20/09/2026
অপ্রিতমের ঘটনাটা নিয়ে ভাবতে গিয়ে একটা বিষয় খুব গভীরভাবে মনে হলো—সন্তানকে ভালোবাসা আর সঠিকভাবে গাইড করা এক জিনিস নয়।
অপ্রিতমের কিছু ভিডিওতে দেখলাম, এত অল্প বয়সে কিশোর গ্যাং এর সঙ্গে উঠাবসা, হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। তার চলাফেরার মধ্যে একটা বয়সের তুলনায় বেশি স্বাধীনতার ছাপও দেখা যায়।
অবশ্যই এগুলোর কোনোটিই তাকে হত্যার জন্য দায়ী করে না। একজন শিশু যতই বেপরোয়া হোক, তাকে হত্যা করার কোনো justification নেই। খুনের দায় খুনিরই।
কিন্তু একজন মা হিসেবে এখান থেকে parenting-এর একটা প্রশ্ন আসেই—
আমরা কি আমাদের সন্তানদের যথেষ্ট নজরদারিতে রাখছি?
সন্তান কার সঙ্গে মিশছে?
তার বন্ধুরা কারা?
তার চেয়ে অনেক বড় ছেলেদের সঙ্গে কেন এত ঘনিষ্ঠতা?
কোথায় যাচ্ছে?
কার সঙ্গে যাচ্ছে?
কী ধরনের ভিডিও বানাচ্ছে বা দেখছে?
কী ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক মনে করছে?
তার বয়সের তুলনায় সে কতটা স্বাধীনতা পাচ্ছে?
এসব জানাও তো parenting-এর অংশ।
অনেক সময় আমরা সন্তানের সামান্য জেদের কাছে হেরে গিয়ে বলি—
“এখন ছোট, যা চাচ্ছে দিয়ে দাও। বড় হলে বুঝবে।”
কিন্তু ভালো-মন্দ, নিরাপদ-অনিরাপদ, সীমা কোথায়—এসব বোঝানো বড় হওয়ার পর হঠাৎ শুরু করা যায় না। ছোট থেকেই শেখাতে হয়।
শিশুকে বিশ্বাস করতে হবে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তার প্রতিটি চলাফেরা সম্পর্কে আমরা অন্ধ থাকব।
স্বাধীনতা দিতে হবে, কিন্তু বয়স অনুযায়ী।
বিশ্বাস করতে হবে, কিন্তু supervision বাদ দিয়ে নয়।
বন্ধুত্ব করতে দিতে হবে, কিন্তু সে কার সঙ্গে মিশছে সেটা না জেনে নয়।
অপ্রিতমের বাবা-মা আসলে কী জানতেন, কীভাবে তাকে বড় করছিলেন—এসব না জেনে তাদের “ব্যাড প্যারেন্ট” বলা উচিত নয়।
তবে অপ্রিতমের ঘটনা আমাদের প্রত্যেক বাবা-মাকে একটা প্রশ্ন করতে পারে—
আমার সন্তান এখন যে জীবনটা যাপন করছে, তার কতটুকু আমি সত্যিই জানি?
কারণ সন্তান বড় হচ্ছে—এটা শুধু বয়স বাড়া নয়।
তার সঙ্গে তার বন্ধুত্ব, অভ্যাস, ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা এবং বাইরের পৃথিবীর প্রভাবও বাড়ছে।
আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের parenting-ও বদলাতে হবে।