10/09/2026
বদনজর ও হিংসার মধ্যে পার্থক্য।
১) প্রত্যেক বদনজরকারী হিংসুক কিন্তু প্রত্যেক হিংসুক বদনজরকারী না। এজন্য সুরা ফালাকে হিংসাকারীর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। যাতে হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহ তায়ালার আশ্রয় প্রার্থনা করার ফলে সে বদনজর থেকেও রক্ষা পায়। আর এটিই হলো কুরআনের ব্যাপকতা এবং তার মোজেযা ও অলংকারিত্ব।
২) হিংসার মূল বিষয় হল বিদ্ধেষ এবং অপরের নেয়ামত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা। অন্যদিকে বদনজরের মূল বিষয় হল অন্যের কোন কিছুকে খুব ভাল মনে করা।
৩) হিংসা এবং বদনজরের পরিণাম একই যার ফলে উভয়ই ক্ষতিসাধনের কারণ হয়ে থাকে। কিন্তু উভয়ের উৎসের পার্থক্য রয়েছে, হিংসার উৎস অন্তরের জ্বলন সৃষ্টি হওয়া এবং সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা। আর বদনজরের উৎস চোখের দৃষ্টিশক্তির খারাপ প্রভাব, এজন্য নজর দ্বারা এমন সব জিনিসও প্রভাবিত হয় যার উপর হিংসার ক্ষেত্র নেই যেমন: জড় পদার্থ, প্রাণীসমূহ, উদ্ভিদসমূহ এবং চাষাবাদ ও সম্পদ। আর কখনও নিজের নজর নিজের উপরেই লেগে যায়। কোন ব্যক্তি যখন কোন বস্তুকে আশ্চর্যের সাথে এবং গভীর দৃষ্টিতে দেখে এবং সাথে সাথে তার আত্মা ও অন্তর এক প্রকারের চাঞ্চল্যের অবস্থা সৃষ্টি হয় তখন তা দ্বারা বদনজর লেগে থাকে।
৪) হিংসার প্রভাব ভবিষ্যতের কোন ভাল জিনিসের উপরও হয়ে থাকে আর বদনজরের প্রভাব বর্তমান উপস্থিত বিষয়ের উপর হয়ে থাকে।
৫) কোন ব্যক্তি নিজেকে এবং নিজের সম্পদকে হিংসার দৃষ্টিতে দেখে না, তবে তার নিজের সম্পদ সমূহে ও শরীরে নিজের বদনজর লেগে যেতে পারে।
৬) হিংসা নিকৃষ্ট হৃদয়ের মানুষ থেকেই হয়। প্রকারান্তরে বদনজর নেক ব্যক্তির দ্বারাও হয়ে থাকে। যখন সে কোন বস্তুকে খুব বেশী পছন্দ করে ফেলে অথচ সে সেটার ধ্বংস চায় না। এর উদাহরণ আমের বিন রাবীয়ার (রাঃ) ঘটনা, যখন সাহাল বিন হুনাইফকে (রাঃ) তার নজর লেগে যায় অথচ আমের (রাঃ) প্রথম যুগের মুসলমান ও আহলে বদরের অন্তর্ভুক্ত।
উপরোক্ত নজর ও হিংসার মধ্যে পার্থক্য যারা বর্ণনা করেছেন তারা হলেন ইবনে জাওযী (রাহিঃ), ইবনে কাইয়্যিম (রাহিঃ), ইবনে হাজার (রাহিঃ), নববী (রাহিঃ) প্রমুখ। আল্লাহ তায়ালা তাদের সকলের প্রতি দয়া ও রহমত বর্ষণ করুন।
মুসলমানদের উচিত যখন কোন কিছু দেখে পছন্দ হয়ে যায় তখন বরকতের দু'আ করা, সেই বস্তু নিজের হোক অথবা অন্যের কেননা নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমেরকে (রাঃ) বলেছিলেন, তুমি তার জন্যে (সাহাল বিন হুনাইফের (রাঃ) জন্যে) বরকতের দু'আ করনি? কেননা এই দু'আ বদনজর থেকে সুরক্ষা হয়ে থাকে।
Raqi Kamrul Haider
Raqi Kamrul Haider
RuqyahTreatment.
01677-440419
➖➖➖➖➖