20/08/2026
আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন: আগস্ট ২২, ২০২০। চারিদিক করোনায় ভারাক্রান্ত। যেদিন ব্যাক ইন মোশন Back In Motion: American Health & Wellness Center তার যাত্রা শুরু করেছিল। যারা জীবনের গতি হারিয়ে ফেলেছেন, তাদের গতি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। হাজারো মানুষ এসেছেন এই ৬ বছরে ব্যথা নিয়ে, কাতরতা নিয়ে, খুঁড়িয়ে, কারও কাঁধে ভর দিয়ে, কেউ বা ক্রাচে। এমনও কেউ কেউ এসেছেন কনসাল্টিং রুমে এসে কোমর ব্যথায় বসতে পর্যন্ত পারেননি।
কেউ কেউ অবাক হয়েছেন, এক্স-রে ছাড়া, এমআরআই ছাড়া রোগ নির্ণয় সম্ভব? ব্যথার কারণ খুঁজে সেটা সমাধান করা সম্ভব? আমরা স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি যে যেই মানুষগুলো আমাদের ওপর ভরসা করেছিলেন, আমাদের ওপর তাঁদের আস্থা রেখেছিলেন। তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ তাঁদের সুস্থ হওয়ার পথে ইনভেস্ট করেছিলেন, সৃষ্টিকর্তা সাক্ষী, আমরা আমাদের পেশেন্ট কেয়ারে কোনও ছাড় দিইনি। কোনও কাট কর্নার করিনি।
আর আমাদের এই কোয়ালিটি কেয়ারের সাথে আপসহীন যেই মানুষ, তাঁর কথা আজকে না বললেই নয়, তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিজিওথেরাপির ওপর সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী (ডক্টরেট ইন ফিজিক্যাল থেরাপি) একমাত্র ফিজিওথেরাপিস্ট এবং ব্যাক ইন মোশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. তাজিয়া সরদার Dr. Tazia Sardar সুদূর আমেরিকার গোছানো এবং অভিজাত জীবন ছেড়ে তিনি এসেছিলেন বাংলাদেশে ফিজিওসেবায় গতি ফিরিয়ে দিতে। তাঁর এই সেবার মানের ব্যাপারে আপসহীনতার ছোট উদাহরণ হতে পারে: একজন স্কুলশিক্ষিকা হঠাৎ স্ট্রোক করে তাঁর এক পাশের হাত ও পা বাঁকিয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ ৬ মাস তিনি বিভিন্ন জায়গায় থেরাপি করে তাঁর আর উন্নতি হচ্ছিল না। এমন একটা সময় ড. তাজিয়া তাঁকে দেখেন এবং ধীরে ধীরে তাঁর অনেক উন্নতি হতে থাকে, একটা সময় পর দেখা যায় তাঁর হাতের উন্নতি কমে গেছে। সেই সময় নতুন রিসার্চে একটা কম্পিউটার-বেসড হ্যান্ড থেরাপি মেশিন আমেরিকায় বের হলে, তিনি আমেরিকা থেকে অর্ডার করে ওই মেশিন নিয়ে আসেন ওই রোগীর হাতের ইমপ্রুভমেন্ট যাতে কন্টিনিউ হয়।
আজ এই ৬ বছর পূর্তির প্রাক্কালে তাঁর এই চেনা পৃথিবী ছেড়ে নতুন দেশে গ্রাউন্ড জিরো থেকে শুরু করার যে স্যাক্রিফাইস, তার জন্য কৃতজ্ঞতা। সেই সাথে কৃতজ্ঞতা যারা আমাদের টিমে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর কাটিয়েছেন। তাঁদের কাছে আমার একটাই প্রমিস ছিল: প্রতিদিন তুমি নতুন কিছু শিখবে, সেটা হোক সেবা দেওয়া, সেটা হোক এমন কিছু, যেটা তুমি তোমার সাথে নিয়ে যেতে পারবে। কেউ আস্থা রেখে দীর্ঘদিন ছিল, কেউ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে, কেউ বা বিয়ে করে নতুন সংসারে গেছে। কেউ বা সোনার হরিণ সরকারি জবের আশায় নতুন পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু বলবো, কেউ কম বা বেশি, সবার শ্রমেই, সবার ঘামেই আমরা আজ হাজারেরও বেশি মানুষের সুস্থতার সাক্ষী হতে পেরেছি।
ক্রাচ ছেড়ে, অন্যের সহায়তা ছাড়া একা হেঁটে চলে গেছেন। ফ্রোজেন শোল্ডার থেকে মুক্ত হয়ে, নিজে নিজে আবার চুল আঁচড়াতে পারছেন। হাঁটুর ব্যথায় যিনি ১৫ বছর পুরো রাত ঘুমোতে পারেননি, তিনি প্রথম দিন এসেই সারা রাত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়েছেন। ২০ বছর পুরনো মানসিক চাপ তাঁর পিঠের ব্যথা তৈরি করেছিল, সেটা বলে চোখের জলে ব্যথাকে দূর করে সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন। ২ বছরের শিশু জন্মের সময় মাথায় চাপে অসমান হয়ে গিয়েছিল, ৩ দিন ট্রিটমেন্টে ব্যালান্সড হয়ে গেল। কত কাহিনি বলবো?
আমাদের কাছে প্রতিটা অসুস্থ মানুষ এসেছিলেন ডানা ভাঙা পাখির মতো। আর যেদিন পাখায় গতি পেয়ে উড়ে ফিরে গেছেন, সেদিন ছিল চারিদিকে আনন্দ। তাঁরা সবাই আমাদের ভুলে যাননি। অনেকেই প্রিয়জন নিয়ে হাজির হয়েছেন তাঁদের সুস্থতার নতুন গল্পে অংশ নিতে। এদের সবার প্রতিই আমাদের কৃতজ্ঞতা।
পরিশেষে এই সপ্তম বছরে আরও কিছু নতুন যাত্রার অভিপ্রায় এবং আরও হাজারো মানুষের হারানো গতিকে ফিরিয়ে দিতে কাজ করার এবং মমতার ডানা মেলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন এবং দোয়া করবেন।