11/08/2026
“আমি জানি না, আমি এমন হয়ে যাচ্ছি কেন…”—এই কথাটা অনেক নারী মনে মনে বলেন।
একটু আগেও হাসছিলেন, হঠাৎই রেগে গেলেন, তারপর নিজের ঘরেই চুপচাপ কাঁদলেন।
সবাই ভাবল—মেজাজ খারাপ। কিন্তু শরীর হয়তো বলছিল—“আমার একটু খেয়াল রাখো।”
একজন নারী আমাকে একদিন বলছিলেন,
“ডাক্তার, আমি ইচ্ছে করে কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি না। কিন্তু ছোট একটা কথাতেই প্রচণ্ড রাগ হয়ে যায়। তারপর আবার নিজেই কষ্ট পাই। কখনো স্বামীকে, কখনো সন্তানকে অকারণে বকাঝকা করি। পরে মনে হয়—আমি এমন করলাম কেন?”
এই জায়গাটাতেই আমাদের একটু থামা দরকার।
কারণ একজন নারী যখন বারবার নিজের আচরণ নিয়েই অপরাধবোধে ভোগেন, তখন তাকে শুধু “বদমেজাজি” বলে দেওয়া খুব সহজ।
কিন্তু তার শরীরের ভেতরে কী চলছে, সেটা বোঝার চেষ্টা করা হয় কতবার?
নারীদের মুড বা আবেগের ওপর হরমোনের পরিবর্তন প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মাসিকের আগে, গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের পর, কিংবা পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময়ে অনেকের বিরক্তি, মন খারাপ, অস্থিরতা বা মুড পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
আবার বিষয়টি শুধু নারীর প্রজনন হরমোনেই সীমাবদ্ধ নয়।
থাইরয়েডের সমস্যা, PCOS, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক কারণও মুড পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তাই প্রতিবার রাগ হলেই নিজেকে দোষ দেবেন না।
আবার প্রতিটি মুড সুইংকে শুধু “হরমোনের সমস্যা” বলেও ধরে নেবেন না।
নিজের শরীরের ভাষাটা বুঝতে চেষ্টা করুন।
মাসিকের আগে কি এমনটা বেশি হয়?
ঘুম কি ঠিক হচ্ছে?
অতিরিক্ত ক্লান্তি আছে?
ওজনের পরিবর্তন হচ্ছে?
হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, ঠান্ডা লাগা বা অন্য কোনো শারীরিক পরিবর্তন আছে?
নাকি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন?
এই ছোট ছোট বিষয়গুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
আর পরিবারকেও একটা কথা মনে রাখতে হবে—
একজন নারী হঠাৎ রেগে গেলে শুধু তার রাগটা দেখবেন না, তার ক্লান্তিটাও দেখুন।
হয়তো সে সারাদিন সংসার, সন্তান, চাকরি, পরিবার—সবকিছু সামলাতে সামলাতে নিজের জন্য একটুখানি সময়ও পায়নি।
হয়তো সে নিজেই বুঝতে পারছে না কেন তার মনটা এত অস্থির।
তাকে “নখরা করছ কেন?” বলার আগে একবার জিজ্ঞেস করুন
“তুমি ঠিক আছো তো?”
কখনো কখনো এই একটি প্রশ্নই একজন মানুষকে অনেকটা ভরসা দিতে পারে। ❤️
তবে যদি মুড পরিবর্তন বারবার হয়, দীর্ঘদিন থাকে, দৈনন্দিন জীবন বা সম্পর্ককে প্রভাবিত করে, কিংবা এর সঙ্গে অন্য শারীরিক উপসর্গ থাকে—তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নিজে থেকে হরমোনের ওষুধ বা পরীক্ষা শুরু করার প্রয়োজন নেই। আপনার উপসর্গ ও ইতিহাস অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করবেন।
আপনি একজন নারী হলে—নিজের এই পরিবর্তনগুলোকে ছোট করে দেখবেন না।
আর আপনি যদি একজন স্বামী, বাবা, ভাই বা সন্তান হন—তার আচরণের পেছনের মানুষটাকেও বোঝার চেষ্টা করুন।
কারণ সব রাগের পেছনে অহংকার থাকে না।
সব কান্নার পেছনে দুর্বলতা থাকে না।
কখনো কখনো শরীরও তার কষ্টের কথা মনের ভাষায় বলে।
আপনার বা আপনার কাছের কোনো নারীর এমন মুড পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা হয়েছে?
কমেন্টে শুধু “হ্যাঁ” লিখে জানান।
আর পোস্টটি এমন একজন মানুষের কাছে শেয়ার করুন, যিনি হয়তো আজ নিজের অজান্তেই এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
— ডা. সানজিদা ইসলাম
এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট