30/07/2026
ক্লিনিক্যালি হার্নিয়া কীভাবে নির্ণয় করা হয় তা জানতে চান ?
ক্লিনিক্যালি একটি হার্নিয়া নির্ণয় করার জন্য চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ এবং হাতের স্পর্শ বা পালপেশন (Palpation)-ই প্রধান ভূমিকা পালন করে। ফিজিক্যাল এক্সামিনেশনের ধাপগুলো এনাটমিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ইতিহাস গ্রহণ (Medical History)
শারীরিক পরীক্ষার আগে রোগীর কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়া হয়:
• পিণ্ড বা ফোলাটি কখন প্রথম দেখা গেছে এবং এটি দাঁড়ালে বাড়ে ও শুয়ে থাকলে কমে যায় কিনা।
• কাশি দিলে, মলত্যাগে বেগ দিলে বা ভারী জিনিস তুললে ব্যথা বা ফোলা বাড়ে কিনা।
• বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা প্রস্রাবের কোনো সমস্যা আছে কিনা (বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত চাপে হার্নিয়া হতে পারে)।
২. সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা (General Physical Examination)
হার্নিয়ার প্রাথমিক পরীক্ষা মূলত দুটি ধাপে করা হয়:
ক. দর্শন (Inspection)
রোগীকে দাঁড় করানো অবস্থায় পরীক্ষা করতে হয়।
অবস্থান ও আকৃতি: কুঁচকিতে (groin), অণ্ডকোষে (sc***um) বা নাভিতে কোনো অস্বাভাবিক ফোলা আছে কিনা দেখা হয়। ইনডাইরেক্ট ইনগুইনাল হার্নিয়া অনেক সময় অণ্ডকোষ পর্যন্ত নেমে আসে, যা দেখতে নাশপাতি আকৃতির মতো লাগে।
Visible Cough Impulse: রোগীকে মাথা অন্যদিকে ঘুরিয়ে জোরে কাশি দিতে বলা হয়। কাশির সময় পেটের ভেতরের চাপ (Intra-abdominal pressure) বেড়ে গিয়ে ফোলার আকার বড় হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
খ. স্পর্শ পরীক্ষা (Palpation)
• রিডিউসিবিলিটি (Reducibility): রোগীকে শুইয়ে দিয়ে ফোলার উপর আলতো চাপ দেওয়া হয়। যদি পিণ্ডটি সহজেই পেটের ভেতর ঢুকে যায়, তবে এটি রিডিউসিবল হার্নিয়া।
• Palpable Cough Impulse: হার্নিয়াটি ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার পর (রিডিউস করার পর) ফাটলের স্থানে হাত রেখে রোগীকে আবার কাশি দিতে বলা হয়। কাশির সাথে আঙুলে যদি অন্ত্রের ধাক্কা বা প্রসারণ (Expansile impulse) অনুভূত হয়, তবে এটি হার্নিয়া নিশ্চিত করে।
৩. বিশেষ ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা (Special Tests for Inguinal Hernia)
হার্নিয়াটি ডাইরেক্ট (Direct) নাকি ইনডাইরেক্ট (Indirect) তা নিখুঁতভাবে আলাদা করার জন্য দুটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়:
ডিপ রিং অক্লুশন টেস্ট (Deep Ring Occlusion Test)
এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি।
1. প্রথমে রোগীকে শুইয়ে দিয়ে হার্নিয়ার পিণ্ডটি পেটের ভেতর রিডিউস করে দেওয়া হয়।
2. এরপর ইনগুইনাল লিগামেন্টের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত ডিপ ইনগুইনাল রিং (Deep Inguinal Ring)-এর উপর বুড়ো আঙুল দিয়ে শক্তভাবে চাপ দিয়ে ধরে রাখা হয়।
3. এই অবস্থায় রোগীকে দাঁড়াতে বা কাশি দিতে বলা হয়।
ফলাফল: যদি আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে রাখার পরও হার্নিয়া আর বের না হয়, তবে এটি ইনডাইরেক্ট ইনগুইনাল হার্নিয়া (কারণ এর উৎপত্তিস্থল ডিপ রিং, যা এখন বন্ধ আছে)। আর যদি চাপ দিয়ে রাখার পরও অন্য পাশ দিয়ে (হ্যাসেলব্যাকস ট্রায়াঙ্গেল ভেদ করে) পিণ্ডটি বেরিয়ে আসে, তবে এটি ডাইরেক্ট ইনগুইনাল হার্নিয়া।
জিম্যানস থ্রি-ফিঙ্গার টেস্ট (Zieman's Three-Finger Test)
একইসাথে তিন ধরনের হার্নিয়া যাচাই করার জন্য চিকিৎসকের এক হাতের তিনটি আঙুল নির্দিষ্ট এনাটমিক্যাল পয়েন্টে রাখা হয়:
তর্জনী (Index finger): ডিপ ইনগুইনাল রিং-এর উপর।
মধ্যমা (Middle finger): সুপারফিসিয়াল ইনগুইনাল রিং-এর উপর।
অনামিকা (Ring finger): ফিমোরাল রিং বা স্যাপেনাস ওপেনিং-এর উপর।
রোগীকে কাশি দিতে বলা হয়। যদি তর্জনীতে ধাক্কা লাগে তবে ইনডাইরেক্ট, মধ্যমায় ধাক্কা লাগলে ডাইরেক্ট এবং অনামিকায় ধাক্কা লাগলে ফিমোরাল হার্নিয়া নির্দেশ করে।
ইনভেস্টিগেশন: সাধারণত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাতেই হার্নিয়া ধরা পড়ে। তবে যদি রোগী অতিরিক্ত স্থূলকায় হন বা হার্নিয়াটি খুব ছোট (যেমন- স্পাইজেলিয়ান হার্নিয়া) হয়, তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাম (USG of affected area) বা ক্ষেত্রবিশেষে সিটি স্ক্যান (CT Scan) করা হতে পারে।