29/07/2026
সম্প্রতি দেশের সংবাদমাধ্যমে চিনি, দুধ ও সয়াবিন তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যেও Microplastic উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে। আসুন জেনে নেই এই সম্পর্কে কিছু তথ্য:
🔹 মাইক্রোপ্লাস্টিক কি?
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো প্লাস্টিকের অত্যন্ত ক্ষুদ্র কণা, যার আকার সাধারণত ৫ মিলিমিটারের কম (একটি চালের দানা বা তিলের চেয়েও ছোট)। এটি খালি চোখে স্পষ্ট বোঝা কঠিন হলেও আমাদের চারপাশের বাতাস, পানি, খাদ্যপণ্য এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসে ছড়িয়ে পড়েছে।
🔹মাইক্রোপ্লাস্টিক কেন ব্যবহার বা তৈরি হয়?
মাইক্রোপ্লাস্টিক মূলত দুটি উপায়ে তৈরি ও ব্যবহৃত হয়:
-প্রাথমিক মাইক্রোপ্লাস্টিক (উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যবহার): শিল্প কারখানায় নির্দিষ্ট কাজের জন্য এগুলো ছোট করেই তৈরি করা হয়। যেমন:
*কসমেটিকস, ফেসওয়াশ ও টুথপেস্টে স্ক্রাবার/এক্সফোলিয়েটর হিসেবে (মাইক্রোবিডস)।
* সিন্থেটিক কাপড়ের তন্তু (যেমন: পলিয়েস্টার, নাইলন)।
* প্লাস্টিক পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে (প্লাস্টিক নাগেটস বা পেলেট)।
-সেকেন্ডারি মাইক্রোপ্লাস্টিক (প্লাস্টিক ভেঙে তৈরি):
* বড় আকারের প্লাস্টিক বর্জ্য (যেমন: বোতল, পলিথিন, প্যাকেট, টায়ার) রোদ, বাতাস, পানি ও তাপের প্রভাবে ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত ও টুকরো টুকরো হয়ে ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়।
❌খাদ্যদ্রব্যে (যেমন চিনি, তেল বা দুধে) এটি ইচ্ছে করে মেশানো হয় না; বরং প্লাস্টিক প্যাকেজিং, প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রাংশ, পরিবেশগত দূষণ এবং বোতলজাতকরণের সময় অসাবধানতাবশত খাদ্যে মিশে যায়।
🔹স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর দিক:
মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে:
*হরমোন ও এন্ডোক্রাইন সিস্টেমের ক্ষতি: প্লাস্টিকে থাকা রাসায়নিক (যেমন: BPA, Phthalates) মানবদেহের হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়।
*কোষের ক্ষতি ও প্রদাহ: রক্তের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পৌঁছে টিস্যু বা কোষে প্রদাহ (Inflammation) এবং কোষের কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে পারে।
*ক্যান্সার ও জটিল রোগের ঝুঁকি:** এটি দীর্ঘদিন দেহে জমা হতে থাকলে লিভার, কিডনি, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
*হজমপ্রক্রিয়া ও প্রজনন স্বাস্থ্যে ব্যাঘাত:পাকস্থলী ও অন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমানোর পাশাপাশি প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
*বিষাক্ত পদার্থ বহন: মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশের ভারী ধাতু ও বিষাক্ত রাসায়নিক শুষে নেয়, যা খাদ্যের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে বহুগুণ বেশি ক্ষতি করে।
🔹মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়:
সম্পূর্ণভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক এড়ানো কঠিন হলেও দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এনে এর মাত্রা অনেকাংশে কমানো সম্ভব:
*প্লাস্টিক বোতল ও পাত্রে গরম খাবার/পানীয় না নেওয়া:প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার বা চা-কফি রাখলে এবং প্লাস্টিকের বোতলে পানি খেলে প্রচুর পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারে মেশে। কাচ, স্টিল বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করুন।
*একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (Single-use plastic) বর্জন: প্লাস্টিক ব্যাগ বা পলিথিনের বদলে সুতি বা চটের ব্যাগ ব্যবহার করুন।
*প্রসেসড ও প্লাস্টিক-প্যাকড খাবার কমানো:বাজার থেকে যথাসম্ভব তাজা ও প্রক্রিয়াজাতহীন খাবার কেনার চেষ্টা করুন।
*মাইক্রোওয়েভে প্লাস্টিক ব্যবহার না করা:খাবার গরম করার সময় কখনোই প্লাস্টিকের বাটি বা কনটেইনার ব্যবহার করবেন না, এমনকি তা "Microwave Safe" লেখা থাকলেও।
*প্রাকৃতিক তন্তুর পোশাক পরিধান: সুতি, লিনেন বা সিল্কের মতো প্রাকৃতিক কাপড়ের পোশাক ব্যবহার বাড়ান; সিন্থেটিক কাপড়ে ধোয়ার সময় প্রচুর মাইক্রোফাইবার নির্গত হয়।
*পানি ফিল্টার করা:খাওয়ার জন্য মানসম্মত ফিল্টার ব্যবহার করে পানি পান করার চেষ্টা করুন।
✅সচেতনতা ও প্লাস্টিকের ব্যবহার সীমিত করাই এই ঝুঁকি কমানোর প্রধান উপায়।