19/09/2026
বিয়ের আগে ছেলে-মেয়ে দুজনেরই একে অপরকে এই কয়েকটি প্রশ্ন করা উচিত।
বিয়ের আগে “তুমি আমাকে ভালোবাসো?” এই প্রশ্নটা সবাই করে।
কিন্তু শুধু ভালোবাসা দিয়ে তো সংসারের সব সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
বরং বিয়ের আগে কিছু অস্বস্তিকর, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করে নিন।
কারণ কিছু কথা বিয়ের পরে জানতে গিয়ে সমস্যায় পড়ার চেয়ে আগেই জানা থাকা ভালো।
প্রশ্নগুলো হলো–
১. বিয়ের পর আপনি কোথায় থাকতে চান?
যৌথ পরিবারে, নাকি আলাদা সংসারে?
এটা আগে থেকেই পরিষ্কার থাকা ভালো।
২. বিয়ের পর দুজনের চাকরি বা ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
কেউ চাকরি ছাড়বে—এমন প্রত্যাশা আছে কি না, সেটা আগে আলোচনা করুন।
৩. সংসারের কাজ কীভাবে ভাগ হবে?
রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বাজার, বিল—সবকিছু কি একজনের দায়িত্ব, নাকি দু'জন মিলে করবেন?
৪. সন্তান নেওয়া নিয়ে আপনার মত কী?
কতদিন পরে সন্তান চাই, আদৌ সন্তান চাই কি না—এই বিষয়গুলো নিয়েও খোলাখুলি কথা বলা দরকার।
৫. বাবা-মায়ের দায়িত্ব কীভাবে নেওয়া হবে?
দু'জনের পরিবারই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবিষ্যতে কে কীভাবে নিজের বাবা-মায়ের পাশে থাকবে, সেটা নিয়ে আগে কথা বলুন।
৬. অর্থকরীর ব্যাপারে আপনার অভ্যাস কেমন?
খরচ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ঋণ—এসব নিয়ে একে অপরের সঙ্গে স্বচ্ছ থাকুন।
৭. বিয়ের পর কি ব্যক্তিগত টাকা থাকবে?
সব টাকা একসঙ্গে রাখবেন, নাকি দুজনের নিজস্ব financial space থাকবে—এটা আগে আলোচনা করুন।
৮. বড় কোনো ঋণ বা আর্থিক দায়িত্ব আছে কি?
কোনো গুরুত্বপূর্ণ financially commitments থাকলে বিয়ের আগে সেটা লুকিয়ে রাখা উচিত নয়।
৯. ঝগড়া হলে আপনি কীভাবে সমস্যার সমাধান করতে চান?
চুপ করে থাকা, দূরে চলে যাওয়া, নাকি বসে কথা বলা—দুজনের conflicts styles জানা গুরুত্বপূর্ণ।
১০. রাগের সময় আপনি কী করতে পারেন আর কী পারেন না?
গালাগালি, অপমান, হুমকি, খোটা বা শারীরিক আক্রমণ—কোনোটাকেই স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়।
১১. আমার ব্যক্তিগত সময়কে আপনি কীভাবে দেখবেন?
বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, নিজের hobby, একা সময় কাটানো—এসব নিয়ে দুজনের প্রত্যাশা কী?
১২. সোশ্যাল মিডিয়া ও privacy নিয়ে আপনার ধারণা কী?
ফোনের passwords, ব্যক্তিগত chat, ছবি পোস্ট করা—কোন্ জায়গায় privacy থাকবে? সেটা নিয়ে কথা বলুন।
১৩. বিপরীত লিঙ্গের বন্ধুদের ব্যাপারে আপনার ধারণা কী?
কী acceptable আর কী unacceptable—দুজনের boundary's আগে থেকেই জানা থাকলে পরে ভুল বুঝাবুঝি কম হবে।
১৪. ধর্ম, সংস্কৃতি ও পারিবারিক রীতিনীতি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
বিয়ের পর কোন বিষয়গুলো মেনে চলবেন, কোনগুলো ব্যক্তিগত থাকবে—এসব পরিষ্কার করা ভালো।
১৫. আমার কোনো সিদ্ধান্ত আপনার পছন্দ না হলে আপনি সেটা কীভাবে বলবেন?
কারণ মতের অমিল হবেই। গুরুত্বপূর্ণ হলো মতের অমিল হলে একে অপরের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করবেন।
১৬. আপনি আমার কাছ থেকে আসলে কী আশা করেন?
শুধু “ভালো স্ত্রী” বা “ভালো স্বামী” নয়—দৈনন্দিন জীবনে একজন সঙ্গীর কাছ থেকে ঠিক কী প্রত্যাশা, সেটা জানুন।
১৭. আপনার কাছে বিয়েতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী?
ভালোবাসা? সম্মান? বন্ধুত্ব? পরিবার? আর্থিক স্থিরতা? স্বাধীনতা?
উত্তরটা শুনুন এবং নিজের উত্তরও জানান।
১৮. ভবিষ্যতে আমাদের মত একেবারেই না মিললে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেব?
সব বিষয়ে একজন জিতবে আর একজন হারবে—এমন সম্পর্কের বদলে দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা আছে কি না দেখুন।
১৯. আমার কোন বিষয়গুলো আপনি কখনো মেনে নিতে পারবেন না?
এবং আপনিও বলুন—আপনার নিজের boundaries কী।
২০. সবশেষে একটা প্রশ্ন—“কঠিন/বিপদের সময় এলে আপনি কি সমস্যা সমাধান করতে আমার পাশে থাকবেন?”
কারণ সুখের সময় পাশে থাকা সহজ।
আসল পরীক্ষা তো তখন আসে, যখন জীবনটা একটু কঠিন হয়ে যায়।
এই প্রশ্নগুলোর সব উত্তর এক হতে হবে—এমন নয়।
দু'জন মানুষের চিন্তা আলাদা হতেই পারে।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হলো—পার্থক্যগুলো জানার পরও দু'জন কি একসঙ্গে বাস্তবসম্মতভাবে এগোতে পারবেন?
বিয়ের আগে শুধু একে অপরের পছন্দের খাবার, পছন্দের সিনেমা বা ঘুরতে যাওয়ার জায়গা জানবেন না।
জানুন—
মানুষটা রাগলে কেমন?
দায়িত্বের ব্যাপারে কেমন?
পরিবারের ব্যাপারে কেমন?
কঠিন/বিপদের সময়ে কেমন?
আর আপনার “না”-বলাটাকে কতটা সম্মান করে?
কারণ বিয়ে শুধু দু'জন মানুষ একসঙ্গে থাকা নয়—দুজন মানুষের জীবন, অভ্যাস, পরিবার, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎকে একসঙ্গে সামলানোর সিদ্ধান্ত।
তাই বিয়ের আগে যত বেশি পরিষ্কারভাবে কথা বলবেন,
বিয়ের পর ততই কম “আমি তো এটা জানতাম না” বলতে হবে।
আল্লাহ তা'আলা সবাইকে দ্বীনদার জীবনসঙ্গী নির্বাচন করার তৌফিক দান করুন; আমীন!
বিঃদ্রঃ লেখাটি ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে অপর ভাইকে জানার সুযোগ করে দিন।
Ipsita Mondal ✒️