Nurture with Ivana

Website

Nurture with Ivana শুধু শিশু নয় -মা, বাবা, দাদি-নানু, পুরো পরিবারের সুস্থতার গল্প এখানে। বিজ্ঞান আর সংস্কৃতি হাত ধরাধরি করে চলে।

02/10/2026

অনেক বাবা-মা অপরাধবোধে ভোগেন।

"সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম, আজ ওর সঙ্গে ঠিকমতো খেলতেই পারলাম না।"

কিন্তু গবেষণা বলছে, শিশুর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দীর্ঘ সময় নয়—মনোযোগ দিয়ে কাটানো সময়।

৩–৬ মাসের একটি শিশুর মনোযোগের পরিধি এখনও খুব ছোট। তাই একটানা আধা ঘণ্টা খেলানোর চেয়ে, দিনে কয়েকবার ৫–১০ মিনিটের responsive play অনেক বেশি কার্যকর।

কী করবেন?

★ ওর হাসির জবাবে হাসুন।
★ চোখে চোখ রেখে কথা বলুন।
★ ওর ছোট্ট হাত ধরুন, বিভিন্ন texture ছুঁতে দিন।
★ গান গেয়ে শোনান, আপনার কণ্ঠস্বরই ওর প্রিয় শব্দ।

এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোতেই শিশুর মস্তিষ্কে তৈরি হয় লাখো নতুন সংযোগ। এখান থেকেই গড়ে ওঠে ভাষা, সামাজিক দক্ষতা, আবেগের নিরাপত্তা এবং শেখার ভিত্তি।

মনে রাখবেন—
শিশুর কাছে সবচেয়ে দামি খেলনা আপনি নন, আপনার মনোযোগ।

তথ্যসূত্র:
• American Academy of Pediatrics (AAP): The Power of Play
• Harvard Center on the Developing Child – Serve and Return Interaction
• WHO – Nurturing Care for Early Childhood Development

01/10/2026

“চাচুকে একটা চুমু দাও তো!”

বাচ্চাটা মায়ের আঁচল ধরে দাঁড়িয়ে রইল।

চাচু হাত বাড়িয়ে বললেন, “আয় বাবা, একটা kiss দে!”

বাচ্চা মাথা নাড়িয়ে মায়ের আরও কাছে চলে গেল।

মা একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললেন, “আরে বাবা, লজ্জা পাচ্ছ কেন? যাও, চুমু দাও।”

বাচ্চাটা এবার মাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

চারপাশ থেকে হাসির শব্দ।

কেউ বলল, “বাচ্চাকে এত আদর দিলে এমনই হয়!”

কিন্তু কেউ একটা প্রশ্ন করল না—

বাচ্চাটা কি সত্যিই চুমু দিতে চায়নি?

আমরা বড়রা অনেক সময় ভাবি, “এ তো আপন মানুষ!”

কিন্তু শিশুর কাছে “আপন মানুষ” হলেও তার শরীরের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার অন্য কারও হয়ে যায় না।

চুমু দেবে কি না। জড়িয়ে ধরবে কি না। কারও কোলে যাবে কি না।

এসব বিষয়ে শিশুর “না” বলার সুযোগ থাকা দরকার।

আপনি চাইলে বলতে পারেন—

“তুমি কি চাচুকে হাই বলতে চাও?”

অথবা,

“চুমু দিতে ইচ্ছা করছে না? ঠিক আছে। তুমি চাইলে শুধু হাত নেড়ে হাই বলতে পারো।”

এতে শিশু শুধু manners শিখছে না।

সে শিখছে—

“আমার শরীরের ব্যাপারে আমার কথারও মূল্য আছে।”

আজ সে আপনাকে “না” বলতে শিখবে।

আগামীকাল হয়তো এমন কোনো পরিস্থিতিতে সেই “না”-টাই তাকে নিজের সীমা রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

তাই আত্মীয়কে খুশি করার জন্য শিশুকে জোর করে আদর করাবেন না।

ভদ্রতা শেখান, কিন্তু নিজের শরীরের সীমা অমান্য করতে শেখাবেন না।

আপনার বাসায় কি এমন পরিস্থিতি হয়?
কমেন্টে জানাতে পারেন।

দ্বিতীয় সন্তান আসার পর প্রথম সন্তানটাকে যেন হঠাৎ “বড়” করে দেবেন না।দ্বিতীয় বাচ্চা আসার পর মা-বাবার জীবনটা সত্যিই বদলে যা...
30/09/2026

দ্বিতীয় সন্তান আসার পর প্রথম সন্তানটাকে যেন হঠাৎ “বড়” করে দেবেন না।

দ্বিতীয় বাচ্চা আসার পর মা-বাবার জীবনটা সত্যিই বদলে যায়।

নতুন বাচ্চার খাওয়ানো, ঘুম, কান্না, ডায়াপার—সবকিছু সামলাতে সামলাতে অনেক সময় অজান্তেই বড় সন্তানটার দিকে আগের মতো সময় দেওয়া হয়ে ওঠে না।

আর তখনই শুরু হয় কিছু কথা—

“তুমি তো বড় হয়ে গেছো, একটু বুঝতে শেখো।”

“এখন তো তোমার ছোট ভাই/বোন আছে, একটু adjust করো।”

“ও ছোট, আগে ওকে দেখি।”

কথাগুলো হয়তো আমরা দায়িত্ব সামলাতে সামলাতেই বলি।

কিন্তু যে শিশুটাকে কয়েকদিন আগেও পরিবারের একমাত্র আদরের বাচ্চা মনে হতো, তার কাছে ব্যাপারটা কেমন লাগছে—সেটাও একবার ভাবুন।

হয়তো সে মায়ের কোলে উঠতে চাইছে।
হয়তো সে ইচ্ছে করেই একটু বেশি দুষ্টুমি করছে।
হয়তো ছোট ভাই-বোনটাকে বিরক্ত করছে।

সবসময় এটা “জেলাসি” বা “দুষ্টুমি” নয়।

কখনো কখনো সে শুধু বুঝতে চাইছে—

“আম্মু, তোমার কাছে আমার জায়গাটা কি এখনও আগের মতোই আছে?”

তাই দ্বিতীয় সন্তান আসার পর প্রথম সন্তানটাকে শুধু “বড়” হওয়ার দায়িত্ব দেবেন না।

ছোট বাচ্চাটাকে কোলে নেওয়ার পাশাপাশি বড়টাকেও একবার জড়িয়ে ধরুন।

প্রতিদিন কিছুটা সময় শুধু তার জন্য রাখুন।

আর কখনো কখনো তাকে বলুন—

“তুমি বড় হয়ে গেছো ঠিকই, কিন্তু আমার কাছে তুমি এখনও আমার সেই ছোট্ট বাবু/মামণিই আছো।”

কারণ নতুন একটা সন্তান পরিবারে যোগ হয়েছে মানে—

একজনের ভালোবাসা কমে গিয়ে আরেকজনের ভালোবাসা বাড়েনি।
বরং ভালোবাসার মানুষ একজন বেড়েছে।

আপনারও কি মনে হয়, দ্বিতীয় সন্তান আসার পর প্রথম সন্তানটাকে আরও একটু বেশি করে “সময়” আর “ভালোবাসা” দেওয়া দরকার?

আপনার অভিজ্ঞতাটা কমেন্টে শেয়ার করুন।



“তুমি তো সারাদিন বাসাতেই থাকো, এত ক্লান্ত হও কীভাবে?”কথাটা খুব স্বাভাবিকভাবেই বলা হয়।“বাসায়ই তো থাকো!”“বাচ্চাকে দেখাশোনা...
29/09/2026

“তুমি তো সারাদিন বাসাতেই থাকো, এত ক্লান্ত হও কীভাবে?”

কথাটা খুব স্বাভাবিকভাবেই বলা হয়।

“বাসায়ই তো থাকো!”
“বাচ্চাকে দেখাশোনা করো, আর কী এমন কাজ?”
“আমাদের সময় তো এত কিছু ছিল না!”

কিন্তু একটা ছোট বাচ্চাকে নিয়ে একটা পুরো দিন একা কাটিয়ে দেখেছেন কখনো?

সকাল ৭টা।

বাচ্চার নাশতা বানাতে গেছেন।
এদিকে সে রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে কাঁদছে—
“মা… মা…”

কোনোমতে খাবার তৈরি করে খাওয়াতে বসেছেন।

দুই চামচ খাওয়ার পর সে আর খাবে না।

আপনি এক হাতে খাবার নিয়ে বসে আছেন,
আরেক হাতে খেলনা দিয়ে তাকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছেন।

খাওয়ানো শেষ।

এবার বাচ্চার ঘুমের সময়।

ঘুম পাড়াতে পাড়াতে নিজের দুপুরের খাবারের সময় চলে গেল।

বাচ্চা ঘুমিয়েছে—
আপনি ভাবলেন, “এবার একটু বসি।”

ঠিক তখনই মনে পড়ল—
বাসন পড়ে আছে, কাপড় ধোয়া হয়নি, ঘরটা এলোমেলো।

আর বাচ্চা ঘুম থেকে ওঠার আগেই এগুলো শেষ করতে হবে।

কারণ উঠলে আবার—

“মা, এটা দাও।”
“মা, ওটা চাই।”
“মা, কোলে নাও।”
“মা, আমার সাথে খেলো।”

তারপর বিকেল।

একটু নিজের ফোনটা হাতে নিয়েছেন।

ঠিক তখনই—

“মা!”

ফোনটা রেখে আবার ছুটতে হলো।

দিনের শেষে বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়ল।

সবাই ভাবল,
“আজকের কাজ শেষ।”

কিন্তু মায়ের মাথায় তখনও হিসাব চলছে—

কাল কী রান্না হবে?
বাচ্চার খাবার কী আছে?
ডায়াপার শেষ হয়ে আসছে কি না?
কাপড় ধোয়া বাকি আছে।
কাল গোসল করাতে হবে।
বাচ্চার ঘুমটাও ঠিক হচ্ছে না।

অর্থাৎ মা শুধু সারাদিন কাজই করেন না।

তিনি সারাদিন কাজের কথা ভাবেনও।

আর সবচেয়ে কঠিন বিষয়টা হলো—
এই কাজের সময় আপনি অসুস্থ হলেও কাজ থামে না।

মন খারাপ হলেও থামে না।

ঘুম না হলেও থামে না।

শরীর খারাপ হলেও একটা ছোট মানুষ আপনার দিকে তাকিয়ে থাকে—

“মা, তুমি আছো তো?”

তাই বাসায় থাকা মানেই বিশ্রামে থাকা নয়।

আর সন্তানকে বড় করা মানেই শুধু তাকে খাওয়ানো, গোসল করানো আর ঘুম পাড়ানো নয়।

এটা হলো—

একজন ছোট মানুষের নিরাপত্তা, খাবার, ঘুম, আবেগ, আচরণ, শেখা, খেলা—সবকিছুর দায়িত্ব প্রতিদিন সামলানো।

তাই কোনো মাকে যদি বলতে ইচ্ছে করে—

“বাসায় তো থাকো, এত ক্লান্ত হওয়ার কী আছে?”

একবার শুধু প্রশ্নটা বদলে দেখুন—

“সারাদিন একা একটা বাচ্চাকে সামলে তুমি নিজে কেমন আছো?”

হয়তো সেই প্রশ্নটাই একজন মায়ের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

আপনি যদি একজন মা হন, আর এই কথাগুলোর কোনো একটা জায়গায় নিজেকে খুঁজে পান—মনে রাখবেন, আপনি একা নন।

আর যদি আপনার পরিচিত কোনো মা প্রতিদিন এমনভাবেই দিন কাটান, পোস্টটা তার সাথে শেয়ার করুন।
হয়তো আপনার একটি শেয়ার তাকে মনে করিয়ে দেবে—তার পরিশ্রমটাও দেখা হচ্ছে, বোঝা হচ্ছে।

আপনার দিনটা কেমন কাটে? এক কথায় কমেন্টে লিখুন।

-Nurture With Ivana

“এই খেলনাটা কত টাকা দিয়ে কিনে দিলাম, আর দুই দিনেই ভেঙে ফেলল!” বাচ্চা গাড়ির চাকা খুলছে,খেলনার ঢাকনা টানছে,কিছু একটা খুলে ...
28/09/2026

“এই খেলনাটা কত টাকা দিয়ে কিনে দিলাম, আর দুই দিনেই ভেঙে ফেলল!”

বাচ্চা গাড়ির চাকা খুলছে,
খেলনার ঢাকনা টানছে,
কিছু একটা খুলে আবার লাগানোর চেষ্টা করছে।

দেখে মনে হয়—
“বাচ্চাটা শুধু খেলনা নষ্ট করতেই পারে!”

কিন্তু একটু অন্যভাবে দেখুন।

হয়তো তার মাথায় তখন চলছে—

“এটা খুললে কী হবে?”
“ভেতরে কী আছে?”
“এটা টানলে কেন নড়ছে?”

মানে, সে শুধু খেলনাটা ভাঙছে না—
সে জিনিসটা কীভাবে কাজ করে, সেটা বুঝতে চাইছে।

নিরাপদ হলে তাই সবসময় সঙ্গে সঙ্গে থামিয়ে না দিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারেন—

“তোমার কী মনে হয়, এটা খুললে কী হবে?”

অবশ্যই ছোট parts, ধারালো বা বিপজ্জনক জিনিস হলে থামাতে হবে।

কিন্তু নিরাপদ exploration-এর সুযোগটা দিন।

কারণ শিশুর কাছে কখনো কখনো একটা খেলনা শুধু toy নয়—একটা ছোট experiment।

সবকিছু অক্ষত রাখার চেয়ে, তার কৌতূহলটা বাঁচিয়ে রাখা কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়? কমেন্টে আপনার মতামত জানাতে পারেন।

-Nurture With Ivana

27/09/2026

"বিদেশে থাকি। বাচ্চাটাকে একটু দামি কিছু পাঠাই।"

এই চিন্তাটা ভুল নয়।

কিন্তু একটা প্রশ্ন আছে।

আপনি কি উপহার দিচ্ছেন, নাকি শুধু দাম দিচ্ছেন?

বাংলাদেশের হাজারো পরিবারে একটা দৃশ্য খুব পরিচিত।

প্রবাসী মামা, খালা, চাচা বা ফুফু দেশে কিছু পাঠাবেন।

তালিকায় থাকে— বিদেশি জামা, রিমোট কার, বড় টেডি বিয়ার, চকোলেট, বা দামি খেলনা।

সবাই খুশি।

ছবিও ওঠে।

কিন্তু তিন মাস পরে?

জামাটা ছোট হয়ে যায়।

খেলনাটা আলমারির এক কোণে পড়ে থাকে।

চকোলেট শেষ।

উচ্ছ্বাসও শেষ।

এখানেই আমরা একটা বিষয় ভুলে যাই।

একটা শিশুর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নতুন খেলনা নয়। নতুন সংযোগ (connection)। নতুন শেখা (learning)। নতুন অভিজ্ঞতা (experience)।

শিশুর মস্তিষ্ক জীবনের প্রথম কয়েক বছরে সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হয়।

এই সময়ে সঠিক খেলাধুলা, সঠিক কার্যক্রম আর বাবা-মায়ের সঙ্গে মানসম্মত সময়—এসবই তার ভাষা, মনোযোগ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের শেখার ভিত্তি তৈরি করে।

তাই সবচেয়ে মূল্যবান উপহার সব সময় সবচেয়ে দামি হয় না।

সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হলো—

যেটা খোলার পর শেষ হয়ে যায় না, বরং প্রতিদিন শিশুর সঙ্গে বড় হতে থাকে।

আপনি হয়তো হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে।

কিন্তু আপনার উপহার যদি প্রতিদিন বাবা-মা আর শিশুকে একসঙ্গে বসিয়ে হাসায়, শেখায় আর নতুন কিছু আবিষ্কার করতে সাহায্য করে—

তাহলে সেটা শুধু একটা গিফট নয়।

সেটা আপনার ভালোবাসার প্রতিদিনের উপস্থিতি।

দূরত্ব কমানোর সবচেয়ে সুন্দর উপায় ভিডিও কল নয় সব সময়।

অনেক সময় একটি অর্থবহ উপহারও সেই কাজটা করে।

আপনি যদি প্রবাসে থাকেন, বলুন তো—আজ যদি আপনার ছোট্ট ভাতিজা, ভাগ্নে বা নাতি-নাতনির জন্য একটি উপহার পাঠাতে হতো, আপনি কী পাঠাতেন?

27/09/2026

৩ মাসের বাচ্চাকে আপনি কী বলছেন—

সে কি সত্যিই বুঝতে পারে?

১ বছরের বাচ্চাকে কোনো কিছু বোঝালে—

সে কি আদৌ মনে রাখবে?

অনেক বাবা-মা তাই শিশুর সঙ্গে কথা বলাকে গুরুত্ব দেন না।

আপনি হয়তো ভাবেন—

“ও তো এখনো ছোট।
আমি যা বলছি, ও কি আদৌ বুঝছে?”

কিন্তু শিশুর মস্তিষ্ক শুধু শব্দের অর্থ শেখে না।
সে শেখে আপনার কণ্ঠস্বর, মুখের অভিব্যক্তি, স্পর্শ আর প্রতিক্রিয়া থেকেও।

আপনি যখন বারবার বলেন—

“আমি আছি।”
“চলো, একসাথে করি।”
“তুমি চেষ্টা করছো—ভালো।”
“ভয় পেয়েছো? এসো, মা/বাবা আছি।”

শিশু হয়তো আজ সেই কথাগুলোর পুরো অর্থ বুঝবে না।

কিন্তু ধীরে ধীরে তার মস্তিষ্কে তৈরি হতে থাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা—

“আমি নিরাপদ।”
“আমাকে কেউ শুনছে।”
“আমি চেষ্টা করতে পারি।”

আর এখানেই parenting-এর একটা সুন্দর ব্যাপার আছে।

শিশুর সঙ্গে প্রতিদিনের ছোট ছোট কথোপকথন
শুধু ভাষা শেখায় না—
এগুলো তার relationship, emotional security এবং শেখার ভিত্তি তৈরি করতেও সাহায্য করে।

তাই শিশুকে কথা বলানোর জন্য সবসময় বড় কোনো activity দরকার নেই।

কাপড় পরানোর সময় বলুন কী করছেন।
খাওয়ানোর সময় খাবারের নাম বলুন।
খেলার সময় তার কাজের বর্ণনা দিন।
কাঁদলে শুধু “কাঁদবে না” না বলে তার অনুভূতিটাকে acknowledge করুন।

কারণ শিশুর কাছে—

আপনার প্রতিটি ছোট interaction-ই হতে পারে একটি learning moment।

Parenting tip: শিশুর বয়স অনুযায়ী সহজ ভাষায়, চোখে চোখ রেখে এবং responsiveভাবে কথা বলার অভ্যাস করুন।
-Nurture With Ivana

26/09/2026

“ভালো বাচ্চা হলে মায়ের কথা শুনতে হয়।”

“ভালো বাচ্চারা কখনো রাগ করে না।”

“ভালো বাচ্চা হলে এত প্রশ্ন করে না।”

শুনতে কথাগুলো খুব স্বাভাবিক।

কিন্তু একটা ছোট শিশু যখন বারবার শুনতে থাকে—
“ভালো বাচ্চা এটা করে না”,
তখন সে ধীরে ধীরে একটা জিনিস শিখতে পারে—

“মা-বাবার পছন্দের মতো আচরণ করলেই আমি ভালো।”

আর তখন নিজের রাগ, কষ্ট, না-পছন্দ—এসব প্রকাশ করতেও সে দ্বিধা করতে পারে।

তাই “ভালো বাচ্চা” বলার বদলে আচরণটাকে আলাদা করে প্রশংসা করুন।

❌ “তুমি খুব ভালো বাচ্চা।”
✅ “তুমি খেলনাটা গুছিয়ে রেখেছো—দারুণ করেছো।”

❌ “তুমি রাগ করোনি, তুমি ভালো।”
✅ “তুমি রাগ করেছিলে, কিন্তু আমাকে বলেছো কী হয়েছে।”

কারণ আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বাধ্য শিশু তৈরি করা নয়।

আমরা চাই এমন একজন মানুষ বড় হোক,
যে নিজের অনুভূতি বুঝতে পারে,
নিজের প্রয়োজন বলতে পারে
এবং অন্যের অনুভূতিকেও সম্মান করতে পারে।

শিশুকে “ভালো” বানানোর চেয়ে, তাকে নিজের অনুভূতি সামলাতে শেখানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি আপনার শিশুকে সবচেয়ে বেশি কোন কথাটা বলেন—
“ভালো বাচ্চা” নাকি “তুমি এটা খুব সুন্দর করেছো”?
-Nurture With Ivana

“বাইরে গেলে তো একদম শান্ত থাকে!বাড়িতে এলেই শুধু কান্না আর আবদার!”অনেক মায়ের মুখেই এমন কথা শোনা যায়।ধরুন, সারাদিন আত্মীয়ে...
24/09/2026

“বাইরে গেলে তো একদম শান্ত থাকে!
বাড়িতে এলেই শুধু কান্না আর আবদার!”

অনেক মায়ের মুখেই এমন কথা শোনা যায়।

ধরুন, সারাদিন আত্মীয়ের বাসায় ছিল বাচ্চা।
সেখানে একদম চুপচাপ। কারও কোলে বসে আছে, খেলছে, খুব একটা বিরক্তও করছে না।

কিন্তু বাসায় ফিরতেই—

“মা, এটা চাই!”

“না, এটা করবো না!”

একটু পর কান্না।
তারপর মায়ের গায়ে লেগে থাকা।

মা তখন ভাবেন—

“বাইরে এত ভালো থাকে, আমার কাছেই এসে এমন করে কেন?”

কিন্তু এখানে একটা বিষয় আমরা অনেক সময় ভুলে যাই।

শিশুর কাছে মা-বাবার সঙ্গে থাকা জায়গাটাই হয়তো সবচেয়ে পরিচিত ও নিরাপদ জায়গা।

সারাদিন নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ, নতুন শব্দ, নিয়ম-কানুন—সবকিছু সামলে থাকার পর বাড়িতে ফিরে সে হয়তো আর নিজেকে সামলে রাখতে চাইছে না।

যেখানে সে জানে—

“এখানে আমি আমার মতো থাকতে পারি।”

তাই বাইরে শান্ত ছিল মানেই সে পুরো সময়টা স্বস্তিতে ছিল—এমন নয়।

আর বাড়িতে এসে কান্না করছে মানেই সে খারাপ আচরণ করছে—সেটাও নয়।

কখনো কখনো শিশুর আচরণ বুঝতে হলে শুধু এটা দেখলে হবে না—

“সে এখন কী করছে?”

একবার ভাবুন—

“এর আগে সারাদিন সে কী কী পার করে এসেছে?”

শিশুর আচরণের পেছনের কারণটা বুঝতে পারলে, অনেক “দুষ্টুমি”কেই হয়তো নতুনভাবে দেখতে শুরু করবেন।

- Nurture With Ivana

23/09/2026

“শিশু হঠাৎ নিজের জিনিস আপনাকে দিতে শুরু করেছে? এটা শুধু আদর নয়”

সেদিন একটা মা আমাকে বলছিলেন,

“আপু, আমার বাচ্চা একটা অদ্ভুত কাজ করছে।”

“কী?”

“ওর হাতে কিছু থাকলে বারবার আমার হাতে দিয়ে দেয়। আবার একটু পর আমার কাছ থেকে নিয়ে নেয়। আমি ভাবছিলাম, ও কি খেলাটা নষ্ট করছে?”

আমি বললাম,

“আপনি জানেন, এই ছোট্ট কাজটার মধ্যেই কিন্তু অনেক বড় একটা শেখা লুকিয়ে থাকতে পারে?”

আমরা বড়রা অনেক সময় ভাবি—

শিশু খেলনা দিল → আবার নিয়ে নিল → আবার দিল।

মানে হয়তো শুধু খেলছে।

কিন্তু শিশুর জন্য এটা হতে পারে একটা social interaction-এর practice।

সে ধীরে ধীরে বুঝতে শিখছে—

“আমি কিছু দিতে পারি।”
“অন্য মানুষ সেটা নিতে পারে।”
“তারপর আবার আমার কাছে ফিরেও আসতে পারে।”

আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার?

কখনো কখনো শিশু জিনিসটা আপনাকে দেওয়ার পর আপনার মুখের দিকে তাকায়।

আপনি কী করছেন?

হাসছেন?

অবাক হচ্ছেন?

জিনিসটা নিচ্ছেন?

তারপর সে আবার সেটা নিয়ে নিচ্ছে!

অর্থাৎ খেলনার পাশাপাশি সে মানুষের সঙ্গে interaction-এর নিয়মও পরীক্ষা করছে।

তাই পরেরবার আপনার শিশু নিজের খেলনা, খাবার বা কোনো ছোট জিনিস আপনার হাতে দিলে—

“না না, এটা তোমারই” বলে সরিয়ে দেবেন না।

বরং একটু সময় নিয়ে বলুন,

“তুমি আমাকে দিলে?”

তারপর নিন।

“ধন্যবাদ।”

আবার তার হাতে দিয়ে বলতে পারেন,

“এই নাও, আবার তোমার।”

এই ছোট্ট আদান-প্রদান শিশুর জন্য হতে পারে একটা সুন্দর social learning moment।

তবে একটা বিষয় মনে রাখবেন—

সব শিশু একই বয়সে একইভাবে এই আচরণ দেখাবে না।
কেউ আগে করবে, কেউ পরে করবে, কেউ অন্যভাবে যোগাযোগ করবে।

তাই শিশুর প্রতিটি আচরণকে milestone-এর পরীক্ষার মতো না দেখে,

তার সঙ্গে যোগাযোগের একটা সুযোগ হিসেবে দেখুন।

কারণ শিশুর হাতে থাকা ছোট্ট একটা খেলনা কখনো কখনো শুধু খেলনা নয়—

সেটাই হতে পারে তার “আমি তোমার সঙ্গে connect করতে চাই”—এর প্রথম দিকের ভাষা।

আপনার শিশুও কি নিজের জিনিস বারবার আপনার হাতে দিয়ে আবার নিয়ে নেয়?
- Nurture With Ivana

Address

Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nurture with Ivana posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share