12/05/2026
আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই দেখা যায় চিকিৎসাবিজ্ঞান, আইন কিংবা ফিন্যান্সের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে একদল তথাকথিত 'ইনফ্লুয়েন্সার' পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। দুঃখজনক বিষয় হলো, এদের অনেকেরই ওই নির্দিষ্ট বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা গভীর জ্ঞান নেই। চিকিৎসার মতো একটা জটিল বিষয়কেও এখন ভিউ আর লাইকের নেশায় সস্তা বিনোদনের পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে।
অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন অমুক সোশ্যাল মিডিয়া সেলিব্রিটির কাছে অমুক জটিল রোগের অপারেশন বা চিকিৎসা করানো যাবে কি না। অথচ সেই ব্যক্তি হয়তো ওই নির্দিষ্ট বিষয়ে স্পেশালিস্টই নন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার জোরালো প্রচারণায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। মানুষ বিশ্বাস করে বসে আছেন যে ইন্টারনেটে যাকে বেশি দেখা যাচ্ছে, তিনিই হয়তো সেরা চিকিৎসক। বাস্তবতা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন।
চীন সরকারের একটি সাম্প্রতিক উদ্যোগ এক্ষেত্রে সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা নিয়ম করেছে যে ফিন্যান্স, আইন বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে কন্টেন্ট বানাতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উপযুক্ত ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
চিকিৎসা কোনো শখের বিষয় নয় যে কেউ মোবাইল হাতে নিয়ে ভিডিও বানিয়ে দিলেই বিশেষজ্ঞ হয়ে যাবেন। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ডিগ্রি অর্জনের পেছনে থাকে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম আর হাজার হাজার রোগীর ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা। কিন্তু বর্তমানে 'ইনফ্লুয়েন্সার' হওয়ার নেশায় যে যার মতো চিকিৎসাবিষয়ক টিপস দিচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিরাট ঝুঁকি।
সঠিক মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে কন্টেন্ট বানানো শুধু অনুচিত নয়, বরং অনৈতিক। ভিউ-এর প্রতিযোগিতায় এই তথাকথিত 'জ্ঞানের আবর্জনা' বন্ধ হওয়া দরকার। জনস্বার্থ রক্ষায় আমাদের সবারই সচেতন হওয়া উচিত যে আমরা কার পরামর্শ নিচ্ছি এবং কাকে বিশেষজ্ঞ ভাবছি।
সবাই সুস্থ থাকুন, সঠিক তথ্যের সাথে থাকুন