28/07/2026
মারদিয়া মুমতাজ, মাননীয় এমপিকে খোলা চিঠি,(সংরক্ষিত মহিলা আসন,জামায়াত মনোনীত )
মুহতারামা,
আসসালামুয়ালাইকুম আলাইকুম।
আপনার সর্বাত্মক সুস্থতা ও সফলতা কামনা করছি ।আশা করি, যে কোন ভাবেই হোক, আমার এ চিঠি আপনি পড়বেন।
আপনি মেধাবী,উচ্চ শিক্ষিত, আপনার নিজের একটা দর্শন আছে, যেটা আপনি ফলো করছেন। আপনি ডান পন্থিদের কাতারে থাকতে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। আর এজন্য আপনি জামায়াতের আদর্শিক স্ট্যান্ড "মধ্য পন্থা" পছন্দ করছেন এবং সেদিকে নিজে জামায়াতের favour এ ইসলামের মধ্য পন্থার উদারতার দিকে Audience কে আকৃষ্ট করার জন্য মার্কেটিং করছেন।আমি ইচ্ছে করেই মার্কেটিং শব্দটি ব্যবহার করলাম, যেহেতু অধুনিক এ প্রযুক্তির জামানায় প্রত্যেকেই দিন শেষে নিজেকে ব্রান্ড করে সমাজে প্রকাশ করার নিরন্তর প্রচেষ্টায় মত্ত। পুরাটাই মার্কেটিং।ব্যাক্তি বিষয়টি বুঝুক আর না বুঝুক।
আমি শৈশব গ্রামের মাদ্রাসায় পড়েছি।বই গুলোতে পর্দার বিষয় আছে, শিক্ষিকগণ পর্দার আয়াত পড়ায়ে সে গুলো বাস্তবাতার আলোকে ব্যাখ্যা করতেন।শৈশবের ঐ বুঝটার সাথে আমাদের গ্রাম্য মুসলিম সমাজের নারী ও পুরুষের পর্দা পালনের বিষয় দেখে যতটুকু বুঝার বুঝেছি, যেখানে ইসলামের পর্দা প্রথার সামগ্রিক হাকিকতের সাথে আমাদের প্রচলিত সমাজের পর্দা পালনের বিষয়টা অনেকটাই মিল নেই। এখানে সামগ্রিক ভাবে পর্দার মূল হাকিকত প্রকাশ পায়নি,যে জন্য আল্লাহ পর্দার বিধানটি নবীজির মাধ্যমে মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন।
এর পর শৈশবের গন্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের সুনামধন্য একটা মাদ্রাসায় আলিম থেকে কামিল পড়লাম, সাথে ইউনিভার্সিটিতে পড়লাম। পৃথিবীর নামী-দামী ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করা ছাত্ররা যেখানে শিক্ষকতা করেন এমন মাদ্রাসায় পড়লাম।যেখানে শিবিরের এবং জামায়াতের গঠনমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে, বিভিন্ন সেমিনার,সিম্পোজিয়াম, শববেদারী,সাপ্তাহিক, মাসিক প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত মানুষের জীবনে প্রয়োজনীয় টপিক্স নিয়ে আলোচনা হয়।
জামায়াত শিবিরের প্রোগ্রামে যে সকল প্রাজ্ঞ ও পন্ডিতগণ আলোচনা করতেন, তাদের মাধ্যমে ইসলামের একটা ফরজ বিধান পর্দার আসল ও হাকিকী রূপ জানতে পারলাম, যেটা শরীয়ত সম্মত,এবং এটাই বাস্তব। যেটা অবস্থার আলোকে মূল নসকে ঠিক রেখে আল্লাহর হুকুম এবং রাসূলের সুন্নাহকে প্রমোট করে।যেটা জামায়াতের মধ্যে চর্চা করা হয়।কিন্ত পর্দা পালন করতে গিয়ে জামায়াত এবং শিবির কখনোই অতিরঞ্জিত করে না।এখানে একটা বিষয় উল্লেখ্য, সকলের আমলী জিন্দগী এক রকম নয়।
কেন পর্দার বিধান:
এটা সম্পূর্ণ আমার কথা - পুরুষ হিসাবে নিজের মনের চাহিদার আলোকে বলছি:
ক) অবচেতন ভাবেই পুরুষমন নারীর প্রতি বিমোহীত এবং প্রলুব্দ। এটা পুরাটাই মনের অবস্থা,যেখানে কারোই কোন কন্ট্রোল নেই।
খ) ছেলে শিশুও জন্মগত ভাবে মেয়ে শিশুর প্রতি আকৃষ্ট, এই আকর্ষণ নিয়েই বড় হয়।
গ) বাংলায় নিষিদ্ধ নারী নামে একটা অনুদিত বই আছে, সেখানে পশ্চিমা ঐ লেখক দাবী করেছেন, পুরুষের স্বভাব এমন যে, সে নারীকে দেখলেই যাকে তার পছন্দ তাকে কল্পনায় ধর্ষণ করে।আর এটা কোন গাল গল্প নয়, পুরষ স্বভাবের মধ্যেই এটা লুকিয়ে আছে , সে বলুক আর না বলুক।এজন্যই পুরুষ ''শিশু থেকে বৃদ্ধা" সকল নারীর প্রতিই আকৃষ্ট হয়।এজন্যই পর্দার বিধান করা হয়েছে । এজন্যই একান্ত নিরিবিলি পরিবেশে একজন নারী এবং একজন পুরুষের আলাপ নিষিদ্ধ, যদি তারা স্বামী স্ত্রী না হন।
এখন আসা যাক মুখ খুলে চলা ফেরার বিষয়ে, যদি কেউ অন্তর দিয়ে নিজের স্বামীর প্রতি আনুগত্যপরায়ন হয়,তবে সে নিজের চেহারা অন্যকে দেখাতে ইতস্তত করবেন এটাই স্বাভাবিক। নিজের চেহারা প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা না থাকলে কখনোই কোন সম্ভ্রান্ত নারী নিজের চেহারা প্রকাশ করতে পারেনা।
যে নারী অবশ্যই জানেন যে, পুরুষের স্বভাবই হলো নারীকে দেখলে তার ব্যাপারে কল্পনায় বিভিন্ন কুচিন্তা করা, সেখানে নিজের চেহারা প্রকাশ করে অন্য পুরুষের অন্তরে কুচিন্তার উদ্রেক করার সুযোগ সৃষ্টি করা কোন সম্ভ্রান্ত নারীর কাজ হতে পারে না।
শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু হওয়ার কারনে আল্লাহ ওয়ালা হওয়ার চেষ্টায় ব্রত থাকা কোন নারী বা পুরুষের পক্ষে কি এটা শোভনীয় কাজ হবে ? যে সে তার শত্রুকে সুযোগ করে দিবে তার প্রভুর সান্নিধ্য লাভ থেকে দূরে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী করে দেয়ার জন্যে?
মাননীয় মন্ত্রী মারদিয় মুমতাজ , আপনি কি মনে করেন আপনার খোলা মুখ দেখে পুরুষরা আপনাকে তাদের কামনায় পেতে থাকুক?
জামায়াতের কোন নারী নেত্রী মুখ খোলা রেখে ঘুরে বেড়াবে, মিডিয়ার সামনে হাজির হবে, এটা যারা "ইসলাম" সমাজে একটা প্রভাবশালী অবস্থানে থাকুক তারা কখনোই চায়না।
আপনার বিবেকবোধ জাগ্রত হোক এ প্লত্যাশায়।
ধন্যবাদ