Dr. Md Abdullah Yousuf

Dr. Md Abdullah Yousuf Dr. Yousuf is a USA Board Certified Physician Specialized in Family Medicine & Osteopathic Manipulative Treatment.
(5)

24/08/2026

কোমর ব্যাথার ঘরোয়া সমাধান

অনেকে জানতে চান, ফ্রোজেন শোল্ডারের ইনস্ট্যান্ট কোনো সমাধান আছে কিনা।  সোজা কথায় বলতে গেলে ফ্রোজেন শোল্ডারের রাতারাতি বা ...
24/08/2026

অনেকে জানতে চান, ফ্রোজেন শোল্ডারের ইনস্ট্যান্ট কোনো সমাধান আছে কিনা। সোজা কথায় বলতে গেলে ফ্রোজেন শোল্ডারের রাতারাতি বা জাদুর মতো কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। যেহেতু জয়েন্টের ভেতরের ক্যাপসুল শক্ত ও সংকুচিত হয়ে যায়, তাই এটাকে এক মুহূর্তে একদম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যথার তীব্রতা খানিকটা কমানোর জন্য কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া যায় যেমন:

✔️ তীব্র ব্যথা থাকলে ১০-১৫ মিনিটের জন্য আইস প্যাক লাগালে জায়গাটা কিছুটা অবশ হয়ে ব্যথা কমে। আর কাঁধ শক্ত হয়ে থাকলে হালকা গরম সেক দিলে পেশি কিছুটা শিথিল হয়।

✔️ কাঁধ একদম না নাড়িয়ে রেখে দিলে এটা আরও বেশি জমে যায়। তাই ব্যথার সীমা বুঝে খুব হালকা পেন্ডুলাম এক্সারসাইজ করা যেতে পারে।

✅ ফ্রোজেন শোল্ডারের মূল সমাধান
আমাদের কাঁধ একা কাজ করে না। ঘাড়, পিঠের স্পাইন, বুকের পাঁজর এবং কলার বোন সবকিছুর সমন্বয়ে হাত নাড়াতে হয়। ফ্রোজেন শোল্ডারে আমরা প্রথমে দেখি কাঁধের পাশাপাশি ঘাড় বা পিঠের বায়োমেকানিক্সে কোনো ব্লকেজ বা সমস্যা আছে কি না। কাঁধের চারপাশের মাংসপেশি, টেন্ডন এবং ফাসিয়া অতিরিক্ত শক্ত ও টানটান হয়ে থাকে। অস্টিওপ্যাথিক ম্যানুয়াল থেরাপির মাধ্যমে আলতোভাবে এই টিস্যুগুলোর ব্লাড সার্কুলেশন বা রক্ত সঞ্চালন বাড়ানো হয়, যেন ইনফ্লামেশন কমে আসে। ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে ধাপে ধাপে জয়েন্টের ভেতরের ক্যাপসুলটির স্ট্রেচিং করানো হয়। কোনো জোরজবরদস্তি বা ঝাঁকুনি ছাড়াই সূক্ষ্ম মবিলাইজেশন আর্টসের মাধ্যমে ধীরে ধীরে কাঁধের স্বাভাবিক নড়াচড়ার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা হয়। কাঁধের অংশে রক্ত সরবরাহ এবং স্নায়বিক যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ঘাড় এবং পিঠের যে অংশ থেকে কাঁধে রক্ত ও নার্ভের সিগন্যাল যায়, অস্টিওপ্যাথিক এডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে সেই রাস্তা সহজ করা হয়।

ফ্রোজেন শোল্ডার সেরে উঠতে কিছুটা সময় এবং ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। ওষুধ খেয়ে ব্যথা সাময়িক চেপে না রেখে, অস্টিওপ্যাথিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে শরীরকে স্বাভাবিক নিয়মে সুস্থ করে তোলাই হচ্ছে এর দীর্ঘস্থায়ী সমাধান।

ডাঃ মোঃ আবদুল্লাহ ইউসুফ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইউএসএ

কোমর ব্যথা আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি সমস্যা। সাধারণ পেশির টান বা সামান্য ডিস্কের সমস্যা ভেবে অনেকেই একে দিনের পর দিন ...
23/08/2026

কোমর ব্যথা আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি সমস্যা। সাধারণ পেশির টান বা সামান্য ডিস্কের সমস্যা ভেবে অনেকেই একে দিনের পর দিন অবহেলা করেন। কিন্তু সব কোমর ব্যথা সাধারণ নয়; কিছু ব্যথা সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক বিপর্যয়ের সংকেত দেয়। এমনই একটি জরুরি ও বিপজ্জনক শারীরিক অবস্থা হলো কাউডা ইকুইনা সিন্ড্রোম বা Cauda Equina Syndrome.

আমাদের মেরুদণ্ডের শেষ ভাগে এসে স্পাইনাল কর্ড বা সুষুম্নাকাণ্ডটি ছোট ছোট একগুচ্ছ স্নায়ুতে বিভক্ত হয়ে নিচে নেমে যায়। এই স্নায়ুগুচ্ছ দেখতে অনেকটা ঘোড়ার লেজের মতো দেখায় বলে লাতিন ভাষায় একে কাউডা ইকুইনা বলা হয়। এই স্নায়ুগুলো আমাদের নিতম্ব, উরু, পায়ের নড়াচড়া এবং মূত্রাশয় ও অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করে। কোনো কারণে যেমন খুব বড় ধরনের ডিস্ক হার্নিয়েশন, মেরুদণ্ডের ফ্র্যাকচার, টিউমার বা ইনফেকশনে যদি এই পুরো স্নায়ুগুচ্ছের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, তখন স্নায়ুগুলো হঠাৎ তাদের কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে।

কাউডা ইকুইনা সিন্ড্রোমের প্রধান লক্ষণসমূহ:
🔸 সাইকেলের সিটে বসলে শরীরের যে যে অংশ স্পর্শ করে যেমন নিতম্ব, উরুর ভেতরের অংশ এবং যৌনাঙ্গের চারপাশ সেখানে পুরোপুরি অবশ বোধ হওয়া।

🔸 প্রস্রাব আটকে রাখা সম্ভব না হওয়া, হঠাৎ করে না চাইতেই বের হয়ে যাওয়া, অথবা প্রস্রাবের তীব্র বেগ থাকলেও প্রস্রাব না হওয়া।

🔸 এক বা দুই পায়ে তীব্র ব্যথা নেমে আসার পাশাপাশি পায়ের শক্তি কমে যাওয়া, যার ফলে হাঁটতে গেলে ভারসাম্য রাখা অসম্ভব হয়ে পড়া।

🔸 পায়ের পাতা বা আঙুলে মারাত্মক ঝিনঝিন করা, অবশ ভাব বা পা অবশ হয়ে ভারী হয়ে যাওয়া।

ডাঃ মোঃ আবদুল্লাহ ইউসুফ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইউএসএ

আমাদের শরীর কিন্তু বেশ স্মার্ট। ছোটখাটো কোনো সমস্যা হলে সে হালকা ব্যথার মাধ্যমে আমাদের সতর্ক করে, আবার বড় কোনো বিপদের আভ...
22/08/2026

আমাদের শরীর কিন্তু বেশ স্মার্ট। ছোটখাটো কোনো সমস্যা হলে সে হালকা ব্যথার মাধ্যমে আমাদের সতর্ক করে, আবার বড় কোনো বিপদের আভাস থাকলে দেয় তীব্র ও হঠাৎ তৈরি হওয়া কিছু এলার্ম সংকেত। মানুষের পুরো শরীর একটি ইন্টারকানেক্টেড সিস্টেম অর্থাৎ, শরীরের এক অংশের স্নায়ু বা রক্তনালীর চাপ অন্য অংশে প্রতিফলিত হতে পারে। যেমন কাঁধের একটি সাধারণ ব্যথা কেবল পেশির টান না হয়ে হৃদযন্ত্র বা পিত্তথলির কোনো ভেতরের সমস্যার সংকেতও হতে পারে। সব ব্যথাকে পেইনকিলার খেয়ে চেপে রাখা একদমই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কিছু ব্যথা আছে যা দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে হাসপাতালে যাওয়া উচিত।

বুকে বা পিঠের উপরিভাগে তীব্র চাপ ও ব্যথা
বুকের মাঝখানে ভার অনুভব হওয়া, যা ধীরে ধীরে বাম হাত, চোয়াল বা পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এটি হার্ট এটাকের স্পষ্ট লক্ষণ হতে পারে। সাথে যদি অতিরিক্ত ঘাম ও শ্বাসকষ্ট থাকে, তবে এক সেকেন্ডও দেরি করা যাবে না।

জীবনকালে আগে কখনো পাননি এমন হঠাৎ ও তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে তা ব্রেন এনিউরিজম বা স্ট্রোকের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। সঙ্গে বমি ভাব বা ঝাপসা দেখার অনুভূতি থাকলে দ্রুত ইমার্জেন্সিতে যেতে হবে।

সাধারণ কোমর ব্যথা অস্টিওপ্যাথিক ম্যানিপুলেশনে ভালো হলেও, ব্যথার সাথে যদি হঠাৎ প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় এবং পায়ের দিকে অবশ ভাব ছড়ায়, তবে এটি কাউডা ইকুইনা সিন্ড্রোম (Cauda Equina Syndrome)-এর লক্ষণ। মেরুদণ্ডের নিচের অংশের স্নায়ু অতিরিক্ত চেপে গেলে এটি হয়, যা দ্রুত অপারেশন না করালে স্থায়ী পঙ্গুত্ব ঘটাতে পারে।

পায়ের পেছনের পেশিতে হুট করে মারাত্মক ব্যথা, ফুলে যাওয়া এবং জায়গাটি গরম অনুভব হলে সতর্ক হন। এটি রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা বা Deep Vein Thrombosis এর লক্ষণ। এই জমাট বাঁধা রক্ত ফুসফুসে চলে গেলে জীবনঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পেটের নিচের ডান বা বাম দিকে মারাত্মক ব্যথা, পেটে চাপ দেওয়া মাত্রই সহ্য করতে না পারা এবং সাথে জ্বর বা বমি থাকা অ্যাপেন্ডিসাইটিস কিংবা কোনো অভ্যন্তরীণ অঙ্গের গুরুতর ইনফ্লামেশন নির্দেশ করে।

শরীর যখন এমন কোনো জরুরি রেড ফ্ল্যাগ দেখায়, তখন তা ওষুধ দিয়ে সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখা বিপজ্জনক। নিজের শরীরের ভাষাকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, সুস্থ থাকুন।

আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন: আগস্ট ২২, ২০২০। চারিদিক করোনায় ভারাক্রান্ত। যেদিন ব্যাক ইন মোশন Back In Motion: American He...
20/08/2026

আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন: আগস্ট ২২, ২০২০। চারিদিক করোনায় ভারাক্রান্ত। যেদিন ব্যাক ইন মোশন Back In Motion: American Health & Wellness Center তার যাত্রা শুরু করেছিল। যারা জীবনের গতি হারিয়ে ফেলেছেন, তাদের গতি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। হাজারো মানুষ এসেছেন এই ৬ বছরে ব্যথা নিয়ে, কাতরতা নিয়ে, খুঁড়িয়ে, কারও কাঁধে ভর দিয়ে, কেউ বা ক্রাচে। এমনও কেউ কেউ এসেছেন কনসাল্টিং রুমে এসে কোমর ব্যথায় বসতে পর্যন্ত পারেননি।

কেউ কেউ অবাক হয়েছেন, এক্স-রে ছাড়া, এমআরআই ছাড়া রোগ নির্ণয় সম্ভব? ব্যথার কারণ খুঁজে সেটা সমাধান করা সম্ভব? আমরা স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি যে যেই মানুষগুলো আমাদের ওপর ভরসা করেছিলেন, আমাদের ওপর তাঁদের আস্থা রেখেছিলেন। তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ তাঁদের সুস্থ হওয়ার পথে ইনভেস্ট করেছিলেন, সৃষ্টিকর্তা সাক্ষী, আমরা আমাদের পেশেন্ট কেয়ারে কোনও ছাড় দিইনি। কোনও কাট কর্নার করিনি।

আর আমাদের এই কোয়ালিটি কেয়ারের সাথে আপসহীন যেই মানুষ, তাঁর কথা আজকে না বললেই নয়, তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিজিওথেরাপির ওপর সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী (ডক্টরেট ইন ফিজিক্যাল থেরাপি) একমাত্র ফিজিওথেরাপিস্ট এবং ব্যাক ইন মোশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. তাজিয়া সরদার Dr. Tazia Sardar সুদূর আমেরিকার গোছানো এবং অভিজাত জীবন ছেড়ে তিনি এসেছিলেন বাংলাদেশে ফিজিওসেবায় গতি ফিরিয়ে দিতে। তাঁর এই সেবার মানের ব্যাপারে আপসহীনতার ছোট উদাহরণ হতে পারে: একজন স্কুলশিক্ষিকা হঠাৎ স্ট্রোক করে তাঁর এক পাশের হাত ও পা বাঁকিয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ ৬ মাস তিনি বিভিন্ন জায়গায় থেরাপি করে তাঁর আর উন্নতি হচ্ছিল না। এমন একটা সময় ড. তাজিয়া তাঁকে দেখেন এবং ধীরে ধীরে তাঁর অনেক উন্নতি হতে থাকে, একটা সময় পর দেখা যায় তাঁর হাতের উন্নতি কমে গেছে। সেই সময় নতুন রিসার্চে একটা কম্পিউটার-বেসড হ্যান্ড থেরাপি মেশিন আমেরিকায় বের হলে, তিনি আমেরিকা থেকে অর্ডার করে ওই মেশিন নিয়ে আসেন ওই রোগীর হাতের ইমপ্রুভমেন্ট যাতে কন্টিনিউ হয়।

আজ এই ৬ বছর পূর্তির প্রাক্কালে তাঁর এই চেনা পৃথিবী ছেড়ে নতুন দেশে গ্রাউন্ড জিরো থেকে শুরু করার যে স্যাক্রিফাইস, তার জন্য কৃতজ্ঞতা। সেই সাথে কৃতজ্ঞতা যারা আমাদের টিমে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর কাটিয়েছেন। তাঁদের কাছে আমার একটাই প্রমিস ছিল: প্রতিদিন তুমি নতুন কিছু শিখবে, সেটা হোক সেবা দেওয়া, সেটা হোক এমন কিছু, যেটা তুমি তোমার সাথে নিয়ে যেতে পারবে। কেউ আস্থা রেখে দীর্ঘদিন ছিল, কেউ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে, কেউ বা বিয়ে করে নতুন সংসারে গেছে। কেউ বা সোনার হরিণ সরকারি জবের আশায় নতুন পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু বলবো, কেউ কম বা বেশি, সবার শ্রমেই, সবার ঘামেই আমরা আজ হাজারেরও বেশি মানুষের সুস্থতার সাক্ষী হতে পেরেছি।

ক্রাচ ছেড়ে, অন্যের সহায়তা ছাড়া একা হেঁটে চলে গেছেন। ফ্রোজেন শোল্ডার থেকে মুক্ত হয়ে, নিজে নিজে আবার চুল আঁচড়াতে পারছেন। হাঁটুর ব্যথায় যিনি ১৫ বছর পুরো রাত ঘুমোতে পারেননি, তিনি প্রথম দিন এসেই সারা রাত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়েছেন। ২০ বছর পুরনো মানসিক চাপ তাঁর পিঠের ব্যথা তৈরি করেছিল, সেটা বলে চোখের জলে ব্যথাকে দূর করে সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন। ২ বছরের শিশু জন্মের সময় মাথায় চাপে অসমান হয়ে গিয়েছিল, ৩ দিন ট্রিটমেন্টে ব্যালান্সড হয়ে গেল। কত কাহিনি বলবো?

আমাদের কাছে প্রতিটা অসুস্থ মানুষ এসেছিলেন ডানা ভাঙা পাখির মতো। আর যেদিন পাখায় গতি পেয়ে উড়ে ফিরে গেছেন, সেদিন ছিল চারিদিকে আনন্দ। তাঁরা সবাই আমাদের ভুলে যাননি। অনেকেই প্রিয়জন নিয়ে হাজির হয়েছেন তাঁদের সুস্থতার নতুন গল্পে অংশ নিতে। এদের সবার প্রতিই আমাদের কৃতজ্ঞতা।

পরিশেষে এই সপ্তম বছরে আরও কিছু নতুন যাত্রার অভিপ্রায় এবং আরও হাজারো মানুষের হারানো গতিকে ফিরিয়ে দিতে কাজ করার এবং মমতার ডানা মেলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন এবং দোয়া করবেন।

19/08/2026

এক্সারসাইজ নাকি মুভমেন্ট কোনটা করবেন?

আমাদের শরীরের সম্পূর্ণ কাঠামোকে সোজা রাখতে এবং প্রতিদিনের স্বাভাবিক চলাফেরা বজায় রাখতে প্রধান ভিত্তি হলো মেরুদণ্ড। শরীর ...
19/08/2026

আমাদের শরীরের সম্পূর্ণ কাঠামোকে সোজা রাখতে এবং প্রতিদিনের স্বাভাবিক চলাফেরা বজায় রাখতে প্রধান ভিত্তি হলো মেরুদণ্ড। শরীর কেবল আলাদা আলাদা কিছু অঙ্গের সমষ্টি না, বরং পুরো শরীর একটি সমন্বিত ব্যবস্থা। আর এই ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র হলো মেরুদণ্ড। কারণ, মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়েই আমাদের মূল স্নায়ু বা নার্ভগুলো শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।
যখন আপনার মেরুদণ্ডে কোনো সমস্যা তৈরি হয় তখন এর প্রভাব শুধু পিঠ বা কোমরেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আপনার রক্ত সঞ্চালন, স্নায়ুর কার্যক্ষমতা এবং শরীরের নিজেকে নিজে সুস্থ রাখার স্বাভাবিক ক্ষমতাকেও ধীর করে দেয়।

অনেক সময় আমরা নিজেরাই খেয়াল করি না যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের অজান্তেই গড়ে ওঠা কিছু ছোট ছোট অভ্যাস কীভাবে মেরুদণ্ডকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক দৈনন্দিন জীবনের এমন ৭টি ভুল সম্পর্কে

1️⃣ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাড় নিচু করে ফোন বা ল্যাপটপ দেখা

2️⃣ একটানা বসে থাকা এবং কুঁজো হয়ে বসা

3️⃣ কোমর ঝুঁকিয়ে ভারী জিনিস তোলা

4️⃣ ভুল পজিশনে ঘুমানো বা ভুল ম্যাট্রেসে ঘুমানো

5️⃣ এক কাঁধে ভারী ব্যাগ ঝুলিয়ে রাখা

6️⃣ আনকম্ফোর্টেবল জুতা পড়া

7️⃣ পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া ও অলস জীবনযাপন

মেরুদণ্ড কেবল হাড়ের একটি স্তম্ভ নয়, এটি আপনার পুরো শরীরের প্রাণশক্তি চলাচলের মাধ্যম। আজ থেকেই এই ছোট ছোট ভুলগুলো শুধরে নিন এবং আপনার মেরুদণ্ডকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখুন।

ডাঃ মোঃ আবদুল্লাহ ইউসুফ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইউএসএ

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সংসারের হাজারো কাজ একা হাতে সামলান ঘরের গৃহিণীরা। রান্না করা, ঘর মোছা, বাসন মাজা, বাচ্চাদের সামলান...
18/08/2026

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সংসারের হাজারো কাজ একা হাতে সামলান ঘরের গৃহিণীরা। রান্না করা, ঘর মোছা, বাসন মাজা, বাচ্চাদের সামলানো থেকে শুরু করে টুকিটাকি সব কাজ। বাইরে থেকে মনে হতে পারে এগুলো তো সাধারণ দৈনন্দিন কাজ, কিন্তু শরীরের ওপর দিনশেষে এর প্রভাব কতটা পড়ে, তা কেবল তারাই বোঝেন। কষ্টের বিষয় হলো, অধিকাংশ সময় এই ব্যথাগুলোকে তারা খুব সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যান অথবা পেইনকিলার খেয়ে সাময়িক আরাম খোঁজেন।

আমাদের কঙ্কাল ও পেশির বিন্যাস এবং শরীরের সার্বিক কাজকর্ম একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। যখন শরীরের এক জায়গায় অতিরিক্ত চাপ পড়ে বা টিস্যুতে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, তখন তার প্রভাব পুরো শরীরের ওপর পড়ে। গৃহিণীদের প্রতিনিয়ত যেসব শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ও নড়াচড়া করতে হয়, সেগুলোর কারণেই মূলত কোমর ও ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

গৃহিণীদের ঘাড় ও কোমর ব্যথার মূল কারণসমূহ:

✅ একটানা ঝুঁকে কাজ করা ও ভুল অঙ্গভঙ্গি

আমাদের মাথার গড় ওজন প্রায় ৪-৫ কেজি। মাথা যখন সোজা থাকে, ঘাড়ের ওপর এই ওজনের চাপই পড়ে। কিন্তু রান্নাঘরের স্ল্যাবে বা নিচে বসে সবজি কাটার সময় যখন আমরা ১৫-৩০ ডিগ্রি ঝুঁকে কাজ করি, তখন ঘাড়ের পেশিতে সেই ওজনের চাপ বেড়ে প্রায় ১৫-২০ কেজির মতো হয়ে যায়। বছরের পর বছর প্রতিদিন এই অতিরিক্ত চাপের কারণে ঘাড়ের স্পাইনাল ডিস্ক এবং পেশিতে জয়েন্ট ব্লক বা ডিস্কের ক্ষয় তৈরি হয়।

✅ বারবার একই ধরনের নড়াচড়া
ঝাড়ু দেওয়া, ঘর মোছা, কাপড় কাচা বা ভারী বালতি তোলার সময় শরীরকে একপাশে মোচড় দিতে হয়। আমরা এটাকে বলি মায়োফ্যাশিয়াল ইমব্যালেন্স। অর্থাৎ, একপাশের পেশি অতিরিক্ত টানটান হয়ে শক্ত হয়ে যায়, আর অন্যপাশের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বিন্যাস নষ্ট হয়ে কোমরে ও ঘাড়ে ক্রনিক ব্যথা শুরু হয়।

✅ কোর পেশির দুর্বলতা
সারা দিন ঘরে এত হেঁটে কাজ করা সত্ত্বেও কেন কোমর ব্যথা হয়? কারণ দৈনন্দিন কাজের সময় আমাদের পেটের ও পিঠের ভেতরের গভীর পেশিগুলো সঠিকভাবে কার্যকর থাকে না। গৃহিণীদের নিয়মিত সঠিক ব্যায়ামের অভাব থাকায় এই কোর মাসল দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মেরুদণ্ডকে সোজা রাখার মূল ভারটি গিয়ে পড়ে কোমরের হাড় ও জয়েন্টের ওপর।

✅ টিস্যুতে রক্ত ও তরল চলাচলে বাধা
যখন কোনো পেশি একটানা শক্ত বা টানটান হয়ে থাকে, তখন সেই এলাকার ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলোতে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। ফলে পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না এবং বর্জ্য পদার্থ জমা হতে থাকে। এতে পেশিতে শক্ত ভাব, কামড়ানো ব্যথা বা জ্বালা অনুভব হয়।

✅ মানসিক চাপ ও স্নায়ুর টান
সংসার সামলানোর মানসিক চাপ, ক্লান্তি আর নিজের জন্য সময় বা বিশ্রামের অভাব সরাসরি আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। স্ট্রেসে থাকলে অজান্তেই আমাদের ঘাড়ে ও কাঁধের পেশি শক্ত হয়ে থাকে। ফলে রক্ত সঞ্চালন কমে গিয়ে ঘাড় আটকে যাওয়া বা ঘাড় থেকে মাথায় ব্যথা ছড়িয়ে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

একটানা ২০-৩০ মিনিটের বেশি ঝুঁকে কাজ করবেন না। কাজের মাঝেই সোজা হয়ে দাঁড়ান এবং কয়েক সেকেন্ড হালকা স্ট্র্যাচ করুন। রান্নাঘরের কাউন্টার এমন উচ্চতায় রাখুন যেন খুব বেশি ঝুঁকে কাজ করতে না হয়। কোমর বাঁকিয়ে ঝুঁকে ভারী কিছু না তুলে, হাঁটু ভেঙে নিচে বসে বস্তুটি শরীরের কাছাকাছি এনে সোজা হয়ে উঠুন। পেশিগুলোর নিজের থেকে সেরে ওঠার জন্য দৈনিক পর্যাপ্ত ঘুম এবং সারাদিনের কাজের মাঝে নিজের জন্য অন্তত কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ডাঃ মোঃ আবদুল্লাহ ইউসুফ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইউএসএ

আমাদের শরীরটা একটা অদ্ভুত চমৎকার মেকানিজম। এখানে একটি হাড়, পেশি বা জয়েন্ট কখনো একা একা কাজ করে না সবকিছু একটার সাথে আরেক...
17/08/2026

আমাদের শরীরটা একটা অদ্ভুত চমৎকার মেকানিজম। এখানে একটি হাড়, পেশি বা জয়েন্ট কখনো একা একা কাজ করে না সবকিছু একটার সাথে আরেকটা ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ধরুন, আপনার পায়ের পাতায় কোনো সূক্ষ্ম সমস্যা হলো সেটির প্রভাবে হাঁটতে গিয়ে কোমরে চাপ পড়তে পারে, আর সেই কোমর ব্যথা থেকে একসময় ঘাড়ে টান লাগা বা মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।

অস্টিওপ্যাথি হলো সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক এবং ড্রাগ ফ্রি একটি ম্যানুয়াল থেরাপি। এখানে শুধু রোগের উপশম বা ব্যথাটাকে সাময়িকভাবে চেপে রাখা হয় না, বরং পুরো শরীরের গঠনগত ভারসাম্য ও নড়াচড়ার ক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করে ব্যথার আসল উৎসটা খুঁজে বের করা হয়। হাতের স্পর্শ, হালকা স্ট্রেচিং, মাসল রিলিজ এবং জয়েন্টের সচলতা বাড়ানোর মাধ্যমে আপনার শরীরকে তার নিজের স্বাভাবিক নিরাময় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনাই আমাদের কাজ। অস্টিওপ্যাথিক চিকিৎসা কি শুধু হাড়ের মারাত্মক রোগীদের জন্য? নাকি সাধারণ মানুষও এটা নিতে পারেন? সত্যি বলতে, জীবনের প্রায় প্রতিটি বয়সে এবং দৈনন্দিন যেকোনো শারীরিক অস্বস্তিতে অস্টিওপ্যাথি দারুণ কাজ করে।

আপনি কি প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন? ঘাড় ব্যথা, পিঠ জমে যাওয়া বা কোমরের যন্ত্রণা কি আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী? দীর্ঘক্ষণ এক ভঙ্গিতে বসে থাকার ফলে শরীরের পেশির ভারসাম্য নষ্ট হয়। অস্টিওপ্যাথিক থেরাপি পোশ্চার ঠিক করে এসব যন্ত্রণার টেকসই সমাধান দেয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া, আর্থ্রাইটিস বা চলাফেরার গতি কমে যাওয়া স্বাভাবিক। অস্টিওপ্যাথির হালকা ও gentle টেকনিকগুলো প্রবীণদের জয়েন্টের স্বাভাবিক নমনীয়তা ফিরিয়ে আনে, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং কোনো ভারী ওষুধ ছাড়াই তাঁদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে সাহায্য করে।

যাঁরা নিয়মিত খেলাধুলা করেন, জিম করেন বা শারীরিক কসরতের মধ্যে থাকেন যেকোনো সময় তাঁদের মাসল পুল, টিস্যু ইনজুরি বা লিগামেন্টে টান পড়তে পারে। অস্টিওপ্যাথিক থেরাপি খেলোয়াড়দের ইনজুরি দ্রুত সারিয়ে তোলে এবং পারফর্ম্যান্স ধরে রাখতে সাহায্য করে।

গর্ভকালীন সময়ে শরীরের ওজন ও ভরকেন্দ্র বদলে যাওয়ার কারণে কোমর ও পেলভিক অঞ্চলে বেশ ব্যথা হয়। এই সময়ে কোনো ক্ষতিকর ব্যথানাশক ওষুধ না খেয়ে, সেফ ম্যানুয়াল থেরাপির মাধ্যমে গর্ভকালীন কোমর ব্যথা এবং প্রসব পরবর্তী শরীরের গঠন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অস্টিওপ্যাথি অত্যন্ত নিরাপদ।

মাইগ্রেন, টেনশন হেডেক, সাইটিকা কিংবা ফ্রোজেন শোল্ডারের সমস্যায় যাঁরা মাসের পর মাস ভুগছেন এবং বারবার ব্যথানাশক খেয়ে সাময়িক আরাম খুঁজছেন অস্টিওপ্যাথি তাঁদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্বস্তি এনে দেয়।

ছোট বাচ্চাদের জন্যও অস্টিওপ্যাথি দারুণ কাজ করে। প্রসবের সময়ের নানা চাপের কারণে অনেক শিশুর মাথা বা ঘাড়ে সূক্ষ্ম টান সৃষ্টি হয়, যা থেকে পেটে গ্যাস, ঘুমের সমস্যা বা অতিরিক্ত কান্নাকাটির অভ্যাস হতে পারে। অত্যন্ত মৃদু ক্রেনিয়াল অস্টিওপ্যাথি দিয়ে ছোটদের এই অস্বস্তিগুলো সহজেই দূর করা সম্ভব।

ছোট শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ বয়সের যে কেউ, যাঁরা ওষুধ বা সার্জারির ঝামেলা এড়িয়ে শরীরের নিজস্ব নিরাময় শক্তির সাহায্যে ব্যথামুক্ত জীবন পেতে চান, তাঁদের সবার জন্যই অস্টিওপ্যাথি একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।

ডাঃ মোঃ আবদুল্লাহ ইউসুফ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইউএসএ

Address

Zaraa Convention Center (4th Floor), House#7, Road#14, Gulshan/1
Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Md Abdullah Yousuf posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Md Abdullah Yousuf:

Shortcuts

Share