18/05/2026
সিজনাল কমন কোল্ড (ঠান্ডা-কাশি):
সিজন পরিবর্তনের সময় অনেকেই হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা ব্যথা বা কাশিতে ভোগেন। এটিই সাধারণত “কমন কোল্ড” বা মৌসুমি ঠান্ডা-কাশি নামে পরিচিত। এটি খুব সাধারণ একটি ভাইরাসজনিত অসুখ এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কয়েক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়।
কেন হয়?
কমন কোল্ড মূলত বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের কারণে হয়, বিশেষ করে রাইনোভাইরাস। আবহাওয়া পরিবর্তন, ঠান্ডা পরিবেশ, ভিড়, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা ইত্যাদি কারণে এটি দ্রুত ছড়ায়।
কীভাবে ছড়ায়?
হাঁচি-কাশির মাধ্যমে।
আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস স্পর্শ করলে।
হাত না ধুয়ে চোখ, নাক বা মুখে হাত দিলে।
সাধারণ লক্ষণ
নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ
হাঁচি
গলা খুসখুস বা ব্যথা
হালকা জ্বর
শুকনো বা হালকা কাশি
শরীর দুর্বল লাগা
মাথা ব্যথা
কতদিন থাকে?
সাধারণত ৫–৭ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে কাশি কিছু ক্ষেত্রে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।
চিকিৎসা কী?
কমন কোল্ডের নির্দিষ্ট কোনো “অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা” নেই, কারণ এটি ভাইরাসজনিত রোগ। তাই চিকিৎসা মূলত উপসর্গ কমানোর জন্য করা হয়।
যা করলে উপকার পাওয়া যায়:-
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
বেশি পানি ও গরম তরল পান করুন।
গরম ভাপ নিতে পারেন।
লবণ-পানি দিয়ে গার্গল করুন।
জ্বর বা শরীর ব্যথায় প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)।
শিশুদের ক্ষেত্রে ওষুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?
নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন—
শ্বাসকষ্ট।
১০১°F এর বেশি জ্বর দীর্ঘসময় থাকা।
বুকে ব্যথা।
শিশুর খাওয়া কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঝিমিয়ে পড়া।
কাশি বা ঠান্ডা ১০ দিনের বেশি থাকা।
ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া।
প্রতিরোধের উপায়:-
নিয়মিত হাত ধোয়া।
হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা।
অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকা।
পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।
ডা: সামিয়া তাসনিম, MBBS