06/05/2026
সংসারে অশান্তি নেমে আসার অন্যতম কারণ হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার অভাব। বর্তমান সমাজে অনেকেই স্ত্রী-সহবাসকে শুধু শারীরিক চাহিদা মনে করেন, অথচ এটি আসলে ভালোবাসা বাড়ানোর, মানসিক দূরত্ব কমানোর এবং সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সহবাস আল্লাহ তাআলার একটি বিশেষ নেয়ামত। এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে বুঝতে পারেন, সম্পর্কের ভেতরের বন্ধন আরও মজবুত হয়। সহবাসের সময় আলাপ, দোয়া এবং ভালোবাসার প্রকাশ দাম্পত্য জীবনে উষ্ণতা তৈরি করে। পারস্পরিক সম্মান, ধৈর্য ও যত্নের মাধ্যমে এটি মানসিক দূরত্ব কমানোর সুন্দর উপায় হয়ে ওঠে।
সহবাস ছাড়া সম্পর্ক টিকে থাকতে পারে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তা অপূর্ণ থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তবে অসুস্থতা বা বিশেষ পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরার কথাও কুরআন ও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
ইসলামে সহবাস শুধু আনন্দের বিষয় নয়; বরং এটি দাম্পত্য জীবনের সুস্থতা ও শীলতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ
‘তোমাদের কারো স্ত্রী-সহবাসও একটি সাদকা।’
সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলে তিনি ﷺ বলেন:
أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ وِزْرٌ؟ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِي الْحَلَالِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ
অর্থাৎ, হারাম পথে করলে যেমন গুনাহ হয়, তেমনি হালাল পথে করলে সওয়াব হয়।
যদি স্ত্রী সহবাসে আগ্রহ না দেখায়, তাহলে প্রথমে ধৈর্য ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এটি শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক চাপ বা সম্পর্কের দূরত্বের কারণেও হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
‘তোমরা তাদের সাথে সদাচরণ করো।’
তাই জোর করে নয়; বরং ভালোবাসা, সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
ফলো করুনঃ বিয়ে করতে হবে