06/08/2026
ইউকে আসার পর বুঝেছি বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা তুলনামূলক ভাবে স্বর্গ!
প্রথমে আমি আমার এক্সপেরিয়েন্সই শেয়ার করি! এখানে আসার আগে আমার স্কিন ছিল গ্লাস স্কিনের মতন। ব্রণের সমস্যা ছিলনা বললেই চলে।
এখানে আসার পরই আমার হেয়ারফল যেমন বাড়লো, তেমনি মুখে একনে উঠে ভ রে যেতে লাগলো। আর যেহেতু প্রেসক্রিপশন ছাড়া তেমন কোনো ওষুধ ও কেনা যায়না, তাই ভাবলাম ডার্মাটোলজিস্ট দেখাই।
কিন্তু এখানে ডিরেক্ট ডার্মাটোলজিস্ট দেখানো যায় না। আগে জিপিকে দেখালাম।তিনি কিছু বেইজলাইন টেস্ট দিলেন। সেগুলোর রিপোর্ট আসলো এক মাস পরে। এক মাস পরে আবার সেই জিপিকেই দেখলাম।
এবার তিনি বললেন-"আমি তো ডার্মাটোলজিস্ট না, তাউই আমি তোমাকে এই সমস্যার জন্য কোনো ওষুধ বা সিরাম প্রেসক্রাইব করতে পারবোনা।"
এরপরে তিনি ডার্মাটোলজিস্টের কাছে রেফার করলেন আমাকে। এবার আসলো মেইন ধামাকা!
সিরিয়াল দেয়ার বারোমাসের মধ্যে আমি একজন ডার্মাটোলজিস্টকে দেখাতে পারবো।মানে আজকে থেকে একবছর পরেও যদি আমার সিরিয়াল আসে,তাহলে তখনই আমাকে দেখবে, এর আগে না! এখন যে হারে চুল পরছে, মনে হচ্ছে ডাক্তার দেখাতে দেখাতে মাথায় আর চুল ই থাকবেনা!
এবার বলি অন্যদের অভিজ্ঞতার কথা।
আমাদের বাড়িওয়ালা, ব্রিটিশ ভদ্রলোক। চোখের ছানির অপারেশন করবেন। কয়েক দফায় ডাক্তার দেখানোর পরে উনাকে একটা ডেট দেয়া হলো অপারেশনের। সেই ডেটে তিনি গেলেন, পাঁচ ঘন্টা অপেক্ষা করলেন। এরপরে উনাকে জানানো হলো- "আজকে অপারেশন হবেনা, আবার ডাক্তার দেখিয়ে সিরিয়াল নিতে হবে।"
পরিচিত এক আপুর প্র্যাগনেন্সির সময় ডেলিভারি ডেটের অনেক আগেই পানি ভেঙে গেলো।আমি ইন্টার্ন থাকা অবস্থায় গাইনীতে এইরকম রোগীদের যে চিকিৎসা দিয়েছি,আপুটা এই ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রির একটা সরকারি হাসপাতালেও সেই চিকিৎসা পায়নি।উনাকে কিছুক্ষণ অবজার্ভেশনে রেখে কোনো ওষুধ না দিয়েই বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হলো।একদিন পরে উনার জ্বর উঠলো, ইমার্জেন্সি হাসপাতালে ভর্তি করানো লাগলো, এবং ইনফেকশন বাচ্চা পর্যন্ত ছড়িয়ে বাচ্চার মেনিনজাইটিস হয়ে গেলো। জন্মের পরে একমাস বাচ্চাকে এনআইসিইউতে রাখতে হলো।
হাজব্যান্ডের এক মিউচুয়াল ফ্রেন্ড ফুটবল খেলতে গিয়ে মাথা ফা টি য়ে ফেলেছিল।আটটা সেলাই লাগলো।আর প্যারাসিটামল প্রেসক্রাইব করে বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হলো। কোনো এন্টিবায়োটিক বা হাই ডোজের ব্যথার ওষুধ দেয়া হলোনা। বাসায় ফিরে উনার তীব্র ব্যথা +ইনফেকশন হয়ে জ্বর চলে আসলো!
হাজব্যান্ডের আরেক কলিগের হাজব্যান্ড বাইক এক্সিডেন্ট করে ফ্র্যাকচার নিয়ে হাসপাতালে গেলো।এই ফ্র্যাকচার, ব্লিডিং আর ব্যথা নিয়ে আট ঘন্টা সিরিয়ালে থাকার পরে ডাক্তার উনাকে দেখলো।
এমন হাজারটা উদাহরণ দিতে পারবো। হাজব্যান্ডের এক ব্রিটিশ কলিগ আমাদের দেশে কত সুলভ মূল্যে এবং কত ফাস্ট ডাক্তার দেখানো যায় শুনে বললো-"তাহলে তো তোমরা বেহেশতে থাকো!আমিও তোমাদের দেশে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে চাই!"
আর আমাদের দেশে ডাক্তাররা একটা স্ট্রোক কিংবা হার্টএটাকের রোগী আসলে দৌড়ে গিয়ে চিকিৎসা দেয়,হাসপাতালে ওষুধের সাপ্লাই না থাকলে নিজ খরচে ওষুধ আনিয়ে আগে রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, তাও দিনশেষে ডাক্তাররাই হয় কসাই, ডাক্তাররাই খায় মা ই র!
Post Credit:
-Safia Binte Ahmed