27/07/2026
চিপস ও পপকর্নে মরণ'ব্যাধি ক্যানসারের ঝুঁকি। নিউজটি গতকালকের। তাজ ভাইয়ের একটি পুরোনো পোস্ট শেয়ার করা হলো।
⛔ বাচ্চাদের জন্য প্রস্তুত করা প্যাকেটজাত কেক, বিস্কুট, চিপস চকোলেট ও জুসের মেয়াদ থাকুক বা না থাকুক, সেটায় মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ মেশানো থাকুক বা না থাকুক, সেটা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে প্রস্তুত করা হোক বা না হোক।
সেটা নামি দামি ব্রান্ডের প্রস্তুত করা জেনুইন প্রোডাক্ট হোক বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনো এক অজপাড়ায় প্রস্তুতকৃত নকল প্রোডাক্ট হোক এগুলো কিছুই বিন্দু পরিমাণ ম্যাটার করে না যতক্ষণ না সেই খাদ্য প্রোটিন, ফ্যাট, ফাইবার, শর্করা বা চিনির মোট পরিমাণের আদর্শ রেশিও অনুযায়ী প্রস্তুত না করা হবে।
আপনার সন্তান বড় হয়ে মেটাবলিক স্বাস্থ্যজনিত কোনো রোগে ভুগবে কিনা সেটা নির্ভর করে ছোটবেলা আপনি তাকে যা খাওয়াচ্ছেন তাতে পুষ্টির ব্যালেন্স ঠিক আছে কিনা তার ওপর।
যেকোনো খাবারে কার্বোহাইড্রেট: মোট ক্যালোরির ৪৫–৬৫%, ফ্যাট: মোট ক্যালোরির ২০–৩৫%, প্রোটিন: মোট ক্যালোরির ১০–৩৫% ও ফাইবার: প্রতিদিন প্রায় ২৫–৩৮ গ্রাম থাকতে হবে।
দক্ষিণ এশিয়ায় এমন কোনো বেবি ফুড কোম্পানির অস্তিত্ব আপাতত নেই যাঁরা বাচ্চাদের মেটাবলিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ফাইবার ও প্রোটিন এর দৈনিক চাহিদার রেশিও মেজারমেন্ট করে খাদ্য প্রস্তুত করে। সরি টু সে কেউ নেই।
সবগুলো খাদ্যের মূল উপাদানই হলো রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট ও ট্রান্সফ্যাট সেখানে প্রোটিন ও ফাইবার অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজেও পাবেন না। পেলেও সেটার বিপরীতে চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত। সাথে মেশানো থাকে টেস্টি সল্ট। এই সব মিলিয়ে এগুলো বাচ্চাদের ব্রেইনে ডোপামিনের বিষ্ফোরণ ঘটায় ফলে বাচ্চারা অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবারে স্বাদ পায় না খেতে চায় না।
কোম্পানিগুলোর নিউট্রিশনিস্ট নিয়োগ দিয়ে রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্টে খরচ করার ফান্ড নেই বিষয়টা এমন না। তারা এগুলো না করেই প্রোডাক্ট বিক্রি করে কুল পায় না।
সমস্যা হলো হেলদি ফুডের ডিমান্ড আমরা করি না, ডিমান্ড করিনা কারন পুষ্টি উপাদানের রেশিও যাচাই করে খাবার খাওয়ার গুরুত্ব বুঝি না। আর প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী যে জিনিসটায় আমরা কম গুরুত্ব দেই সেটা আমাদের থেকে দূরে সরে যায়, সেটা আমরা ডিজার্ভ করিনা। একারনেই প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী আমরা হেলদি ফুড ডিজার্ভই করি না। এজন্য আমি বারবার বলি, মূল সমস্যা খাদ্যে না, সমস্যা শিক্ষাব্যবস্থায়, সমস্যা সচেতনতায়।
আমি আশাবাদী শীঘ্রই আমার দেশে কোনো এক ব্যবসায়ী প্রথম এমন উদ্যোগ নেবে,শুধুমাত্র রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্টে খরচই করবে না বরং জনগণ কে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনও করবে।
যতদিন তা না হচ্ছে ততদিন এই সমস্যার অল্টারনেটিভ সমাধান হিসেবে প্রাকৃতিক খাবারের ওপর জোর দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
©A S Taj