17/06/2026
অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া
রাত ৩টা, ICU-র লাইট কমানো, একজন রোগীর ফাইল হাতে নিয়ে বসে আছি। কালচার রিপোর্ট এসেছে - একটা না, দুইটা না, প্রায় সবগুলো অ্যান্টিবায়োটিকেই "Resistant" লেখা। এই মুহূর্তটা একজন ICU ডাক্তারের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর মুহূর্তগুলোর একটা।
attendant জিজ্ঞেস করলেন, "ডাক্তার সাহেব, ওষুধ তো দিচ্ছেন, কাজ করছে না কেন?"
কী বলব তাকে। সহজ কথায় বলতে গেলে - ব্যাকটেরিয়াও বাঁচতে চায়, আমাদের মতোই।
ভাবুন একটা যুদ্ধক্ষেত্র। হাজার হাজার ব্যাকটেরিয়া। আমরা অ্যান্টিবায়োটিক দিলাম - বেশিরভাগ মারা গেল। কিন্তু কয়েকটা... কয়েকটার গায়ে কেমন একটা প্রতিরোধী আবরণ থাকে, ওরা টিকে গেল। আর এই টিকে যাওয়াটাই সমস্যা। কারণ এই বেঁচে যাওয়া কয়েকটা ব্যাকটেরিয়া বংশ বিস্তার করে, আর নিজেদের মধ্যে সেই "প্রতিরোধের রহস্য" শেয়ার করে ফেলে। এমনকি ভিন্ন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার মধ্যেও।
ধীরে ধীরে - কয়েক মাস, কয়েক বছরে - পুরো এলাকা ভরে যায় এমন ব্যাকটেরিয়ায় যাদের ওপর পুরনো অস্ত্র, মানে অ্যান্টিবায়োটিক, কাজ করে না।
এখন আসল প্রশ্ন
এই অবস্থা তৈরি হলো কীভাবে?
ফার্মেসিতে গিয়ে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক চেয়ে নেওয়া। জ্বর হলেই, একটু কাশি হলেই। ডাক্তার ৭ দিনের কোর্স লিখলেন, ৩ দিনেই শরীর ভালো লাগছে বলে বাকিটা ফেলে রাখা - এটা হয়তো সবচেয়ে কমন ভুল, আমি প্রতিদিন দেখি। ভাইরাল জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া, যেখানে এর আসলে কোনো কাজই নেই। আর হ্যাঁ, পোল্ট্রি-গরুর খাবারেও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার - এটা নিয়ে আলাদা একটা পোস্ট লিখতে হবে আসলে।
প্রতিটা ভুল ব্যবহার মানে ওই প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াকে একটু একটু সুযোগ দেওয়া।
আর ফলাফল? আজ ICU-তে এমন রোগী পাই যাদের জন্য কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিকের লিস্টটা হাতে গোনা যায়। কখনো কখনো সত্যিই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় থাকতে হয়।