04/02/2026
পলাশীর যুদ্ধে (১৭৫৭) নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতাকারী প্রধান চক্রান্তকারীদের পরিণতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও কলঙ্কজনক। মীরজাফর কুষ্ঠরোগে ভুগে ধুঁকে ধুঁকে মারা যান, তার পুত্র মিরন বজ্রপাতে নিহত হয়, ঘসেটি বেগমকে বুড়িগঙ্গায় ডুবিয়ে মারা হয়, এবং সিরাজের হত্যাকারী মুহাম্মদী বেগ উন্মাদ হয়ে কূপে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে [১, ৩, ১০, ১২]।
পলাশীর বিশ্বাসঘাতকদের পরিণতিসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
মীর জাফর আলী খান: বিশ্বাসঘাতকতার পুরস্কার হিসেবে নবাব হলেও, শেষ জীবনে তিনি চরম মানসিক যন্ত্রণা, কুষ্ঠরোগ এবং পুত্রশোকের শিকার হন। ১৭৬৫ সালে ধুঁকে ধুঁকে তার মৃত্যু হয় [১০]।
মিরন (মীরজাফরের পুত্র): সিরাজ হত্যার মূল নায়ক মিরন ক্ষমতার লোভে অনেককে হত্যা করেছিল। অবশেষে, বজ্রপাতে তার মৃত্যু ঘটে, যা অনেকে খোদায়ী গজব বলে মনে করেন [৩, ১০]।
মোহাম্মদী বেগ: নবাব সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারী। কথিত আছে, পরবর্তীকালে সে উন্মাদ হয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে কূপে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে [১, ১০, ১২]।
ঘসেটি বেগম: সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম ষড়যন্ত্রের অংশীদার হলেও, মিরনের নির্দেশে তাকে বুড়িগঙ্গায় নৌকা ডুবিয়ে হত্যা করা হয় [১০, ১২]।
জগত শেঠ ও মহতাব রায়: পলাশীর যুদ্ধের ৯ বছর পর মীর কাশিমের নির্দেশে জগত শেঠ এবং তার পরিবারকে হত্যা করা হয় [৫]।
উমিচাঁদ: প্রতারণার শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন [১২]।
রবার্ট ক্লাইভ: পলাশীর যুদ্ধের মূল হোতা। ইংল্যান্ডে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে অপমান সইতে না পেরে ১৭৭৪ সালে নিজের গলায় ক্ষুর চালিয়ে আত্মহত্যা করেন [২, ১১]।
ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকদের এই পরিণতি ‘অনিবার্য পরিণতি’ বা খোদায়ী বিচার হিসেবে গণ্য করা হয়