27/04/2026
👉প্রসঙ্গ : টিকাদানের স্থানে তুলা দিয়ে চেপে ধরা।
গতকাল হাম রুবেলা ক্যাম্পেইনে কোন এক কেন্দ্রে শিশুকে টিকাদানের পর টিকার স্থানে সিরিঞ্জের ভেতরের সাদা অংশ দিয়ে চেপে ধরায় - কালবেলা নামক পত্রিকায় এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এতে আবার সায় দিয়েছেন এক সম্মানিত ডাক্তার।
ফলে এটা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তুষ্টি লক্ষ্য করা গেছে। যা খুবই দু:খজনক এবং একেবারেই অনভিপ্রেত।
কেন? আসুন জানার এবং বোঝার চেষ্টা করি।
প্রথমত, টিকাদানের পর টিকার স্থানে কোন কিছু দিয়ে চেপে না ধরাই উত্তম বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন।
দ্বিতীয়ত, হ্যাঁ তবে টিকাদানের পর কিছু ক্ষেত্রে রক্ত আসার সম্ভাবনা থাকে এবং মাঝেমধ্যে দু একজনের রক্ত আসেও,তাতে টিকা গ্রহীতা ও অভিভাবকগণ ভীত হতে পারেন বিধায় টিকাদানের স্থানে জীবাণুমুক্ত কিছু দিয়ে চেপে ধরা যেতে পারে বলে বলা হয়েছে।
এখন কথা হলো, সেই জীবাণুমুক্ত জিনিসটা কি হবে?
সেটা কি তুলা নাকি সিরিঞ্জের ভেতরের সাদা অংশ নাকি ভিন্ন কিছু??
প্রথম কথা হলো যেহেতু,নির্দেশনা অনুযায়ী টিকাদানের স্থানে কোন কিছু দিয়ে চেপে ধরাই অনুচিত,সেক্ষেত্রে সরকারিভাবে অনেকদিন আগে থেকেই টিকাদান কেন্দ্রে কোন তুলা সরবরাহ করা হয় না।
তাছাড়া তুলার ব্যাণ্ডেল খোলার পর তা আলগা থাকে এবং বাতাসের সংস্পর্শে আসে বিধায় তুলা সবসময় জীবাণুমুক্ত নাও হতে পারে।
দ্বিতীয় কথা হলো,এলকোহল প্যাড দিয়ে চেপে ধরা। এটা কখনোই করা যাবে না। কারণ EPI এ যে টিকাগুলো দেয়া হয় তা লাইভ ( Live) ভ্যাকসিন। তাই এলকোহল প্যাড দিয়ে টিকাদানের স্থান মুছলে বা চেপে ধরলে টিকা কার্যকারিতা হারাতে পারে।
তৃতীয় কথা হলো, সিরিঞ্জের ভেতরটা থাকে সম্পূর্ণ জীবাণুমক্ত। যখন কোন বাচ্চাকে টিকা প্রদান করা হয় তাঁর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে সিরিঞ্জের প্যাকেটটি ছেঁড়া হয়। ফলে সিরিঞ্জের ভেতরের সাদা অংশ তখনও সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত থাকে।
তাই রক্ত আসা রোধে এবং অভিভাবকরা যেন ভীত না হন সেজন্যই টিকাদানের পরে টিকার স্থানে সিরিঞ্জের ভেতরের সাদা অংশ দিয়ে চেপে ধরা হয়।
এটা খুবই সাধারণ অথচ অসাধারণ একটি কৌশল ভিন্ন আর কিছু নয়।
তাই নিরদ্বিধায় বলা যায় যে,টিকাদানের পর টিকাদানের স্থান সিরিঞ্জের প্যাকেটের ভেতরের সাদা অংশ দিয়ে চেপে ধরাই সর্বোত্তম পন্থা।
বর্তমানে দেশব্যাপী হাম রুবেলা ক্যাম্পেইন চলছে। কোটি শিশু এই টিকা পাচ্ছে। অভিভাবকরা এমনিতেই টিকা নিয়ে নানান গুজবে ভীত হয়ে থাকেন।
তার উপর একটা জাতীয় দৈনিক যদি পুরো ব্যাপারটা না জেনে এভাবে নিউজ প্রচার করে তাহলে তা নিশ্চিতভাবে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করে। যাঁর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে টিকাদানের মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ক্যাম্পেইনে।
তাই আসুন আগে সঠিকটা জানি, বুঝি তারপর সেটা নিয়ে কথা বলি।
( উল্লেখ্য, প্রচারিত সংবাদের অসঙ্গতি দেখে একজন স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে প্রত্যক্ষ টিকাদান অভিজ্ঞতা থেকে লিখাটি লিখতে বাধ্য হলাম। ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি)।
I