04/04/2026
হাম সংক্রমণ প্রতিরোধে এখনই সতর্ক হওয়া দরকার। সম্প্রতি অনেক অভিভাবক তাদের শিশুর জ্বর ও শরীরে র্যাশ নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা হাসপাতালে ভিড় করছেন। এই শিশুদের অনেকেরই হাম শনাক্ত হচ্ছে।
★হাম কি?
হাম বা রুবিওলা বা মিজেলস একটি অত্যন্ত ছোয়াঁচে ও ভাইরাসঘটিত রোগ। এই ভাইরাস বাতাস বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসটি প্রথমে আক্রান্ত ব্যাক্তির শ্বাসনালিতে সংক্রমিত হয়, এরপর রক্তের মাধ্যমে দেহের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
★হামে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
👉 শুরুতে (প্রথম ৩–৫ দিন)
• হঠাৎ জ্বর (১০২–১০৪°F)
• কাশি, সর্দি
• চোখ লাল হয়ে যাওয়া
• আলো সহ্য করতে না পারা
👉 বিশেষ লক্ষণ
• মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (ডাক্তারি ভাষায় একে Koplik spot বলে)
👉 এরপর
• মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লাল ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে
• জ্বর আরও বেড়ে যেতে পারে
• শিশু খুব দুর্বল হয়ে পড়ে
⚠️ কখন বেশি চিন্তার?
• শ্বাস নিতে কষ্ট হলে
• খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিলে
• খিঁচুনি হলে
• বারবার বমি হলে
👉 এসব লক্ষন দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত আপনার শিশুকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসক এর পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা দিন।
★ হাম প্রতিরোধ
হাম প্রতিরোধের একমাত্র ব্যাবস্থা হল হামের টিকা প্রদান। বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের দুবার‘এমআর’ (মিজলস রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। একবার ৯ মাস বয়সে আর দ্বিতীয়টি ১৫ মাস বয়সে। আপনার শিশুকে টিকা না দিয়ে থাকলে দ্রুত ভ্যাক্সিন দেওয়ার ব্যাবস্থা করুন।
★ শিশু হামে আক্রান্ত হলে অভিভাবকের করণীয়:
• বর্তমান সময়ে কোনো শিশুর জ্বর এবং শরীরে র্যাশ দেখা দিলে তা হাম হোক বা না হোক, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
• শিশুর শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত পাঁচ দিন শিশুকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খাওয়াতে হবে।
• পরিচ্ছন্নতা
নিয়মিত কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিতে হবে বা গোসল করাতে হবে।
★ হামের জটিলতা
• অন্ধত্ব
• এনসেফালাইটিস (একটি সংক্রমণ যা মস্তিষ্কে ফোলাভাব এবং সম্ভাব্য মস্তিষ্কের ক্ষতি ঘটায়)
• তীব্র ডায়রিয়া এবং এর ফলে পানিশূন্যতা
• কানের সংক্রমণ
• নিউমোনিয়াসহ গুরুতর শ্বাসকষ্ট।
★ হামে আক্রান্ত শিশুর খাবার কী হওয়া উচিত
• রোগের শুরুতে ক্ষুধামান্দ্য থাকায় কমলা বা লেবু খাওয়াতে পারেন।
• পর্যাপ্ত তরল খাবার:
পানিশূন্যতা রোধে শিশুকে বেশি করে পানি, স্যুপ, ফলের রস ও কুসুম গরম তরল খাবার দিতে হবে।
• ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার : হামের তীব্রতা কমাতে ভিটামিন ‘এ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গাজর, মিষ্টি আলু, পালংশাক ও ব্রকলি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
• প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার: শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য প্রোটিন জরুরি। এজন্য মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার খাওয়ানো প্রয়োজন।
• জিংকসমৃদ্ধ খাবার: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিংক কার্যকর। লাল মাংস, মুরগি, শিম, বাদাম ও পূর্ণ শস্য এ ক্ষেত্রে উপকারী।
• ভিটামিন ‘সি’: ভিটামিন ‘সি’ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। লেবুজাতীয় ফল, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও কিউই খাওয়াতে পারেন।
★ হাম রোধে ভেষজ উদ্ভিদ
তুলসী, যষ্টিমধু, জয়ফল, অশ্বগন্ধা এসব ভেষজ উদ্ভিদ মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, আপনার শিশুর ইমিউন সিস্টেম বাড়াতে এবং অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে এসব ভেষজ।
❤️❤️Stay Safe,
Be Healthy❤️❤️
Dr. GK Obaidur
B.H.M.S (Dhaka University)
D.G Health Reg. No: H-1521(Homoeo)