03/10/2026
আকলিমা।
তৃতীয়বারের মতো মা হতে চলেছিল।
এর আগে দুটো সন্তানই হয়েছে সিজারিয়ান অপারেশনে।
২৫ সপ্তাহের আল্ট্রাসনোগ্রামে জানা গেল—প্লাসেন্টা জরায়ুর নিচের দিকে।
৩২ সপ্তাহে, এক রাতে হঠাৎ প্রচণ্ড পেটব্যথা শুরু হলো।
ব্যথা বাড়তে বাড়তে একসময় একলিমা প্রায় অচেতন।
গ্রামের প্রত্যন্ত একটা হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো।
কিন্তু সেখানে একটা অদ্ভুত ব্যাপার—
রক্ত কোথায়?
বাইরে কোনো রক্ত নেই।
এক ফোঁটাও না।
তবু একলিমার মুখ একেবারে সাদা। শরীর নিস্তেজ।
দেখলেই মনে হচ্ছিল, সে ভয়াবহ পরিমাণ রক্ত হারিয়েছে।
রক্তের ব্যবস্থা করতে করতেই অনেকটা সময় চলে গেল। কয়েকজন ডোনারকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় বারো ঘণ্টা পর তাকে আমাদের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলো।
আমরা দ্রুত পরীক্ষা শুরু করলাম।
প্যারাসেন্টেসিস করতেই সত্যিটা বেরিয়ে এলো—
রক্ত বাইরে বেরোয়নি। রক্ত জমছিল তার পেটের ভেতরে।
জরুরি অপারেশনে abdomen খুলে আমরা দেখলাম—
placenta percreta।
প্লাসেন্টা জরায়ুর দেয়াল ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে এসে জরায়ু perforate করেছে। আর সেই জায়গা দিয়েই রক্তক্ষরণ হয়ে পুরো abdomen রক্তে ভরে গেছে।
এক মুহূর্তের জন্য ভাবুন—
বাইরে এক ফোঁটা রক্ত নেই, অথচ একজন মা ভেতরে ভেতরে রক্তে ডুবে যাচ্ছেন।
জরুরি অপারেশন, রক্ত ও intensive management-এর পর একলিমাকে ICU-তে নিতে হলো।
একলিমার গল্পটা তাই শুধু একটা emergency-এর গল্প নয়।
এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
আগের একাধিক সিজারিয়ানের সঙ্গে প্লাসেন্টা নিচে থাকলে, সেটাকে কখনোই শুধু একটা আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট ভেবে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
কারণ সময়মতো diagnosis, সঠিক সময়ে referral, প্রস্তুত surgical team আর পর্যাপ্ত রক্ত—
কখনো কখনো এগুলোই একজন মায়ের জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানের শেষ আশ্রয়।