02/08/2026
🧠 মৃগী রোগ: খিঁচুনি মানেই কি মৃগী?
হঠাৎ একজন মানুষ মাটিতে পড়ে গেলেন, হাত-পা শক্ত হয়ে কাঁপছে, মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে—দৃশ্যটি দেখে অনেকেই ভয় পেয়ে যান। কেউ বলেন “ভূতে ধরেছে”, কেউ আবার ভাবেন এটি পাগলামির লক্ষণ।
আসলে এটি অনেক সময় মৃগী রোগের (Epilepsy) খিঁচুনি হতে পারে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মৃগী একটি চিকিৎসাযোগ্য স্নায়ুরোগ।
🔹 মৃগী রোগ কী?
মস্তিষ্কের কোষগুলোর বৈদ্যুতিক কার্যকলাপে অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত পরিবর্তনের কারণে বারবার খিঁচুনি হলে তাকে মৃগী রোগ বলা হয়।
তবে একবার খিঁচুনি হলেই মৃগী হয়েছে—এমন নয়। জ্বর, রক্তে শর্করা বা সোডিয়াম কমে যাওয়া, কিছু ওষুধ/বিষক্রিয়া, ঘুমের অভাবসহ বিভিন্ন কারণেও একবার খিঁচুনি হতে পারে।
🔹 খিঁচুনির লক্ষণ কী হতে পারে?
সব খিঁচুনিতে হাত-পা কাঁপবে এমন নয়।
কেউ হঠাৎ—
* অচেতন হয়ে যেতে পারেন
* হাত-পা শক্ত হয়ে কাঁপতে পারেন
* কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকতে পারেন
* অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারেন
* বারবার একই ধরনের নড়াচড়া করতে পারেন
* খিঁচুনির পর কিছু সময় বিভ্রান্ত বা ঘুমঘুম থাকতে পারেন
🚨 খিঁচুনি হলে কী করবেন?
✅ রোগীকে নিরাপদ জায়গায় শুইয়ে দিন।
✅ সম্ভব হলে কাত করে দিন, যাতে মুখের লালা/বমি শ্বাসনালীতে না যায়।
✅ মাথার নিচে নরম কিছু দিন।
✅ আশপাশের শক্ত বা ধারালো জিনিস সরিয়ে দিন।
✅ খিঁচুনি কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে, সময় দেখুন।
✅ খিঁচুনি থামার পর রোগীকে শান্তভাবে বিশ্রাম নিতে দিন।
❌ যা কখনো করবেন না
🚫 মুখের মধ্যে চামচ, আঙুল বা কোনো বস্তু ঢোকাবেন না।
🚫 জোর করে হাত-পা চেপে ধরবেন না।
🚫 পানি, খাবার বা ওষুধ মুখে দেবেন না যতক্ষণ রোগী পুরোপুরি সচেতন না হন।
🚫 মুখে জুতা/স্যান্ডেল ধরবেন না—এতে কোনো চিকিৎসা হয় না।
🏥 কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে?
যদি—
🔴 খিঁচুনি ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়
🔴 পরপর খিঁচুনি হয় এবং মাঝখানে জ্ঞান না ফেরে
🔴 এটি জীবনের প্রথম খিঁচুনি হয়
🔴 খিঁচুনির সময় গুরুতর আঘাত লাগে
🔴 শ্বাস নিতে সমস্যা হয় বা খিঁচুনির পরও জ্ঞান না ফেরে
🔴 রোগী গর্ভবতী হন বা গুরুতর অন্য কোনো অসুস্থতা থাকে
তাহলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
💊 মৃগী কি ভালো হয়?
হ্যাঁ, সঠিক চিকিৎসায় অনেক রোগীর খিঁচুনি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
চিকিৎসক রোগীর বয়স, খিঁচুনির ধরন, কারণ ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী anti-seizure medication দিতে পারেন।
অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
👉 নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
👉 একটি ডোজ মিস করাও অনেক সময় খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
👉 পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ওষুধ এবং চিকিৎসকের ফলোআপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
❤️ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা
মৃগী কোনো অভিশাপ নয়, ভূতে ধরাও নয় এবং এটি লজ্জার কোনো রোগ নয়।
মৃগী রোগীকে ভয় বা অবহেলা নয়—প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা, পরিবারের সহযোগিতা এবং সামাজিক সচেতনতা।
একটি খিঁচুনির সময় আপনার সঠিক পদক্ষেপ একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।
খিঁচুনি দেখলে ভয় পাবেন না—জানুন, বুঝুন এবং সঠিকভাবে সাহায্য করুন। 🧠❤️
ডাঃ মোঃ নাজমুল হাসান
এমবিবিএস, এমডি (নিউরোলজি)
সিসিডি (বারডেম)
(সহযোগী অধ্যাপক, নিউরোলজি বিভাগ), ডাঃ সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল লিঃ
🔹chember@
1.. আয়াত মেডিকেল সেন্টার
আঞ্জুমান কমপ্লেক্স (২য় তলা) ,হাতিমারা চৌরাস্তা, রামপাল, মুন্সীগঞ্জ।
ফোন: ০২ ৯৯৬৮৪ ৭১৭২, মোবাইল: ০১৯৫১ ৪৪০ ৮০০, ০১৩২২ ৫১৬ ১২১
* প্রতি মঙ্গলবার ও শুক্রবার
2. সুমনা হাসপাতাল লিঃ
ঠিকানা: ৩, ৪, পাটুয়াটুলী, সদরঘাট, ঢাকা ১১০০
ফোন: ০২ ৯৫৬১ ৭৮৬, ০২৪৭১১ ৫৫৩১
হট-লাইন: ০১৯৭৭ ৭৮৭ ০৩৩, ০১৯৭৭ ৭৮৭০৪৪
3. ডাঃ সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল লিঃ
ঠিকানা: ১২/৩ নিউ সার্কুলার রোড, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭
হট-লাইন: ০২ ৪৮৩২ ২১২১, ০১৯২৭ ৩৩৩ ০০০
#মৃগীরোগ #খিঁচুনি #মৃগী_সচেতনতা