16/08/2026
বারবার প্রস্রাব, জ্বালাপোড়া—কিন্তু টেস্টে ইনফেকশন নেই? তাহলে সমস্যাটা কী?
আমাদের কাছে প্রায়ই একটা কমেন্ট আসে—
"আমার প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হয়, বারবার প্রস্রাব পায়, কিন্তু টেস্ট করালে রিপোর্ট নরমাল আসে। ডাক্তার বলেন কিছু নেই। তাহলে সমস্যাটা কী?"
এই প্রশ্নটা এত বেশি মানুষ করেন যে আজ এটা নিয়েই বিস্তারিত বলি।
সাধারণ ইউটিআই (UTI) আর এই সমস্যাটা এক নয়
ইউটিআই মানে ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ইনফেকশন হওয়া। তখন প্রস্রাব টেস্ট করলে জীবাণু ধরা পড়ে, অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কয়েকদিনেই ভালো হয়ে যায়।
কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়—
- বারবার প্রস্রাবের বেগ আসছে
- অল্প অল্প করে প্রস্রাব হচ্ছে
- মূত্রথলি ভরে গেলে তলপেটে বা পেলভিসে ব্যথা বা চাপ বাড়ছে
- প্রস্রাব করার পর একটু স্বস্তি লাগছে
- কিন্তু প্রস্রাব টেস্ট বা কালচারে বারবার করালেও কোনো জীবাণু পাওয়া যাচ্ছে না
এই অবস্থায় বারবার "ইউটিআই হয়েছে" ধরে নিয়ে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াটা ঠিক না। কারণ এখানে ব্যাকটেরিয়া নেই, তাই অ্যান্টিবায়োটিকে কাজও হয় না—সাময়িক একটু ভালো লাগলেও সমস্যা আবার ফিরে আসে।
এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাটাকে আমরা বলি মূত্রাশয় ব্যথা সিন্ড্রোম (Bladder Pain Syndrome / Interstitial Cystitis, সংক্ষেপে IC/BPS)।
সহজভাবে বললে—এটা এমন একটা অবস্থা, যেখানে মূত্রথলিতে জীবাণু ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি থাকে। সাধারণত অন্তত ৬ সপ্তাহ ধরে এই সমস্যা চললে, আর অন্য কোনো কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা না গেলে, একে IC/BPS বলে সন্দেহ করা হয়।
কিছু রোগীর দিনে ১৬-৩০ বার পর্যন্ত প্রস্রাব হতে পারে।
তবে সাবধান—শুধু ঘন ঘন প্রস্রাব হলেই এটা IC/BPS না
এমন উপসর্গ আরও কিছু সমস্যায় হতে পারে—ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার, প্রকৃত ইউটিআই, ব্লাডারে টিউমার, এন্ডোমেট্রিওসিস, পুরুষদের ক্রনিক প্রোস্টেট প্রদাহ ইত্যাদি।
ডাক্তার কীভাবে বুঝবেন?
- বিস্তারিত হিস্ট্রি নেওয়া ও শারীরিক পরীক্ষা
- ৩ দিন ধরে একটা ডায়েরি রাখতে বলা হয়—কতবার প্রস্রাব হচ্ছে, কতটুকু হচ্ছে, কতটুকু পানি খাচ্ছেন
- প্রস্রাব টেস্ট ও কালচার করে যাতে করে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায়
- রক্ত পাওয়া গেলে আলাদা করে পরীক্ষা করা
- প্রয়োজনে সিস্টোস্কোপি করে মূত্রথলির ভেতরটা দেখা
*খাবারের ভূমিকা আছে--
সবার ক্ষেত্রে এক না হলেও, অনেকের উপসর্গ বাড়ায়—চা-কফি, কোল্ড ড্রিংক, অ্যালকোহল, লেবু-কমলা-আনারসের মতো টক ফল ও জুস, টমেটো, ঝাল-মসলা, ভিনেগার।
আবার তুলনামূলক নিরাপদ থাকে—পানি, দুধ, কলা, নাশপাতি, তরমুজ, শসা, গাজর, ভাত, মাছ-মাংস-ডিম।
নিজের কোন খাবারে সমস্যা বাড়ে সেটা লক্ষ্য রাখাই সবচেয়ে ভালো উপায়। এক্ষেত্রে পেশেন্ট নিজে তার অসুস্থতার সময় একটি ফুড ডাইরি তৈরি করতে পারেন।
√চিকিৎসা
রোগীভেদে ধাপে ধাপে চিকিৎসা দেওয়া হয়—জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, পেলভিক ফ্লোর ফিজিওথেরাপি, ওষুধ, প্রয়োজনে ব্লাডারে ওষুধ দেওয়া (instillation)।
^একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা—নিজে থেকে ইন্টারনেট দেখে Kegel exercise শুরু করবেন না। কারও কারও ক্ষেত্রে পেলভিক ফ্লোরের মাংসপেশি এমনিতেই অতিরিক্ত টানটান থাকে, তখন Kegel করলে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে।