07/06/2026
প্যালিয়েটিভ কেয়ার ডায়েরিঃ
উইলস টিউমার (কিডনি ক্যান্সার) সচরাচর ৫ বছরের কম বয়সে হয়ে থাকে। তবে, আমাদের ফারহানার রোগটি হয় ২৭ বছর বয়সে যখন তিনি ৩ মাসের গর্ভবতী। রোগ নির্নয়ের সময়েই তা অনেক জায়গাতে ছড়িয়ে পড়ে।।
প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের শরীরে বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীর যাত্রায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিট একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। ফারহানা এখন প্যালিয়েটিভ কেয়ারের পাশাপাশি কেমোথেরাপি নিচ্ছে। ফারহানার গল্পের মত অনেক সাফল্যের গল্প লেখা হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ রেডিওথেরাপি (ক্যান্সার) বিভাগ ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে।
আপন বোনের এই যাত্রায় প্যালিয়েটিভ কেয়ারের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ফারহানা'র ভাইয়ের লেখাটি সবার জন্য শেয়ার করলাম।
অনেক সময় রোগমুক্তি কঠিন হয়ে উঠে, তবে ভোগান্তি কমানোর উপায় সবসময় কিছু না কিছু থাকে।।
Dr. Wai Wai Mroy John
ডা. ওয়াই ওয়াই ম্রয় জন
প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। ...................................................
আমার বোনের গল্প
আসসালামু আলাইকুম,
জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন মানুষ অসহায় হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকে—কিছুই করার থাকে না। আমাদের পরিবারের জন্য সেই কঠিন সময়টা শুরু হয়েছিল যেদিন আমার বোন ক্যান্সারে আক্রান্ত হলো।
প্রথমদিকে আমরা ভেবেছিলাম—চিকিৎসা করালে সব ঠিক হয়ে যাবে। চিকিৎসকের পরামর্শে কেমোথেরাপি শুরু হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা বুঝতে পারলাম, এই চিকিৎসার কষ্টটা কতটা গভীর। প্রতিটি কেমো নেওয়ার পর বোনের শরীর ভেঙে পড়তো, দুর্বলতা, বমি, খাবারে অরুচি—সব মিলিয়ে সে যেন ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল।
সবচেয়ে কষ্টদায়ক ছিল তার ব্যথা।
এমন এক ব্যথা, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। রাতের পর রাত সে ঘুমাতে পারতো না, কাঁদতো, ছটফট করতো—আর আমরা পাশে বসে শুধু অসহায়ের মতো দেখতাম। কোনো ব্যথানাশকই যেন কাজ করছিল না।
একসময় আমার বোন নিজেই বললো—
“আমি আর কেমোথেরাপি নিতে চাই না… শুধু আমার ব্যথাটা একটু কমিয়ে দাও।”
এই একটা বাক্য আমাদের ভেতরটা ভেঙে দিয়েছিল।
আমরা বুঝতে পারলাম—এখন আর শুধু রোগের চিকিৎসা নয়, দরকার তার কষ্ট কমানো। তখনই আমরা খোঁজ পাই প্যালিয়েটিভ কেয়ারের।
এরপর আমরা যোগাযোগ করি
Dr. Wai Wai Mroy John স্যারের সাথে, যিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে সেবা দিয়ে থাকেন।
প্রথম দিন থেকেই স্যারের আচরণ আমাদের মুগ্ধ করেছে।
তিনি শুধু একজন চিকিৎসক নন—একজন অসাধারণ মানুষ।
আমার বোনকে তিনি রোগী হিসেবে না দেখে, নিজের পরিবারের সদস্যের মতো করে দেখেছেন।
অত্যন্ত ধৈর্য নিয়ে তার সমস্যাগুলো শুনেছেন, বুঝেছেন, এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়েছেন। শুধু ওষুধ নয়—তিনি আমাদের মানসিকভাবেও সাহস দিয়েছেন।
স্যারের চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে আমার বোনের সেই অসহনীয় ব্যথা কমতে শুরু করে।
আজ সে সম্পূর্ণ সুস্থ না হলেও—
সে এখন কিছুটা ব্যথামুক্ত, কিছুটা স্বস্তিতে আছে।
আমাদের জন্য এটুকুই অনেক বড় পাওয়া।
এখন সে রাতে একটু ঘুমাতে পারে, পরিবারের সাথে একটু হাসতে পারে—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই এখন আমাদের কাছে অনেক বড় আশীর্বাদ।
প্যালিয়েটিভ কেয়ার যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আমরা নিজের জীবনে উপলব্ধি করেছি।
এটা শুধু চিকিৎসা নয়—এটা একজন মানুষের কষ্ট কমানোর, তাকে সম্মান নিয়ে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়ার একটি পথ।
শেষে স্যারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই—
স্যার, আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ভাষা আমাদের জানা নেই।
আপনার মতো মানুষদের জন্যই আজও চিকিৎসা পেশার প্রতি মানুষের বিশ্বাস বেঁচে আছে।
আমার বোনের মুখে যে স্বস্তির হাসি আজ দেখি—
তার পেছনে আপনার অবদান অপরিসীম।
আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন, দীর্ঘ জীবন দিন এবং আরও অনেক মানুষের কষ্ট লাঘব করার তৌফিক দান করুন।
আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানাই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া ও কৃতজ্ঞতা।
🤲🤲🤲🤲🤲