03/09/2026
A classic case from my chamber:
গণোরিয়া (Gonorrhea) একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং সাধারণ যৌনবাহিত রোগ (Sexually Transmitted Infection বা STD)। সঠিক সময়ে সচেতন না হলে এবং চিকিৎসা না করালে এটি পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কেস স্টাডি:
সম্প্রতি চেম্বারে এলেন ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ। তার প্রধান অভিযোগ—প্রস্রাব করার সময় তীব্র জ্বালাপোড়া বা পেইন হচ্ছে এবং প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে পুঁজ। তার বিস্তারিত হিস্ট্রি নিয়ে কথা বলে জানা গেল, কিছুদিন আগে সে অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিল। এই ছবি উনি নিজে তুলে এনেছিল।
গনোরিয়া কেন হয় এবং কীভাবে ছড়ায়?
এই রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াটির নাম Neisseria gonorrhoeae।
সংক্রমণের মাধ্যম: এটি মূলত সংক্রামিত ব্যক্তির সাথে যোনিপথ, মলদ্বার বা ওরাল মাধ্যমে (vaginal, a**l, or oral s*x) শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে ছড়ায়।
অন্যান্য মাধ্যম: আক্রান্ত মায়ের প্রসবের সময় নবজাতকের মধ্যেও এই সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
এটি হাত মেলানো, আলিঙ্গন করা বা একই তোয়ালে ব্যবহার করার মাধ্যমে ছড়ায় না।
প্রধান লক্ষণসমূহঃ
সংক্রমণের ২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সাধারণত লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। তবে অনেক সময় বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে শুরুর দিকে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে: প্রস্রাব করার সময় তীব্র জ্বালাপোড়া বা সূচ ফোটানোর মতো ব্যথা, প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে পুঁজ পড়া এবং অনেক সময় টেস্টিসে ব্যথা বা ফোলাভাব দেখা দেয়।
নারীদের ক্ষেত্রে: তলপেটে ব্যথা, জরায়ুমুখ থেকে অস্বাভাবিক স্রাব এবং মাসিক ছাড়াও রক্তপাত হতে পারে।
অন্যান্য স্থান: মলদ্বার বা গলায় ইনফেকশন হলে সেখানেও ব্যথা, অস্বস্তি বা প্রদাহ হতে পারে।
কেন চিকিৎসায় অবহেলা করা বিপজ্জনক?
চিকিৎসাবিহীন গনোরিয়া শরীরে দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা তৈরি করতে পারে:
- পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট গ্রন্থি বা টেস্টিসে ইনফেকশন হয়ে পরবর্তীতে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
-নারীদের ক্ষেত্রে পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ (PID), ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক হয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে গর্ভধারণে জটিলতা বা একটোপিক প্রেগন্যান্সির ঝুঁকি বাড়ে।
-এছাড়া রক্তে বা জয়েন্টে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে সিস্টেমিক ইনফেকশন ঘটাতে পারে।
-এছাড়াও মস্তিষ্কে ইনফেকশন হতে পারে।
চিকিৎসা ও করণীয়ঃ
দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
১. অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক (ইনজেকশন বা খাওয়ার ওষুধ) কোর্স সম্পন্ন করতে হয়।
২. পার্টনারের চিকিৎসা: যৌন সঙ্গীরও একই সাথে পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যথায় সুস্থ হওয়ার পরেও পুনরায় ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৩. চিকিৎসা চলাকালীন এবং পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্ক থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
সতর্কতা ও প্রতিরোধঃ
যেকোন যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা। নিরাপদ যৌন আচরণ বজায় রাখা, কনডম ব্যবহার করা এবং একাধিক সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা।
জনস্বার্থে শেয়ার করার অনুরোধ থাকল।
ডা. মোঃ মোস্তফা জামান
এমবিবিএস,বিসিএস।