17/05/2026
কথা না বলা রোগ
ক্লাস ওয়ানে পড়ুয়া মেয়ে মিম খুব চঞ্চল একটা মেয়ে। বাসায় সে যেন একেবারে ঝড়—মায়ের সাথে গল্প, বাবার সাথে তর্ক, ছোট ভাইকে নিয়ে খেলা
—সবকিছুতেই তার উপস্থিতি জোরালো। সারাদিন তার মুখে কথার ঝর্ণা।
কিন্তু স্কুলের খাতায় অন্য গল্প লেখা
প্রায়ই ক্লাস টিচার মিমের মাকে ডেকে বলেন, “আপনার মেয়ে খুব ভালো লিখে, কিন্তু মুখে কোন প্রশ্নের উত্তর দেয় না। ভাইভাতে একদম চুপ। একটা প্রশ্নেরও উত্তর দেয় না।”
মিমের মা অবাক হন। “ও তো বাসায় এত কথা বলে!”
লিখিত পরীক্ষায় মিম সবসময় ভালো করে, কিন্তু মৌখিক পরীক্ষায় শূন্য। কারণ তার মুখই খোলানো যায় না। সহপাঠীরা কখনো কখনো ভাবে, মিম বুঝি কিছুই জানে না। অথচ সত্যিটা ঠিক উল্টো।
একদিন ক্লাস টিচার মিমের মাকে পরামর্শ দিলেন একজন চাইল্ড সাইকিয়াট্রিস্টের সাথে কথা বলার জন্য। তিনি বলেন, এটা ইচ্ছা করে না বলার বিষয় নাও হতে পারে।
টিচারের কথায় তারা একজন শিশুমনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেলেন। তিনি সব শুনে জানালেন , মিমের সিলেক্টিভ মিউটিজম নামক মানসিক রোগ আছে।
ডাক্তার ব্যাখ্যা করলেন, “এটা এমন একটা অবস্থা, যেখানে বাচ্চারা নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে—যেমন স্কুলে, অপরিচিত স্থানে কথা বলতে পারে না, যদিও তারা অন্য জায়গায় স্বাভাবিকভাবে কথা বলে। এটা জেদ বা অভদ্রতা না, বরং এক ধরনের অ্যানজাইটি।”
মিমের মাকে ডাক্তার আশ্বস্ত করলেন যে, চিকিৎসার মাধ্যমে অবস্থার উন্নতি সম্ভব।
ধীরে ধীরে থেরাপি শুরু হলো। টিচারকেও বলা হলো তাকে জোর না করতে, বরং ছোট ছোট পদক্ষেপে উৎসাহ দিতে। প্রথমে মাথা নাড়া, তারপর ফিসফিস করে বলা, এবং খেলার মাধ্যমে তার অ্যাংজাইটি বা টেনশন কমানো।
এভাবে ধীরে ধীরে একদিন মিম ক্লাসে রেসপন্স করা শুরু করল। লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি ভাইভাতেও ভালো নম্বর পেল।
মিমের মা তার টিচারকে ধন্যবাদ জানান সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ দিয়ে তার মেয়ের এতবড় উপকার করার জন্য।