31/05/2026
লিখাটি Dr.Aminul Islam থেকে নেয়া।
"আলহামদুলিল্লাহ!!!
‘পুরু'ষাঙ্গ’ এর গোড়ায় ‘রিং’ আটকে যাওয়া এক রোগীর অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করলাম, ‘পুরু'ষাঙ্গ’ অক্ষত রেখেই। রোগী অপারেশনের পর ভালো আছে, হাসিখুশি আছে।
রোগী কবিরাজের প্ররোচনা বা বাজি ধরে—যে কোনো কারণেই হোক—এমনভাবে ‘রিং’ ‘পুরু'ষাঙ্গ’ এর গোড়ায় প্রবেশ করান, যা পরবর্তীতে বরফ, স্থানীয় হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সিতে ইলেকট্রিক স দিয়ে কেটেও বের করা সম্ভব হয়নি। কারণ ‘রিং’টি এতটাই ছোট এবং শক্তিশালী ছিল যে এটি স দিয়ে কাটা যাচ্ছিল না, এমনকি হাতের ছোট আঙুলেও ঢোকানো কষ্টকর।
যাহোক, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে রোগী ভেবে নিয়েছিল—‘পুরু'ষাঙ্গ’ গোড়া থেকে কেটে ফেলতে হতে পারে। কারণ গোড়ার তুলনায় অংশটি ৫/৬ গুণ মোটা হয়ে গিয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত পরিকল্পিত সূক্ষ্ম সার্জারির মাধ্যমে ‘পুরু'ষাঙ্গে’ সামান্য ফুটো করে, ‘পুরুষাঙ্গ’ অক্ষত রেখেই যখন ‘রিং’টি বের করা হলো—রোগী তখন অবাক হয়ে বলল—
“স্যার, কি ম্যাজিক করলেন?”
আমি বললাম—না, সার্জারি কোনো ম্যাজিক নয়। সার্জারি হলো পরিকল্পিত কাটাছেঁড়া।
এই ঘটনাটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—
উত্তেজনা, কৌতূহল বা ভুল পরামর্শে শরীরের এমন সংবেদনশীল স্থানে(পুরুষাঙ্গ বা পায়ুপথ) কখনোই কোনো বস্তু প্রবেশ করাবেন না কারন কখন তা গুলিস্তান পার হয়ে পাকিস্তান চলে যাবে তা টের পাবেন না। একবার আটকে গেলে সেটি বের করা অত্যন্ত জটিল হয়ে যায়, অনেক সময় বড় অপারেশন ছাড়া সম্ভব হয় না।এরপর চিকিৎসা নিতে পদে পদে আপনি অসম্মানিত হবেন।যদিও আমরা ঢাকা মেডিকেলে এই রোগিকে যথেষ্ট সম্মান পুর্বক দ্রুত অপারেশন করে দেই।কিন্তু সবসময়ই আমরা থাকবনা।
আজ রোগী রক্ষা পেলেও, এমন ঘটনা সবসময় এত সহজে সমাধান নাও হতে পারে।
সবাইকে অনুরোধ করছি—সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন করুন।
পোস্টটি শেয়ার করে সচেতন করুন সবাইকে।"