13/09/2026
একটি সুন্নাহকে বাঁচাব বলেঃ
ভীতিমুক্তির দোয়া!
-
১: ভয় পাওয়া, মানুষের স্বাভাবিক ক্রিয়া। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ অসংখ্যবার ভয় পায়। শংকিত হয়। দুনিয়ার জীবনে মানুষ অসংখ্য সংকট সমস্যার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়। কখনো প্রবল শক্তিমান শত্রুর মুখোমুখি হয়ে মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উপায়ান্তরহীন অসহায় বোধ করে। কখনো গা-ছমছমে ঘোর অন্ধকারে একাকী চলতে গিয়ে ভীতচকিত হয়ে ওঠে। এসব ভয় কাটিয়ে ওঠার উপায় কী? রাব্বে কারীম সবধরনের ভয় ও অন্তরের নেতিবাচক প্রবণতা কাটিয়ে ওঠার অব্যর্থ উপায় বাতলে দিয়েছেন,
أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُ وَيُخَوِّفُونَكَ بِالَّذِينَ مِنْ دُونِهِ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ
(হে রাসূল!) আল্লাহ কি তার বান্দাদের জন্য যথেষ্ট নয়? তারা আপনাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যদের ভয় দেখায়। আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন তাকে পথে আনার কেউ নেই (যুমার ৩৬)।
২. একমাত্র সমাধান আল্লাহর উপর অবিচল অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস। মনকে পুরোপুরি আল্লাহভিমুখী করতে পারলে, যাবতীয় ভয়ভীতি এমনিতেই দূর হয়ে যাবে। কলবে আল্লাহ বসে গেলে, দুনিয়ার বুকে ভয় করার মতো আর কে আছে? আমার সাথে আল্লাহ থাকলে, গোটা দুনিয়ার তাবৎ শক্তি আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেলেও কিছু করতে পারবে না। আমি আল্লাহর, আল্লাহ আমার হয়ে গেলে, ভাবনার কিছু নেই। তিনি আমাকে রক্ষা করবেন। আমার শত্রুদের প্রতিরোধ করবেন। শত্রু যেই হোক, যেমনই হোক, নবীজি আমাদের শত্রুর ভয়কে জয় করার মোক্ষম সমাধান দিয়ে গেছেন। আবূ মূসা আশআরী রা. বর্ণনা করেছেন,
أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَافَ قَوْمًا، قَالَ
নবীজি কোনও সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করলে বলতেনঃ
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ
হে আল্লাহ! আমরা তাদের মোকাবিলায় আপনাকে যথেষ্ট ভাবছি এবং তাদের অনিষ্ট হতে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি (আবূ দাউদ ১৫৩৭)।
৩. স্থায়ী ভয় একমাত্র আল্লাহকেই করতে হবে। অন্যকিছুর ভয় সাময়িক হবে। ভয় পাওয়া দোষের কিছু নয়। ভয়কে প্রশ্রয় দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকা দোষের। দুঃখ-শোক, ভয়ভীতি দেখা দিলে মুমিনের প্রথদ পদক্ষেপ হবে দোয়া। আম্মাজান আয়েশা রা. বলেছেন,
أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَمَعَ أَهْلَ بَيْتِهِ، فَقَالَ: ্রإِذَا أَصَابَ أَحَدَكُمْ غَمٌّ أَوْ كَرْبٌ، فَلْيَقُلِ:
আল্লাহর রাসূল তার পরিবারবর্গকে একত্র করে বললেন, তোমাদের কারও উপর দুঃখশোক অথবা বিপদ নেমে এলে বলবে,
اللَّهُ اللَّهُ رَبِّي، لَا أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا
আল্লাহ আল্লাহই আমার একমাত্র প্রতিপালক। আমি তাঁর সাথে আর কাউকে শরীক করি না (ইবনে হিব্বান ৮৬৪)।
আরেক বর্ণনায় আসমা বিনতে উমাইস রা. বর্ণনা করেছেন,
قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ্রأَلَا أُعَلِّمُكِ كَلِمَاتٍ تَقُولِينَهُنَّ عِنْدَ الْكَرْبِ -أَوْ فِي الْكَرْبِ-؟
একদিন আল্লাহর রাসূল আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দিবো না, যা তুমি বিপদের সময় পাঠ করবে? তা হচ্ছেঃ
أَللَّهُ أَللَّهُ رَبِّي لَا أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا
আল্লাহ আল্লাহই আমার একমাত্র প্রতিপালক। আমি তাঁর সাথে আর কাউকে শরীক করি না (আবূ দাউদ ১৫২৫)
৪. খন্দকের যুদ্ধের সময় ছিল মদীনার মুসলমানদের চরম দুর্দিন। পরিস্থিতি চরম সঙ্গীন হয়ে গিয়েছিল। অনেক সাহাবীর মনে সাময়িক দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল। সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও নবীজি দোয়ার আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। আবূ সাঈদ খুদরী রা. বর্ণনা করেছেন,
قُلْنَا يَوْمَ الْخَنْدَقِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ؛ هَلْ مِنْ شَيْءٍ نَقُولُهُ، فَقَدْ بَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ؟ قَالَ: ্রنَعَمْ،
আমরা খন্দক যুদ্ধের দিন বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদেরকে কি কিছু বলবেন? আমাদের প্রাণ তো কণ্ঠগত। নবীজি বললেন, হ্যাঁ আছে। তোমরা বল:
اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِنَا، وَآمِنْ رَوْعَاتِنَا
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের দোষ-ত্রুটিগুলো ঢেকে রাখুন, আমাদের ভয়-ভীতি নিরাপত্তায় পরিণত করুন।
فَضَرَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وُجُوهَ أَعْدَائِهِ بِالرِّيحِ، فَهَزَمَهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِالرِّيحِ
আবূ সাঈদ রা. বললেন, আল্লাহ তাআলা তার শত্রুদের ঝড়-ঝঞ্ঝা হাওয়া দিয়ে দমন করলেন এবং এ ঝড়-ঝঞ্ঝা হাওয়া দিয়েই তাদেরকে পরাজিত করলেন (আহমাদ ১১০০৯)।
৫. বিভিন্ন দোয়ার বইয়েও দোয়াগুলো আছে। আমরা গুরুত্ব দেইনা। অথচ দোয়াগুলোর প্রচণ্ড শক্তি। এসব দোয়া নবীজির মুখ দিয়ে আল্লাহ তাআলাই বলিয়েছেন। বিপদ না থাকলেও দোয়াগুলো মাঝেমধ্যে পড়ব। দোয়ার অর্থ নিয়ে গভীরভাবে ভাবব। দৃঢ় বিশ্বাস রাখব, এই বিশ্বজগত আল্লাহর। তিনিই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। আল্লাহর ফয়সালার কোনও প্রতিরোধকারী নেই। আমার একেকটি দোয়া জালিমের বিরুদ্ধে আল্লাহর ফয়সালা হয়ে ফিরে আসবে। রাব্বে কারীম আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদূ আনহু।
সংগৃহীত