04/06/2026
রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে একজন মুমিনের করণীয়!
ইসলামের যে কোন সমস্যার সমাধান রয়েছে যার অন্নতম একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলো রুকইয়াহ শারইয়াহ(কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে চিকিৎসা)।
মাঝরাতে হুট করে ঘুম ভেঙে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা বা তারপর আর ঘুম না আসা—এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমাদের কমবেশি সবাইকে যেতে হয়। ইসলাম ও রুকইয়াহ শরইয়াহর দৃষ্টিতে এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের বিশেষ কিছু আমল শিখিয়েছেন, যা মনকে শান্ত করে এবং শয়তানের সব ধরনের কুপ্রভাব থেকে হেফাজত করে।
পরের বার রাতে হুট করে ঘুম ভেঙে গেলে অস্থির না হয়ে সুন্নাহ ও রুকইয়াহর এই ৪টি ধাপ অনুসরণ করুন:
১. এই বিশেষ দোয়াটি পাঠ করুন (শ্রেষ্ঠ আমল)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রাতে যার ঘুম ভেঙে যায় সে যেন বলে:
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। সুবহানাল্লাহি,ওয়ালহামদুলিল্লাহি, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুব্বাতা ইল্লা বিল্লাহ।"
(অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সব বিষয়ে ক্ষমতাবান। আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আল্লাহ মহান। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বাঁচার এবং ইবাদত করার কোনো শক্তি কারো নেই।)
হাদিসে বলা হয়েছে, এই দোয়া পড়ার পর ব্যক্তি যদি বলে "আল্লাহুম্মাগফিরলী" (হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন) অথবা অন্য কোনো দোয়া করে, তবে তার দোয়া কবুল করা হয়। আর সে যদি অজু করে নামাজ পড়ে, তবে তার নামাজ কবুল হয়। (বুখারী হাদিস ১১০৩)
২. বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলুন ও আশ্রয় চান 🛡️
যদি কোনো খারাপ স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে যায় বা মনের ভেতর হুট করে ভয় বা অস্থিরতা কাজ করে, তবে তা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। এমতাবস্থায় সুন্নাহ হলো—বাম দিকে (হালকা ফুঁ দেওয়ার মতো করে) তিনবার থুতু ফেলা এবং এই দোয়া পড়া:
"আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি)। এরপর পাশ ফিরে শুতে হবে।
৩. আয়াতুল কুরসি ও শেষ তিন সূরা পাঠ করুন 📖
যদি কোনোভাবেই আর ঘুম না আসে এবং শরীর ও মন ভারী মনে হয়, তবে বিছানায় বসেই দুরুদ শরিফ, আয়াতুল কুরসি এবং সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস (৩ বার করে) পড়ে নিজের দুই হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নিন (সেলফ রুকইয়াহ)। এটি সমস্ত অনিষ্ট ও জিন-শয়তানের কুপ্রভাব থেকে শরীরকে সুরক্ষিত করে।
৪. অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ুন
বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে সময় নষ্ট না করে অলসতা ঝেড়ে উঠে পড়ুন। অজু করে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে যান। তাহাজ্জুদের এই সময়টি আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার সবচেয়ে উত্তম সময়। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে নিজের মানসিক প্রশান্তি ও অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য দেল থেকে দুআ করুন।
মনোবিজ্ঞান ও রুকইয়াহর সমন্বয়: বিজ্ঞান বলে, রাতে ঘুম ভাঙলে ফোনের স্ক্রিন বা ঘড়ি দেখা যাবে না। আর রুকইয়াহ বলে, এই সময় আল্লাহর জিকিরে মন মশগুল করতে হবে। যখন আপনি ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থেকে আল্লাহর স্মরণে মন দেবেন, আপনার হৃদয় এমনিতেই শান্ত হয়ে আসবে এবং ইনশাআল্লাহ আবার চমৎকার ঘুম চলে আসবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের রাতগুলোকে শান্তিময় করুন এবং শয়তানের সমস্ত উপদ্রব থেকে আমাদের হেফাজত করুন। আমীন।👇
আপনি কি কখনো এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন? আপনার এমন অভিজ্ঞতা কমেন্ট করুন।
আপনার পরিচিতদের উপকারের জন্য পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন।
রুকইয়াহ সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে পরামর্শের জন্য অভিজ্ঞ রাকির সাথে যোগাযোগ করুন 📞01349500889 inayalife