30/08/2026
OT-র পর পেশেন্টকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ২ টা এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করেছেন, Linezolid আর Metronidazole (যে রোগের-যে রোগীর জন্য যে চিকিৎসা প্রযোজ্য)
হাসপাতাল থেকে ছুটির ৩ দিন পর পেশেন্ট এসেছে আমার চেম্বারে তার অন্য সমস্যা নিয়ে।
আগের হাসপাতালের Discharge Paper (ছুটির কাগজ) দেখে Drug History নেয়ার সময় জিজ্ঞেস করলাম, প্রথম ওষুধটা (Linezolide) খাচ্ছেন নিয়মিত?
বলে, স্যার খাইতেছি ঠিক মতোই।
জিজ্ঞেস করলাম, দ্বিতীয় ওষুধ এই Metronidazole?
রোগীর উত্তর, স্যার, ফার্মেসি থেকে বলছে আমার তো পেটে সমস্যা নাই, পাতলা পায়খানা নাই। এইটা খাওয়া লাগবো না। তাই একটাও খাই নাই।
মনে মনে বললাম, ধরণী তুমি ফা-ক হও, আমি টুপ করে ভেতরে ঢুকে যাই।
-
বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যেখানে জেনে বুঝে-প্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করেছে, সেখানে ফার্মেসি দোকানদার মাতব্বরি করেছে, মেট্রোনিডাজল পাতলা পায়খানার ওষুধ, পেট খারাপের ওষুধ - এইটা খাওয়া লাগবে না।
অত:পর কয়দিন পর হয়তো পেশেন্ট ইনফেকশন নিয়ে আসবে।
-
আবার কখনো অন্য কোন পেশেন্ট ২ দিনের জ্বর, কিংবা মাথা ব্যাথা, গলা ব্যাথা, পেট ব্যাথা নিয়ে ফার্মেসি দোকানদারের কথায় যত্রতত্র এন্টিবায়োটিক খেয়ে আসবে। তারপর দেখা যাবে, রোগীর এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট।
অবশ্য বাইরের কথা কি বলবো, আমার পরিচিত আশেপাশের মানুষজনই ১/২ দিনের জ্বরে আমি এন্টিবায়োটিক সাজেস্ট না করলেও ফার্মেসির দোকানদারের কাছে শুনে নিজের মন মতোই এন্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করে। কারণ এন্টিবায়োটিক না খেলে নাকি দ্রুত সুস্থ হবে না।
আবার কাউকে এন্টিবায়োটিক সাজেস্ট করলে অর্ধেক কোর্সে গিয়েই এন্টিবায়োটিক অফ করে দেয়। তাদের ব্যাখ্যা, সুস্থ হয়ে গেছি তো, আর খাওয়ার দরকার নেই।
কিন্তু লং-টার্মে গিয়ে যে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাচ্ছে - সেটা যতোই বুঝাতে চাই, লাভ নাই।
আমার রোগীদের কাউন্সেলিং করলে তারা বুঝে, কিন্তু ফ্যামিলি মেম্বাররা বুঝে না।
এটা আমার ব্যর্থতা অবশ্যই।
-
হাসপাতালের ইমার্জেন্সির ২০০/৩০০ টাকার,
ডাক্তারের চেম্বারের ৪০০/৫০০/১০০০ টাকার ভিজিট বাচিঁয়ে দোকানদারের কথায় ওষুধ খেয়ে অনেক লাভ করলেন, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য যে লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে - টেরই পাচ্ছেন না।
-
আরো খান ডাক্তারের ভিজিটের টাকা বাঁচিয়ে ফার্মেসির দোকানদারের কথায় ওষুধ।
একসময় হয়তো গিয়ে বড় কোন ইন্টার্নাল ইনফেকশন দিনের পর দিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিবেন, হয়তো এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে শেষে কোন ওষুধে কাজ না করে বিনা ওষুধে মৃত্যুর প্রহর গুণবেন।
লাভ গুণবে হাসপাতাল, আর রোগীর এরকম অবস্থা দেখে আফসোস করবে হতাশ হবে আপনার ডাক্তার।
তাতে কার কি???
- ডা. ফামীম আহমেদ