14/05/2026
ঢাকার ভিড়ে আপনি যখন নতুন—হাতে একটা ফাইল, চোখে অজানা দুশ্চিন্তা—তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হয়: “কোথায় যাব?” কোন ডায়াগনস্টিকে টেস্ট করলে সঠিক রিপোর্ট পাবেন, কোথায় খরচটা কম হবে, কে আপনাকে পথটা দেখাবে? বড় হাসপাতালের চকচকে করিডোরে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই অনেক অসহায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েন।
এই জায়গাতেই চুপচাপ কাজ করেন কিছু মানুষ—ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মার্কেটিং কর্মীরা।
তারা কারও আত্মীয় না, পরিচিত না—তবুও এগিয়ে এসে বলে, “এইখানে গেলে আপনার কাজটা সহজ হবে।”
ঢাকার অচেনা রাস্তায় এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ফাইল হাতে ঘোরাঘুরি কমিয়ে দেয় তারা।
সময় বাঁচায়, কখনো কখনো অযথা খরচও বাঁচায়।
হ্যাঁ, তারা এটা বিনামূল্যে করে না।
তাদের একটা চাকরি আছে, একটা ছোট বেতন আছে—যেটা দিয়ে অনেক সময় সংসার চালানোই কষ্টসাধ্য।
কিন্তু তাই বলে কি তাদের কাজের মূল্য শূন্য?
তাই বলে কি তাদের “দালাল” বলে অপমান করা ঠিক?
সমাজ খুব সহজে লেবেল লাগায়।
কিন্তু খুব কম মানুষ ভেবে দেখে—
এই মানুষগুলো সারাদিন রোদে-ধুলোয় ঘুরে, অচেনা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, একটা সিস্টেমের ফাঁক পূরণ করার চেষ্টা করছে।
আপনি চাইলে বলতে পারেন—
“চেম্বারের সময়ের বাইরে ভিড় করবেন না।”
“রোগীদের বিরক্ত করবেন না।”
“প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি করবেন না।”
এই পরামর্শগুলো দরকারি, অবশ্যই দরকারি।
কিন্তু তার মানে এই না যে—
সবাইকে একসাথে অপরাধী বানিয়ে দেওয়া যাবে,
হাতকড়া পরিয়ে মিডিয়ায় অপদস্থ করা যাবে,
বা সামাজিকভাবে হেয় করা যাবে।
একটু ভেবে দেখুন—
একজন গ্রামের মানুষ ঢাকায় এসে যদি সঠিক জায়গাটা খুঁজে পায়,
একটু কম খরচে টেস্টটা করাতে পারে,
সময়মতো রিপোর্ট হাতে পায়—
সেখানে এই “মার্কেটিং” করা মানুষটারও তো একটা ভূমিকা আছে।
সমস্যা থাকলে সমাধান দরকার,
অন্যায় থাকলে শাস্তি দরকার—
কিন্তু অন্ধভাবে অপমান নয়।
কারণ দিনের শেষে—
পরিপাটি শার্টের আড়ালে, আইডি কার্ডের পেছনে—
একটা মানুষই থাকে।
যারও পরিবার আছে, দায় আছে, স্বপ্ন আছে।
সম্মানটা খুব দামী কিছু না।
কিন্তু এটা না দিলে—আমরা নিজেরাই ছোট হয়ে যাই।