16/06/2026
আজ ১১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ডিউটি করছিলাম। আমি সাধারণত ওয়ার্ডে পৌঁছেই রোগীর ফাইল দেখে হিস্ট্রি লিখে রাখি। আজও সেই কাজেই ব্যস্ত ছিলাম। লিখতে লিখতেই হঠাৎ থরথর কাঁপা হাতে একটি খাতা আমার দিকে এগিয়ে এলো।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাথা তুলে তাকালাম। দেখি, এক কিশোর আমার দিকে আশাভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তার বাড়িয়ে দেওয়া খাতাটি হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলাম। সে নিজের হাতে একটি ছোট্ট চিরকুট লিখেছে যেন বেঁচে থাকার এক আকুল আবেদন, সুস্থ জীবনে ফিরে যাওয়ার এক নিঃশব্দ আর্তি।
চিরকুটটি পড়া শেষ করে ছেলেটির দিকে তাকাতেই পাশে থাকা তার বাবা বললেন,
“ম্যাডাম, আমার ছেলে ১০ বছর ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এর মধ্যে কখনোই নিয়মমতো সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখেনি। (genetic disorder আছে)আজ প্রায় পাঁচ মাস হলো সে কথা বলতে পারে না। এখন সে লিখেই নিজের মনের ভাব প্রকাশ করে। সে পড়াশোনা করেছে। সে শুধু আগের মতো একটি স্বাভাবিক, সুস্থ জীবন ফিরে পেতে চায়।”
কথাগুলো শুনে আমার সহপাঠীরাও গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। কিন্তু সত্যি বলতে, আমাদের আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। সেই মুহূর্তে নিজেকে খুব অসহায় আর ব্যর্থ মনে হচ্ছিল। কারণ, তার কষ্ট করে লেখা সেই ছোট্ট চিরকুটের আশাটুকুও আমরা পূরণ করতে পারছিলাম না।
আমরা কেউই চাই না জীবনের কোনো এক পর্যায়ে নিজেকে এভাবে উপায়হীন অবস্থায় দেখতে। তাই অসুস্থ হওয়ার আগেই নিজের যত্ন নিই, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সচেতন হই। কারণ অনেক সময় সামান্য অবহেলাই জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস হয়ে দাঁড়ায়।
১৬-০৬-২০২৬
সানজিদা আক্তার মীম
ইন্টার্ন ডায়টিশিয়ান
বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, শাহবাগ ঢাকা