরমোন অবশ্য সব সময়ই থাকে। সাধারণ সময়ে ওইগুলা বানায় ডিম্বাশয়, আর মাসিকের চক্রের সাথে সাথে ওইগুলা বাড়ে কমে। কিন্তু গর্ভাবস্থায় জিনিসটা আলাদা। তখন ওইগুলা বানায় গর্ভফুল, আর মাত্রাটা পৌঁছায় আকাশে এককেরে চাঙ্গে উঠে যা সাধারণ সময়ে হয়ই না। আর ওইটা নয় মাস ধইরা বাড়তেই থাকে। আর প্রোজেস্টেরন থেকে শরীর আরেকটা জিনিস বানায়, যেইটা সোজা মস্তিষ্কে গিয়া কাজ করে। ওইটার কাজ একটাই। মনটা শান্ত রাখা।
নয় মাস ধইরা ওইটা বাড়তে থাকল। আর রুবিনার মস্তিষ্ক ওই নতুন অবস্থাটাতেই নিজেকে মানায়া নিল। এইটাও ওই হোমিওস্ট্যাসিসেরই কাজ। শরীর নতুন অবস্থাটায় নিজের হিসাব নতুন কইরা বসাইল।
এখন প্রশ্ন হইল, বিধাতা তারে এই মাইয়াদের গর্ভাবস্থায় মাথাটা শান্ত রাখার ব্যবস্থাটা দিলেন কেন? দুইটা কারণে। আর দুইটাই বাচ্চাটার জন্য।
প্রথম কারণটা শুনলে অবাক হইবেন। পেটের ভিতরের বাচ্চাটার অর্ধেক জিন কিন্তু বাবার। মানে মায়ের শরীরের হিসাবে ওইটা পুরাপুরি নিজের জিনিস না। আর শরীরের পাহারাদারের কাজই তো এইটা। নিজের না এমন কিছু পাইলে আক্রমণ করা। তারে মাইর্যা ফেলা। তাইলে নয় মাস ধইরা মায়ের শরীর ওই বাচ্চাটাকে আক্রমণ করে না কেন? কারণ গর্ভাবস্থায় ওই পাহারাদারটাকে ঘুমাইয়া শান্ত কইরা রাখা হয় উচু মাত্রার প্রজেস্টোরন হরমোন দিয়া। যেন সে নিজের ঘরের মানুষকে শত্রু না ভাবে।
আর দ্বিতীয় কারণও আছে। গর্ভাবস্থার নয়টা মাস শরীরের জন্য টানা একটা চাপ। পেট ভারী, বমি, ঘুম নাই, আর শেষে প্রসবের ওই ব্যথা আর রক্ত।
শরীরের ভিতরের সতর্কব্যবস্থাটা যদি এই পুরা সময়টা জুড়ে পুরা মাত্রায় সক্রিয় থাকত, তাইলে মহিলাটা নয় মাস ধইরা একটা আতঙ্কের ভিতরে থাকতেন। আর ওই লাগাতার আতঙ্ক নিজেই পেটের বাচ্চাটা গর্ভপাত কইর্যা দিতো। তাই ওই সংকেতটা নরম কইরা রাখতে হইত।
আর তার চাইতেও বড় কারণটা প্রসবের পরে। ওই রক্ত, ব্যথা আর ক্লান্তির ভিতরে দাঁড়ায়া একটা মানুষকে একটা নবজাতকের দিকে টান অনুভব করতে হয়। আর আতঙ্কের ভিতরে থাকলে ওই টানটা তৈরি হয় না। মানে ওই শান্ত রাখাটা মায়ের আরামের জন্য দেওয়া হয় নাই। ওইটা দেওয়া হইসিল বাচ্চাটাকে গ্রহণ করানোর জন্য।
আর তারপর প্রসব হইল। আর প্রসবের সাথে সাথে গর্ভফুলটা শরীর থেকে ঝট কইর্যা বাইর হইয়া গেল। মানে হরমোন তৈরির কারখানাটাই চইলা গেল। হঠাৎ কইর্যা। তাই হরমোনগুলা ধীরে ধীরে কমল না। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ধপ কইরা পইড়া গেল।
আর ওই মস্তিষ্কটা, যেইটা নয় মাস ধইরা ওই শান্ত রাখার জিনিসটার উপর চলতেসিল, ওইটা হঠাৎ কইরা ওইটা এক্কেরে নাই হইয়া গেলো। শরীর সারা জীবন ধইরা যেই কাজটা করে, মানে ভিতরের অবস্থাটা একই রাখা, ঠিক ওই কাজটাই এইখানে ভাইঙা পড়লো।
তাইলে বিধাতা এইটা ধীরে ধীরে কমাইলেন না কেন? এত নিখুঁত যে ব্যবস্থা, ওইখানে এইটা পারলেন না? পারতেন না। কারণ ওই পতনটাই লাগত। বিধাতার দুনিয়ায় কোন কিছুই অকারণে হয়না।
প্রোজেস্টেরন বেশি থাকা অবস্থায় স্তনে দুধ তৈরির কাজটা আটকানো থাকে। ওইটার মাত্রা কইম্যা গেলেই মায়ের বুকে দুধ নামে। মানে একটা হিসাব মিলাইতে হইসিল। হয় মায়ের মনটা শান্ত থাকবে, নাহয় বাচ্চাটা দুধ পাবে। আর খোদাতায়ালা বাচ্চাটাকে বাইছা নিসেন সঙ্গত কারণেই।
এখন খেয়াল করেন কী দাঁড়াইল। যেইদিন থেকে রুবিনার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়টা শুরু হইতেসে, মানে রাত জাগা, প্রতি দুই ঘণ্টায় খাওয়ানো, সেলাইয়ের ব্যথা, রক্ত, আর একটা মানুষ যে কথা বলতে পারে না।ঠিক ওই দিনটাতেই তার মাথার ভিতরের শান্ত রাখার ব্যবস্থাটা তুইলা নেওয়া হইতেসে। যেই সময়টায় তার ওইটা সবচেয়ে বেশি দরকার, ঠিক ওই সময়টাতেই ওইটা নাই।
আর এইটা দুই একজনের ব্যাপার না। প্রায় পাচজনের মধ্যে একজন মায়ের এইটা হয়। প্রতি পাঁচজনে একজন। মানে আপনার পরিচিত যত মা আছেন, তাদের পাঁচজনের একজন এই জিনিসটার ভিতর দিয়া গেছেন।
এইটা মায়ের মনের দুর্বলতা না। যদি এইটা মনের দুর্বলতাই হইত, তাইলে হারানো ওই রাসায়নিকটা ফিরায়া দিলে কিছুই হওয়ার কথা না। আমেরিকায় এখন দুইটা ওষুধ অনুমোদিত, আর দুইটাই ওই হারানো জিনিসটার কৃত্রিম রূপ। একটা শিরায় দিতে হয়, আরেকটা মুখে খাওয়ার বড়ি, চোদ্দ দিন। আর গবেষণায় দেখা গেছে, তিন দিনের মধ্যেই উন্নতি শুরু হয়। মাত্র তিন দিন। যেই জিনিসটাকে আমরা মনের দুর্বলতা বইলা চালাই, ওইটা তিন দিনে বদলায়া যায়।
তাইলে বিধাতা কি এই ধাক্কাটা সামলানোর কোনো ব্যবস্থা রাখেন নাই? রাখসিলেন। শুধু ওই ব্যবস্থাটা মায়ের শরীরের ভিতরে ছিল না। ওইটা ছিল তার চারপাশে।।মানুষ লাখ লাখ বছর ধইরা বাচ্চা বড় করসে দল বাইন্ধা। মা একা বাচ্চা সামলাইত না। কোনোদিন না। দাদি ছিল, নানি ছিল, বোন ছিল, খালা ছিল, পাড়ার মহিলারা ছিল।।একজন রাঁধত। একজন বাচ্চা কোলে নিত। একজন মায়ের মাথায় তেল দিয়া দিত। আর একজন শুধু পাশে বইসা গল্প করত। মানে ওই হরমোনের ধাক্কাটার ওষুধ বানানোই ছিল। খোদাতায়ালা সমাজ হিসাবে দিসিলেন আমাদের।
আর এই কথাটা নতুন না। আড়াই হাজার বছর আগে প্লেটো তাঁর রিপাবলিকে বলসিলেন, শিশু লালনপালন শুধু বাবা মায়ের কাজ না, ওইটা গোটা সমাজের দায়িত্ব। তাঁর প্রস্তাবের খুঁটিনাটি নিয়া তর্ক হইতে পারে। কিন্তু তাঁর পর্যবেক্ষণটা ভুল ছিল না। একটা বাচ্চা বড় করার ভারটা দুইজন মানুষের ঘাড়ে ফেলা যায় না। কোনোদিন যাইত না।
আর আমরা কী করলাম? আমরা সমাজটা ভাইঙা ফেললাম। নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি বানাইলাম। বাবা মায়েরা বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাইলাম। ভাই বোনরে ভিনো করে দিলাম।
আমরা ওইটার নাম দিলাম উন্নতি। ছেলে শহরে চাকরি পাইসে, নিজের ফ্ল্যাট হইসে, বউ নিয়া আলাদা সংসার। আর ওই ফ্ল্যাটটার ভিতরে তেইশ বছরের একটা মেয়ে, কোলে একটা নবজাতক, সকাল নয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত একা। বিধাতাকে দোষ দেওয়ার কিছু নাই। তিনি তাঁর কাজ করসেন। সমাজ বানাইতে বলসেন। বন্দোবস্তটা আমরা ভাঙসি।
রুবিনার ছেলেটার এখন পাঁচ বছর। স্কুলে যায়। রুবিনা ভালো আছে। ওই সময়টা পার হইয়া গেছে, যেমন অনেকেরই হইয়া যায়। কেউ ডাক্তার দেখায় নাই, কেউ কিছু জিজ্ঞাসাও করে নাই। শুধু একটা জিনিস সে আজও কাউকে বলে নাই।
গত ঈদে রুবিনার ছোট বোন বেড়াইতে আসছিল। তিন দিনের জন্য। রাতে ছেলেটা ঘুমানোর পর দুই বোন এক খাটে শুইল। অনেক বছর পর। রুবিনা ভাবসিল আজকে আগের মতো হবে। সারা রাত গল্প হবে, মা নাই যে ধমক দিবে। কিন্তু ওইটা হইল না। দুইজন কিছুক্ষণ শাশুড়ির গল্প করল। তারপর বোনের চাকরির কথা। তারপর কার বাচ্চা কোন স্কুলে। তারপর চুপ। ওই চুপ থাকাটা আগের মতো ছিল না। আগে দুই বোন চুপ থাকলে ওইটা ছিল ঘুম আসার আগের চুপ। আর এখন ওইটা ছিল বলার মতো কিছু খুঁজে না পাওয়ার চুপ। রুবিনা হাত বাড়ায়া বোনের হাতটা ধরল। আর ছোটবেলায় এই হাতটা ধরলে যা হইত, ওইটা হইল না। দুইজনের কারও ঘুম আসল না।
পরদিন সকালে বোনটা রান্নাঘরে গিয়া বলল, আপা চা বসাই? রুবিনা বলল, বস তুই, আমি করতেসি।
দুই দিন পর বোনটা চইলা গেল। যাওয়ার সময় বলল, আপা, ফোন দিস। রুবিনা ফোন দেয়। বোনটাও দেয়।
প্রতি সপ্তাহে না হইলেও মাসে দুইবার তো হয়ই। ঈদে দেয়, ছেলেটার জন্মদিনে দেয়, শাশুড়ির অপারেশনের সময় রোজ দিসিল। আর প্রতিবারই কথা হয় এক রকম। শরীর ভালো? ছেলেটা কী করে? দুলাভাই কেমন আছে? বাসার কাজের মেয়েটা ঠিকমতো আসে? তারপর কে আগে রাখবে ওইটা নিয়া দুই লাইন, তারপর রাখা। পনেরো মিনিটের কথা। কোনোটাই আজাইরা না।
আর ওই পনেরো মিনিটে একবারও কেউ জিজ্ঞাসা করে না, তুই আসলে কেমন আছিস। কারণ ওই প্রশ্নটা করার নিয়ম হইল কাছে বসা। একই ঘরে, একই খাটে, বাতি নিভানোর পর। সেই সময়টা হারায়ে গেসে, কোথায় কার কাছে৷ কোন দেশে কেউ জানেনা।
(সংগ্রহিত)