Children’s Specialist Chamber

Children’s Specialist Chamber Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Children’s Specialist Chamber, Doctor, MUSKASH;51 South Khulshi;Road # 01, Chittagong.

CHILDREN’S SPECIALIST CHAMBER
(চিলড্রেন‘স স্পেশালিস্ট চেম্বার)
-নবজাতক,শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ
ঠিকানা:
MUSKASH; ৫১ নং দক্ষিণ খুলশী,রোড #০১,
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
চেম্বার সময়: সন্ধ্যা ৭টা -রাত ১০টা;শুক্রবার বন্ধ।
সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন:
০১৭৯৫ ৬৩৩ ৩৩৩

27/09/2026
রুবিনার বয়স তেইশ। বিয়ের আগে সে ঘুমাইত তার ছোট বোনের সাথে, এক খাটে। রাতে দুই বোন ফিসফিস কইরা গল্প করত, খুনসুটি করতো আর ...
27/09/2026

রুবিনার বয়স তেইশ। বিয়ের আগে সে ঘুমাইত তার ছোট বোনের সাথে, এক খাটে। রাতে দুই বোন ফিসফিস কইরা গল্প করত, খুনসুটি করতো আর মা পাশের ঘর থিকা ধমক দিতেন, ঘুমা এইবার।

বিয়ের পর রুবিনা ঢাকায় আসল। দুই কামরার ফ্ল্যাট, পাঁচতলার উপরে। প্রথম রাতে তার ঘুম আসে নাই। কারণ ঘরটা এত চুপচাপ ছিল যে তার কানে লাগতেসিল। বাচ্চাটা হইল দুই বছর পর। সিজার। পেট কাটা। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর বাড়িভর্তি মানুষ। মিষ্টির প্যাকেট, নতুন কাঁথা, ছবি তোলা। সবাই একটা কথাই জিজ্ঞাসা করে। বাচ্চা দুধ খাইসে? বাচ্চা ঘুমাইসে? বাচ্চার ওজন কত?

রুবিনা খাটের এক কোণায় বইসা থাকত। সেলাইটা তখনো শুকায় নাই। উঠতে গেলে পেটে টান লাগত। কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করে নাই, তুমি কেমন আছো। পনেরো দিনের মাথায় সবাই যে যার বাড়ি চইলা গেল। স্বামী অফিসে ফিরল। শাশুড়ি গেলেন গ্রামে, ধানের সময় বইলা। রুবিনার মাও ফির‍্যা গেলেন বাসায়।

আর ওই ফ্ল্যাটটা আবার চুপচাপ হইয়া গেল। সেইদিন রাতে বাচ্চাটা ঘুমানোর পর রুবিনা কাঁদতে শুরু করল। কেন কাঁদতেসে সে নিজেও জানে না। রুবিনা ভয় পাইলো। ক্যান কানতেছে সে? কান্নার তো কথা না।কারণ তার তো সব আছে। বাচ্চাটা সুস্থ, স্বামী ভালো, আদর করে, ভালোবাসে, তার তো কোন অভাব নাই।

তাইলে তার কী হইল?

সকালে সে মারে ফোন দিসিল। বলসিল, আম্মা আমার কেমন জানি লাগে। আম্মা বললেন, এত ঢং কিসের। মা হইসো, বড় হইসো, তুমি তো ছোট নাই। রুবিনা আর কাউকে বলে নাই।

রুবিনার শরীরের ভিতরে কী ঘটসে, ওইটা বলার আগে একটা জিনিস বুঝায়া বলি। নাহলে পুরা ব্যাপারটা বুঝতে পারবো না আমরা।

আমাদের শরীর সারাক্ষণ একটা কাজ কইরা যাইতেসে। শরীরের ভিতরের অবস্থাটা একই রাখা। ধরেন শরীরের তাপমাত্রা। স্বাভাবিক প্রায় সাড়ে ছত্রিশ ডিগ্রি। এখন ভাবেন, আপনি শীতের ভোরে পঞ্চগড়ে দাঁড়ায়া আছেন, বাইরে পাঁচ ডিগ্রি। আর তিন মাস পরে চৈত্রের দুপুরে রাজশাহীতে, বাইরে চল্লিশ। বাইরে পঁয়ত্রিশ ডিগ্রির তফাত। আর আপনার ভিতরে? ওই একই সাড়ে ছত্রিশ ডিগ্রি। কীভাবে? শীতে আপনার শরীর কাঁপে, লোম দাঁড়ায়, রক্তনালি চিকন হইয়া ভিতরের তাপটা আটকায়। আর গরমে ঘাম দেয়, রক্তনালি চওড়া হয়। ভিতরের তাপটা কমায়ে দেয়। মানে ভিতরের তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্য আপনার শরীর বাইরে অনবরত কাজ কইরা যাইতেসে। আর আপনি টেরও পান না।

আরেকটা উদাহরণ দেই। আপনি এক প্লেট ভাত খাইলেন। রক্তে চিনি বাড়ল। সাথে সাথে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন ছাড়ল, আর চিনিটা নামায়া আনল। আর আপনি যদি সারাদিন কিছুই না খান? তখন লিভার তার জমানো চিনি ছাড়া শুরু করে, যেন রক্তের চিনিটা নিচে নাইমা না যায়। মানে খাইলেও রক্তের চিনি ঠিক থাকে, না খাইলেও থাকে। আর যেদিন এই ব্যবস্থাটা ভাইঙা পড়ে, সেইদিন ওইটার নাম হয় ডায়াবেটিস। ডাক্তারি ভাষায় এই ব্যবস্থাটার একটা নাম আছে, হোমিওস্ট্যাসিস। মানে ভিতরের ভারসাম্য ধইরা রাখা। আর আমি এইটাকে অন্য নামে ডাকি। বিধাতার অপার মহিমা।

কারণ এইটা একটা না, হাজার হাজার হিসাব একসাথে। তাপ, পানি, লবণ, চিনি, রক্তের চাপ, রক্তের অম্লত্ব, অক্সিজেন। প্রতিটার একটা নির্দিষ্ট মাত্রা আছে, আর প্রতিটা মাত্রা একটু এদিক ওদিক হইলেই আমরা বাইচ্যাই থাকবো না। আর আপনি সারা জীবন ভাত খান, ঘুমান, ঝগড়া করেন, দৌড়ান, আর ভিতরের ওই হাজারটা কাঁটা ঠিক জায়গায় দাঁড়ায়া থাকে। আপনি কিছুই করেন না। কেউ ওইটার খবরও রাখে না।

মস্তিষ্কের বেলায় এই হিসাবটা আরও কড়া। মস্তিষ্ক শরীরের সবচেয়ে হিসাবি অঙ্গ, আর ওইটা রাসায়নিকের সামান্য বদলেও সাড়া দেয়। এইবার এই কথাটা মাথায় রাইখা রুবিনার শরীরটার দিকে তাকান।

নয় মাস ধইরা তার শরীরে দুইটা হরমোন বাড়তেসিল। ইস্ট্রোজেন আর প্রোজেস্টেরন। এই দুইটা হরমোন অবশ্য সব সময়ই থাকে। সাধারণ সময়ে ওইগুলা বানায় ডিম্বাশয়, আর মাসিকের চক্রের সাথে সাথে ওইগুলা বাড়ে কমে। কিন্তু গর্ভাবস্থায় জিনিসটা আলাদা। তখন ওইগুলা বানায় গর্ভফুল, আর মাত্রাটা পৌঁছায় আকাশে এককেরে চাঙ্গে উঠে যা সাধারণ সময়ে হয়ই না। আর ওইটা নয় মাস ধইরা বাড়তেই থাকে। আর প্রোজেস্টেরন থেকে শরীর আরেকটা জিনিস বানায়, যেইটা সোজা মস্তিষ্কে গিয়া কাজ করে। ওইটার কাজ একটাই। মনটা শান্ত রাখা।

নয় মাস ধইরা ওইটা বাড়তে থাকল। আর রুবিনার মস্তিষ্ক ওই নতুন অবস্থাটাতেই নিজেকে মানায়া নিল। এইটাও ওই হোমিওস্ট্যাসিসেরই কাজ। শরীর নতুন অবস্থাটায় নিজের হিসাব নতুন কইরা বসাইল।

এখন প্রশ্ন হইল, বিধাতা তারে এই মাইয়াদের গর্ভাবস্থায় মাথাটা শান্ত রাখার ব্যবস্থাটা দিলেন কেন? দুইটা কারণে। আর দুইটাই বাচ্চাটার জন্য।

প্রথম কারণটা শুনলে অবাক হইবেন। পেটের ভিতরের বাচ্চাটার অর্ধেক জিন কিন্তু বাবার। মানে মায়ের শরীরের হিসাবে ওইটা পুরাপুরি নিজের জিনিস না। আর শরীরের পাহারাদারের কাজই তো এইটা। নিজের না এমন কিছু পাইলে আক্রমণ করা। তারে মাইর‍্যা ফেলা। তাইলে নয় মাস ধইরা মায়ের শরীর ওই বাচ্চাটাকে আক্রমণ করে না কেন? কারণ গর্ভাবস্থায় ওই পাহারাদারটাকে ঘুমাইয়া শান্ত কইরা রাখা হয় উচু মাত্রার প্রজেস্টোরন হরমোন দিয়া। যেন সে নিজের ঘরের মানুষকে শত্রু না ভাবে।

আর দ্বিতীয় কারণও আছে। গর্ভাবস্থার নয়টা মাস শরীরের জন্য টানা একটা চাপ। পেট ভারী, বমি, ঘুম নাই, আর শেষে প্রসবের ওই ব্যথা আর রক্ত।

শরীরের ভিতরের সতর্কব্যবস্থাটা যদি এই পুরা সময়টা জুড়ে পুরা মাত্রায় সক্রিয় থাকত, তাইলে মহিলাটা নয় মাস ধইরা একটা আতঙ্কের ভিতরে থাকতেন। আর ওই লাগাতার আতঙ্ক নিজেই পেটের বাচ্চাটা গর্ভপাত কইর‍্যা দিতো। তাই ওই সংকেতটা নরম কইরা রাখতে হইত।

আর তার চাইতেও বড় কারণটা প্রসবের পরে। ওই রক্ত, ব্যথা আর ক্লান্তির ভিতরে দাঁড়ায়া একটা মানুষকে একটা নবজাতকের দিকে টান অনুভব করতে হয়। আর আতঙ্কের ভিতরে থাকলে ওই টানটা তৈরি হয় না। মানে ওই শান্ত রাখাটা মায়ের আরামের জন্য দেওয়া হয় নাই। ওইটা দেওয়া হইসিল বাচ্চাটাকে গ্রহণ করানোর জন্য।

আর তারপর প্রসব হইল। আর প্রসবের সাথে সাথে গর্ভফুলটা শরীর থেকে ঝট কইর‍্যা বাইর হইয়া গেল। মানে হরমোন তৈরির কারখানাটাই চইলা গেল। হঠাৎ কইর‍্যা। তাই হরমোনগুলা ধীরে ধীরে কমল না। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ধপ কইরা পইড়া গেল।

আর ওই মস্তিষ্কটা, যেইটা নয় মাস ধইরা ওই শান্ত রাখার জিনিসটার উপর চলতেসিল, ওইটা হঠাৎ কইরা ওইটা এক্কেরে নাই হইয়া গেলো। শরীর সারা জীবন ধইরা যেই কাজটা করে, মানে ভিতরের অবস্থাটা একই রাখা, ঠিক ওই কাজটাই এইখানে ভাইঙা পড়লো।

তাইলে বিধাতা এইটা ধীরে ধীরে কমাইলেন না কেন? এত নিখুঁত যে ব্যবস্থা, ওইখানে এইটা পারলেন না? পারতেন না। কারণ ওই পতনটাই লাগত। বিধাতার দুনিয়ায় কোন কিছুই অকারণে হয়না।

প্রোজেস্টেরন বেশি থাকা অবস্থায় স্তনে দুধ তৈরির কাজটা আটকানো থাকে। ওইটার মাত্রা কইম্যা গেলেই মায়ের বুকে দুধ নামে। মানে একটা হিসাব মিলাইতে হইসিল। হয় মায়ের মনটা শান্ত থাকবে, নাহয় বাচ্চাটা দুধ পাবে। আর খোদাতায়ালা বাচ্চাটাকে বাইছা নিসেন সঙ্গত কারণেই।

এখন খেয়াল করেন কী দাঁড়াইল। যেইদিন থেকে রুবিনার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়টা শুরু হইতেসে, মানে রাত জাগা, প্রতি দুই ঘণ্টায় খাওয়ানো, সেলাইয়ের ব্যথা, রক্ত, আর একটা মানুষ যে কথা বলতে পারে না।ঠিক ওই দিনটাতেই তার মাথার ভিতরের শান্ত রাখার ব্যবস্থাটা তুইলা নেওয়া হইতেসে। যেই সময়টায় তার ওইটা সবচেয়ে বেশি দরকার, ঠিক ওই সময়টাতেই ওইটা নাই।

আর এইটা দুই একজনের ব্যাপার না। প্রায় পাচজনের মধ্যে একজন মায়ের এইটা হয়। প্রতি পাঁচজনে একজন। মানে আপনার পরিচিত যত মা আছেন, তাদের পাঁচজনের একজন এই জিনিসটার ভিতর দিয়া গেছেন।

এইটা মায়ের মনের দুর্বলতা না। যদি এইটা মনের দুর্বলতাই হইত, তাইলে হারানো ওই রাসায়নিকটা ফিরায়া দিলে কিছুই হওয়ার কথা না। আমেরিকায় এখন দুইটা ওষুধ অনুমোদিত, আর দুইটাই ওই হারানো জিনিসটার কৃত্রিম রূপ। একটা শিরায় দিতে হয়, আরেকটা মুখে খাওয়ার বড়ি, চোদ্দ দিন। আর গবেষণায় দেখা গেছে, তিন দিনের মধ্যেই উন্নতি শুরু হয়। মাত্র তিন দিন। যেই জিনিসটাকে আমরা মনের দুর্বলতা বইলা চালাই, ওইটা তিন দিনে বদলায়া যায়।

তাইলে বিধাতা কি এই ধাক্কাটা সামলানোর কোনো ব্যবস্থা রাখেন নাই? রাখসিলেন। শুধু ওই ব্যবস্থাটা মায়ের শরীরের ভিতরে ছিল না। ওইটা ছিল তার চারপাশে।।মানুষ লাখ লাখ বছর ধইরা বাচ্চা বড় করসে দল বাইন্ধা। মা একা বাচ্চা সামলাইত না। কোনোদিন না। দাদি ছিল, নানি ছিল, বোন ছিল, খালা ছিল, পাড়ার মহিলারা ছিল।।একজন রাঁধত। একজন বাচ্চা কোলে নিত। একজন মায়ের মাথায় তেল দিয়া দিত। আর একজন শুধু পাশে বইসা গল্প করত। মানে ওই হরমোনের ধাক্কাটার ওষুধ বানানোই ছিল। খোদাতায়ালা সমাজ হিসাবে দিসিলেন আমাদের।

আর এই কথাটা নতুন না। আড়াই হাজার বছর আগে প্লেটো তাঁর রিপাবলিকে বলসিলেন, শিশু লালনপালন শুধু বাবা মায়ের কাজ না, ওইটা গোটা সমাজের দায়িত্ব। তাঁর প্রস্তাবের খুঁটিনাটি নিয়া তর্ক হইতে পারে। কিন্তু তাঁর পর্যবেক্ষণটা ভুল ছিল না। একটা বাচ্চা বড় করার ভারটা দুইজন মানুষের ঘাড়ে ফেলা যায় না। কোনোদিন যাইত না।

আর আমরা কী করলাম? আমরা সমাজটা ভাইঙা ফেললাম। নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি বানাইলাম। বাবা মায়েরা বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাইলাম। ভাই বোনরে ভিনো করে দিলাম।

আমরা ওইটার নাম দিলাম উন্নতি। ছেলে শহরে চাকরি পাইসে, নিজের ফ্ল্যাট হইসে, বউ নিয়া আলাদা সংসার। আর ওই ফ্ল্যাটটার ভিতরে তেইশ বছরের একটা মেয়ে, কোলে একটা নবজাতক, সকাল নয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত একা। বিধাতাকে দোষ দেওয়ার কিছু নাই। তিনি তাঁর কাজ করসেন। সমাজ বানাইতে বলসেন। বন্দোবস্তটা আমরা ভাঙসি।

রুবিনার ছেলেটার এখন পাঁচ বছর। স্কুলে যায়। রুবিনা ভালো আছে। ওই সময়টা পার হইয়া গেছে, যেমন অনেকেরই হইয়া যায়। কেউ ডাক্তার দেখায় নাই, কেউ কিছু জিজ্ঞাসাও করে নাই। শুধু একটা জিনিস সে আজও কাউকে বলে নাই।

গত ঈদে রুবিনার ছোট বোন বেড়াইতে আসছিল। তিন দিনের জন্য। রাতে ছেলেটা ঘুমানোর পর দুই বোন এক খাটে শুইল। অনেক বছর পর। রুবিনা ভাবসিল আজকে আগের মতো হবে। সারা রাত গল্প হবে, মা নাই যে ধমক দিবে। কিন্তু ওইটা হইল না। দুইজন কিছুক্ষণ শাশুড়ির গল্প করল। তারপর বোনের চাকরির কথা। তারপর কার বাচ্চা কোন স্কুলে। তারপর চুপ। ওই চুপ থাকাটা আগের মতো ছিল না। আগে দুই বোন চুপ থাকলে ওইটা ছিল ঘুম আসার আগের চুপ। আর এখন ওইটা ছিল বলার মতো কিছু খুঁজে না পাওয়ার চুপ। রুবিনা হাত বাড়ায়া বোনের হাতটা ধরল। আর ছোটবেলায় এই হাতটা ধরলে যা হইত, ওইটা হইল না। দুইজনের কারও ঘুম আসল না।

পরদিন সকালে বোনটা রান্নাঘরে গিয়া বলল, আপা চা বসাই? রুবিনা বলল, বস তুই, আমি করতেসি।

দুই দিন পর বোনটা চইলা গেল। যাওয়ার সময় বলল, আপা, ফোন দিস। রুবিনা ফোন দেয়। বোনটাও দেয়।
প্রতি সপ্তাহে না হইলেও মাসে দুইবার তো হয়ই। ঈদে দেয়, ছেলেটার জন্মদিনে দেয়, শাশুড়ির অপারেশনের সময় রোজ দিসিল। আর প্রতিবারই কথা হয় এক রকম। শরীর ভালো? ছেলেটা কী করে? দুলাভাই কেমন আছে? বাসার কাজের মেয়েটা ঠিকমতো আসে? তারপর কে আগে রাখবে ওইটা নিয়া দুই লাইন, তারপর রাখা। পনেরো মিনিটের কথা। কোনোটাই আজাইরা না।

আর ওই পনেরো মিনিটে একবারও কেউ জিজ্ঞাসা করে না, তুই আসলে কেমন আছিস। কারণ ওই প্রশ্নটা করার নিয়ম হইল কাছে বসা। একই ঘরে, একই খাটে, বাতি নিভানোর পর। সেই সময়টা হারায়ে গেসে, কোথায় কার কাছে৷ কোন দেশে কেউ জানেনা।
(সংগ্রহিত)

এখানে Antenatal চেক আপ সহ মেয়েলি রোগের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় ।এছাড়া এখানে মেয়েদের জরায়ু ক্যান্সারের টিকাসহ গর্ভবতী মায়েদ...
10/09/2026

এখানে Antenatal চেক আপ সহ মেয়েলি রোগের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় ।এছাড়া এখানে মেয়েদের জরায়ু ক্যান্সারের টিকাসহ গর্ভবতী মায়েদের টিটেনাস এর টিকা দেওয়া হয় ।

চেম্বার সময়:
প্রতিদিন সকাল ১০টা -বেলা ১২টা,
সন্ধ্যা ৭টা -রাত ৯টা।
শুক্রবার বন্ধ।

CHILDREN’S SPECIALIST CHAMBER(চিলড্রেন‘স স্পেশালিস্ট চেম্বার)এখানে নিচের সেবাসমূহ পাওয়া যায়:★ নবজাতক,শিশু ও কিশোরদের স...
10/09/2026

CHILDREN’S SPECIALIST CHAMBER
(চিলড্রেন‘স স্পেশালিস্ট চেম্বার)
এখানে নিচের সেবাসমূহ পাওয়া যায়:
★ নবজাতক,শিশু ও কিশোরদের সব ধরণের রোগের চিকিৎসা ও পরামর্শ।
★ শিশুদের পুষ্টি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।
★ শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশের পরামর্শ।
এছাড়া এখানে
★দেশি-বিদেশি সকল প্রকার টিকা পাওয়া যায়।
★এখানে সব বয়সের সবধরনের টিকা(সরকারি টিকা ছাড়া) দেওয়া হয়।বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ ও বিশ্বের যে কোনো ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় টিকা,Vaccine Card, Softcopy Vaccine card ও Vaccine Certificate দেওয়া হয়।
★এখানে শুধুমাত্র চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই টিকা দেওয়া হয়।
[বিঃ দ্রঃ অভিজ্ঞ “গাইনি এন্ড অবস” চিকিৎসকের মাধ্যমে এন্টিনেটাল চেকআপ (প্রসবপূর্ব যত্ন), নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সহ মহিলাদের যেকোনো রোগের চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হয়।]

ঠিকানা:
MUSKASH; ৫১ নং দক্ষিণ খুলশী,রোড #০১,
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।
চেম্বার সময়:
সন্ধ্যা ৭টা -রাত ১০টা;শুক্রবার বন্ধ।
[দূর দুরন্তের রোগীদের জন্য সকাল ১০:৩০মি থেকে দুপুর ১২:৩০মি পর্যন্ত খোলা থাকে ]
*সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ করুন:
০১৭৯৫ ৬৩৩ ৩৩৩

আমার দর্পন: ভুল চিকিৎসা (Medical Errors) যা কখনো কাম্য নয়। আমেরিকায় প্রতি বছর আনুমানিক ২,৫০,০০০ থেকে ৪,৪০,০০০ মানুষ ভুল...
08/09/2026

আমার দর্পন: ভুল চিকিৎসা (Medical Errors) যা কখনো কাম্য নয়।

আমেরিকায় প্রতি বছর আনুমানিক ২,৫০,০০০ থেকে ৪,৪০,০০০ মানুষ ভুল চিকিৎসার (Medical Errors) কারণে মারা যান। চিকিৎসাক্ষেত্রের বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের পর ভুল চিকিৎসাকে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কিছু পরিসংখ্যান:
১.জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির (Johns Hopkins University) একটি বহুল আলোচিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি বছর কমপক্ষে ২,৫১,৪৫৪ জন মানুষ চিকিৎসকের বা হাসপাতালের ভুলের কারণে প্রাণ হারান।

২. আঘাত ও স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা
অ-মারাত্মক ক্ষতি: প্রতি বছর প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ ভুল চিকিৎসার কারণে স্থায়ী বা সাময়িক শারীরিক ক্ষতির (Nonfatal injury) সম্মুখীন হন।
ভুল রোগ নির্ণয় (Misdiagnosis): শুধুমাত্র ভুল রোগ নির্ণয়ের (যেমন: স্ট্রোক, সেপসিস বা ক্যান্সার সময়মতো ধরতে না পারা) কারণে প্রতি বছর প্রায় ৭,৯৫,০০০ জন আমেরিকান মারা যান অথবা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
ওষুধের ভুল প্রয়োগ: ভুল ওষুধ দেওয়া বা ভুল ডোজে ওষুধ প্রয়োগের ফলে প্রতি বছর ৭,০০০ থেকে ৯,০০০ রোগী মারা যান।

***২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র ইংল্যান্ডের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বা NHS-এ প্রতিবছর গড়ে ১৩,৫০০ থেকে ১৪,৫০০টির মতো নতুন ভুল চিকিৎসার অভিযোগ বা আইনি দাবি (Clinical Negligence Claims) জমা পড়ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৪০টি করে অভিযোগ আসে।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল (BMJ)-এর গবেষণা অনুযায়ী, শুধুমাত্র ইংল্যান্ডেই প্রতিবছর প্রেসক্রিপশন বা ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় ২৩৭ মিলিয়ন ছোট-বড় ভুল ঘটে। এর মধ্যে প্রায় ৬৬ মিলিয়ন ভুল রোগীর সরাসরি ক্ষতি করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ থাকে।

সাবেক ব্রিটিশ স্বাস্থ্যসচিব এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ১২,৫০০ জন রোগী NHS-এর বিভিন্ন ভুল বা অবহেলার কারণে মারা যান, যা সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব ছিল (Avoidable Deaths)। এর মধ্যে শুধু ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণে নিশ্চিতভাবে মারা যান ১,৭০৮ জন।সবচেয়ে বেশি ভুলের ঘটনা ঘটে সাধারণত সার্জারি (অস্ত্রোপচার), প্রসূতি সেবা (Obstetrics/Maternity), এবং জরুরি বিভাগে (Emergency Medicine)।

*** বিভিন্ন চিকিৎসা গবেষক ও ফরাসি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে ফ্রান্সে প্রতিবছর প্রায় ৩০,০০০ জন রোগী প্রাণ হারান। কিছু কিছু বেসরকারি চিকিৎসাসেবা সংগঠনের হিসাবে এই সংখ্যাটি ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিচু ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ভুল চিকিৎসার কারণে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ দুর্ঘটনা ঘটে এবং ২৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় [০.৬.৯]। তবে এর মধ্যে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট কোনো আলাদা হিসাব নেই।

ভুল চিকিৎসা ও আস্থার সংকটের কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যান। দেশের নাগরিকরা চিকিৎসাবাবদ বিদেশে প্রতিবছর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেন।

সারাবিশ্বে ভুল চিকিৎসা বা অনিরাপদ চিকিৎসাসেবা একটি বড় বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যার কারণে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ মারা যান বা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

ভুল চিকিৎসার কারণ:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে বাংলাদেশের সরকারি স্বাস্থ্যখাতে অন্তত ৮৮,৯০৯ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৫৮,৫৯৮ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্সের আদর্শ অনুপাত হওয়া উচিত ১:৩। কিন্তু বাংলাদেশে এই অভ্যন্তরীণ অনুপাত মাত্র ১:০.৭৪, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
চিকিৎসকদের দীর্ঘ সময় ডিউটি ও অতিরিক্ত রোগীর চাপ,চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে সঠিক তথ্যের আদান-প্রদান না হওয়া,দক্ষতার ঘাটতি,আধুনিক প্রশিক্ষণ ও মনিটরিংয়ের অভাব।

এর সমাধান কী?
সঠিক মনিটরিং ও জবাবদিহিতা,সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত,চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন অর্থাৎ হসপিটালগুলো চিকিৎসক ফ্রেন্ডলি হতে হবে, চিকিৎসকদের অতিরিক্ত কাজের চাপ কমিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে যত ডেটাই থাকুক না কেন Clinical Negligence কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়।কর্মক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।একটি ভুল একটি পরিবারের কান্না,কাজে dedication থাকতে হবে যাতে অধিকাংশ ভুল এড়ানো সম্ভব হয়।

ডাঃ এ টি এম মাহমুদুর রহমান
কনসালটেন্ট -শিশু, NICU/PICU
ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হসপিটাল
চট্টগ্রাম।

Address

MUSKASH;51 South Khulshi;Road# 01
Chittagong
4225

Opening Hours

Monday 19:00 - 22:00
Tuesday 19:00 - 22:00
Wednesday 19:00 - 22:00
Thursday 19:00 - 22:00
Saturday 19:00 - 17:00
Sunday 19:00 - 22:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Children’s Specialist Chamber posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category