14/12/2025
আপনি সুরক্ষিত তো, সুরক্ষিত আপনার সোনামণি
রাতের নিস্তব্ধতায়, ছোট্ট সোনার মুখের দিকে তাকিয়ে আপনার সব ক্লান্তি যেন এক মুহূর্তেই হারিয়ে যায়। তাকে কোলে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ যদি মাথাটা ঘুরে ওঠে বা পা টলে যায়, তখন কেমন লাগবে ভাবুন তো? শিশুর যত্ন নিতে গিয়ে একজন মায়ের নিজের সুরক্ষার কথা ভাবাটা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কারণ, আপনি ভালো থাকলেই তো আপনার সন্তান ভালো থাকবে।
মাতৃত্বের এই নতুন যাত্রায় ক্লান্তি আপনার নিত্যসঙ্গী। তাই যখনই আপনার শিশু ঘুমাবে, সেই সময়টুকু নিজের বিশ্রামের জন্য কাজে লাগান। ক্লান্ত শরীরে শিশুকে দুধ খাওয়াতে গেলে বা গোসল করাতে গেলে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই দুধ খাওয়ানোর সময় আরাম করে বালিশে হেলান দিয়ে বসুন, ঘাড় ও কোমরের নিচে সাপোর্ট দিন। খুব ক্লান্ত লাগলে দাঁড়িয়ে শিশুকে কোলে না রাখাই ভালো।
গোসলের সময়টাও খুব সতর্ক থাকার। প্রয়োজনীয় সবকিছু হাতের কাছে গুছিয়ে নিন, যেন ভেজা শরীরে বা এক হাতে শিশুকে ধরে অন্য কিছু আনতে না হয়। মনে রাখবেন, ভেজা মেঝে কিন্তু খুব বিপজ্জনক হতে পারে।
শরীরের পাশাপাশি মনের যত্ন নেওয়াটাও সমান জরুরি। প্রসবের পর হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মন খারাপ বা উদ্বেগ হওয়াটা স্বাভাবিক। আপনার অনুভূতিগুলো পরিবারের সাথে ভাগ করে নিন। যদি দেখেন মন খারাপের মেঘটা কিছুতেই সরছে না, তবে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না। জ্বর, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা অস্বাভাবিক কোনো শারীরিক কষ্টকে অবহেলা করবেন না এবং অবশ্যই প্রসব-পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Postnatal checkup) করান।
মনে রাখবেন, শিশুর যত্ন নেওয়াটা কোনো একক দৌড় নয়, এটি একটি দলগত প্রচেষ্টা। পরিবারের অন্যদের সাহায্য নিন। কারণ, একজন সুস্থ, শান্ত ও সুরক্ষিত মা-ই পারেন তাঁর সন্তানকে সবচেয়ে সুন্দর শৈশব উপহার দিতে।
আপনার ও আপনার সন্তানের সুরক্ষা নিয়ে যেকোনো পরামর্শের জন্য আমরা আছি আপনার পাশে।