11/08/2026
আর মাএ ৪ মাস, এখনো শুরু না করলে,পরে আর ফিরে পাবেন না।জীবন এইভাবে মূল্যহীন হয়ে যাবে।
আরেকটা বছর শেষ হতে চলেছে।
হয়তো রাতে বাচ্চাকে ঘুম পাড়িয়ে, সংসারের কাজ শেষ করে যখন একটু একা বসেন, তখন আপনার মনেও একটা প্রশ্ন আসে-এই বছরটা তো শেষ হয়ে যাচ্ছে ?
গত বছরও তো নিজেকে বলেছিলেন,এবার বদলাবো।
নিজের জন্য সময় বের করবো,নতুন কিছু শিখবো,ক্যারিয়ার নিয়ে এগোবো,ইবাদতে আরও মনোযোগী হবো,সংসারটা আরও গুছাবো।সন্তানের জন্য আরও intentional মা হবো।
কিন্তু বছর শেষে এসে মনে হচ্ছে,আমি তো আবারও একই জায়গায়,তখন হয়তো নিজের ওপরই রাগ হয়।
আমি এত lazy কেন?
আমার কোনো consistency নেই কেন?
আমি কিছুই শেষ করতে পারি না কেন?
আমি শুরু করি, তারপর আবার ছেড়ে দিই কেন?
কিন্তু,হয়তো আপনি lazy নন,হয়তো আপনি ক্লান্ত।
অনেকদিন ধরে সবাইকে সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত।
সন্তান,সংসার,স্বামী,পরিবার,কাজ,দায়িত্ব।
সবকিছুর মাঝে নিজের প্রয়োজনটাকে বারবার শেষে রাখতে রাখতে একসময় নিজের স্বপ্নের কথাই ভুলে যাওয়া খুব স্বাভাবিক।
আপনি হয়তো অনেকবার শুরু করেছেন।
একটা skill শিখতে চেয়েছেন,কিছু পড়তে চেয়েছেন।
নিজের জন্য একটা routine বানিয়েছেন,ক্যারিয়ার শুরু করার চেষ্টা করেছেন।
তারপর সন্তান অসুস্থ হয়েছে,সংসারে সমস্যা হয়েছে।
ঘুমের routine নষ্ট হয়েছে,কাজ জমেছে।
আপনি থেমে গেছেন,আবার শুরু করেছেন,আবার থেমেছেন।একসময় আপনার নিজের মনই বলতে শুরু করেছে থাক,এখন না।
বাচ্চা একটু বড় হোক,সংসারটা একটু গুছুক,সময় একটু বেশি হোক,পরিস্থিতি একটু ভালো হোক।
তারপর শুরু করবো,কিন্তু সত্যিটা হলো-
সেই perfect সময়টা হয়তো কোনোদিন আসবে না।
কারণ জীবন কখনো পুরোপুরি ফাঁকা হয় না।
একটা দায়িত্ব শেষ হলে আরেকটা আসে,একটা সমস্যা শেষ হলে আরেকটা আসে,বাচ্চা বড় হলে নতুন দায়িত্ব আসে।
তাই সবকিছু ঠিক হওয়ার অপেক্ষায় থাকলে হয়তো আপনার নিজের জীবনটাই অপেক্ষা করতে করতে চলে যাবে।
আমাদের অনেক সময় আরও pressure দরকার হয় না।
আমাদের direction দরকার।
আর শয়তানের একটা বড় ফাঁদ হলো-এখন না,পরে।
পরে নামাজে মনোযোগী হবো,পরে কুরআন পড়বো।
পরে skill শিখবো,পরে নিজের যত্ন নেবো।পরে কাজ শুরু করবো,পরে নিজের স্বপ্নের দিকে ফিরবো।
এই পরে করতে করতেই একসময় মানুষ নিজের স্বপ্নকে এত ছোট করে ফেলে যে, স্বপ্ন দেখাটাও বন্ধ হয়ে যায়।
কিন্তু আপনি দেরি করে ফেলেননি,আপনার বয়সের কারণে নয়,আপনার ভুলের কারণে নয়,আপনি কতবার ব্যর্থ হয়েছেন তার কারণেও নয়।
আপনি তখনই সত্যিকারের পিছিয়ে পড়বেন, যখন ফিরে আসা বন্ধ করে দেবেন।
আল্লাহর দিকে ফিরে আসার দরজা এখনও খোলা।
নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগও এখনও আছে।
তাই নতুন বছর মানেই ২০টা resolution লিখে ফেলার দরকার নেই।
আপনাকে একসাথে সবকিছু বদলাতে হবে না।
শুধু একটা জায়গা বেছে নিন।
➡️একটা ইবাদত।
➡️একটা অভ্যাস।
➡️একটা skill।
➡️একটা দায়িত্ব।
➡️একটা অসম্পূর্ণ কাজ।
তারপর সেটার জন্য একটা ছোট system তৈরি করুন।
সন্তান ঘুমালে ৩০ মিনিট skill শেখা,ফজরের পর ১৫ মিনিট নিজের জন্য রাখা,প্রতিদিন মাত্র একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করা,সপ্তাহে একটা দিন নিজের goals review করা।
সংসারের কাজের মাঝেও নিজের স্বপ্নের জন্য ছোট একটা জায়গা রাখা।
আপনার জীবনকে বদলানোর জন্য প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা free time দরকার নেই।
দরকার ছোট কিন্তু repeatable কাজ।কারণ transformation সবসময় বড় কোনো সিদ্ধান্ত থেকে আসে না।
অনেক সময় আসে সেই ছোট ছোট কাজ থেকে, যেগুলো আপনি প্রতিদিন করেন,আজ ২০ মিনিট,কাল ৩০ মিনিট।
পরশু আবার ২০ মিনিট,একদিন দেখবেন
আপনি একটা skill শিখে ফেলেছেন,একটা কাজ শেষ করেছেন,একটা income source তৈরি হয়েছে।
আপনার নিজের ওপর বিশ্বাস ফিরে এসেছে,আপনি আর শুধু সন্তানের মা নন।আপনি একজন মানুষ হিসেবেও বেড়ে উঠছেন।
আর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপারটা হলো-আপনার সন্তানও আপনাকে দেখে শিখছে।সে দেখছে তার মা দায়িত্ব পালন করেন,ইবাদত করেন,শেখেন,ভুল করেন,আবার শুরু করেন।নিজের স্বপ্নকে সম্মান করেন।
এটাই তো intentional motherhood-এর একটা বড় অংশ।
শুধু সন্তানকে বড় করা নয়-নিজেকেও এমন একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, যাকে দেখে আপনার সন্তান একদিন বলবে,আমার মা থেমে যাননি,মা হওয়া তার growth-এর শেষ ছিল না।বরং মা হওয়ার পরই সে নতুন করে বেড়ে উঠেছিল।
তাই আজ নিজেকে একটা প্রশ্ন করুন-যদি আগামী এক বছরও কিছু না বদলায়, তাহলে বছর শেষে আমি কোথায় থাকবো?
আর তারপর নিজেকে আরেকটা প্রশ্ন করুন-
আজ আমি কোন একটা ছোট কাজ করতে পারি, যেটা আমার আগামীকালকে একটু হলেও বদলাবে?
সেটা হয়তো ৩০ মিনিট skill শেখা,হয়তো একটা বইয়ের ৫ পৃষ্ঠা পড়া,হয়তো আজকের নামাজগুলো সময়মতো পড়া।
হয়তো নিজের একটা goal লিখে ফেলা।হয়তো বহুদিন ধরে পড়ে থাকা একটা কাজ শেষ করা।
ছোট হোক,কিন্তু শুরু করুন।কারণ নতুন বছর আপনাকে নতুন মানুষ বানাবে না।
আপনার প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তগুলোই আপনাকে নতুন করে গড়ে তুলবে,আপনাকে একদিনে সবকিছু ঠিক করতে হবে না।
শুধু আগের জায়গায় পড়ে থাকার সিদ্ধান্তটা বদলাতে হবে।
আপনি late নন,আপনি শেষ হয়ে যাননি,হয়তো আপনি শুধু একটু থেমে গিয়েছিলেন।এবার ধীরে ধীরে আবার শুরু করুন,আল্লাহর ওপর ভরসা করে,একটা ছোট পদক্ষেপ দিয়ে।
➡️নিজের জন্য।
➡️আপনার সন্তানের জন্য।
➡️আপনার পরিবারের জন্য।
➡️আর আপনার উম্মাহর জন্য।
কারণ সময় আপনার জন্য অপেক্ষা করবে না।কিন্তু আপনি চাইলে আজ থেকেই আপনার সময়কে নতুনভাবে ব্যবহার করা শুরু করতে পারেন।
তাই আমাকে কমেন্টে শুধু একটা কথা বলুন
আগামী ৪ মাসে নিজের জীবনে কোন একটা জিনিস আপনি বদলাতে চান?
আজই সেই একটা সিদ্ধান্ত নিন।
হয়তো আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়টা এখনও লেখা শুরুই হয়নি।
© Muaz Mama Asma Popy
Muaz Mama’s Diaries – Asma Popy