29/07/2026
আজকে দুইজন পেশেন্টের কথা শেয়ার করছি, যাদের বয়সের ব্যবধান অনেক, কিন্তু গল্পটা যেন একই সুতোয় গাঁথা।
👴 প্রথম গল্প —
বয়স প্রায় সত্তর ছুঁইছুঁই। সারাজীবন কাটিয়েছেন ব্যবসার পিছনে ছুটে ছুটে। একটার পর একটা কাজ, মিটিং, দায়িত্ব — সময়ের চাকায় নিজেকে এতটাই জড়িয়ে ফেলেছিলেন যে, নিজের প্লেটের দিকে তাকানোর ফুরসতটাই পাননি। খাওয়ার সময়টা কখনো ঠিক ছিল না, বাইরের খাবারই হয়ে উঠেছিল রোজকার সঙ্গী।
আজ তার শরীর আর স্বাভাবিক কোনো খাবারই নিতে পারে না।
কথার মাঝে তিনি আফসোস করে বলছিলেন —"আমার ক্লায়েন্টরা অফিসে আসলে আমি তাদের জন্য কাচ্চি অর্ডার করি… কিন্তু আমি খেতে পারি না।"
🧒 দ্বিতীয় গল্প —
বয়স মাত্র পনেরো। এই বয়সে যেখানে শরীর গড়ে ওঠার কথা রঙিন, পুষ্টিকর খাবারে, সেখানে ওর দিন শুরু হতো এক কাপ দুধ চা আর বনরুটি দিয়ে। বাসার সবাই, আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে — ভালোবেসেই এই "প্রিয়" খাবারটা ওর হাতে তুলে দিতেন বারবার। সাথে যোগ হয়েছিল ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া — ছোট থেকেই জিভ অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল মুখরোচক স্বাদে।
আজ যখন পেটের সমস্যায় সাধারণ নরম ভাতটাও সহ্য হয় না, তখন ছোট্ট মানুষটা কেঁদে ফেলে। শরীর যা চায়, জিভ তা মানতে নারাজ। আর মা-বাবার কষ্টটা যেন দ্বিগুণ — সন্তান খেতে পারছে না দেখে, তাদেরও গলা দিয়ে খাবার নামে না। 🥺
💭 দুটো গল্প, একটাই কথা বলে —
আমরা প্রতিদিন যা খাই, সেটাই একদিন আমাদের শরীরের ভাষা হয়ে দাঁড়ায়। ব্যস্ততার মাঝে নিজেকে ভুলে যাওয়া হোক, বা ভালোবেসে বাচ্চাকে অভ্যস্ত করে ফেলা হোক মুখরোচক খাবারে — দুটোই একসময় শরীরকে থামিয়ে দেয়।
🟢তাই ছোট্ট কিছু কথা মনে রাখা যাক —
✅খাবার সময়মতো খাওয়া
✅প্রিয় মানুষদের ভালোবাসা প্রকাশের ভাষা যেন অস্বাস্থ্যকর খাবার না হয়
✅ছোট থেকেই একটা শিশু কে ঘরের তৈরি খাবারের সাথে পরিচিত করে তোলা যায়, সেই অভ্যাসই তাকে সারাজীবন সুস্থ রাখবে।
শরীর কখনো হঠাৎ করে থেমে যায় না, সে বারবার সংকেত দেয়। শুধু আমরা কতটা সেই সংকেত শুনি, সেটাই আসল কথা। 💚
আপনার শরীরের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন, আজই।
Naznin S. Moushumi- Clinical Dietician & Nutritionist
Centre for Nutrition Learning & Research - CNLR