19/02/2026
#প্রেগ্নেন্সিতে_রোজা_রাখার_বিধান
মহান আল্লাহ পবিত্র কোর'আনুল কারীম
ইরশাদ করেন,
فمن كان مريضا او علي سفر فعدة من ايام اخر (সূরা বাকারা-১৮৫)
তোমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ, তারা যেনো পরবর্তী সময় রোজা কাজা করে নেয়, এই আয়াতে মহান আল্লাহ অসুস্থ ও মুসাফির ব্যক্তিকে রোজা ভাঙ্গার অনুমতি দিয়েছেন,
পবিত্র কোর'আনের অন্য এক জায়গায় মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَىٰ وَهْنٍ
(তার মা তাকে গর্ভে বহন করেছেন কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে) সুরা লোকমান - ১৪
প্রেগন্যান্সিকে যদিও অসুস্থতা বলা হয়না, , তবে এইটা একজন গর্ভবতী নারীর জন্য অত্যন্ত কষ্টের একটা সময়,
এই সময় সুস্থ বাচ্চা জন্মদানের জন্য মায়ের ক্যালরি requirement বেড়ে যায়, প্রেগন্যান্সিতে সাধারণত ২৫% অতিরিক্ত ক্যালরির প্রয়োজন পড়ে, সুস্থ বাচ্চার জন্য hydration maintain করা প্রয়োজন হয়, যেহেতু রোজার মধ্যে ১৪-১৫ ঘন্টা উপবাস থাকা হয়, তাই সেই ক্যালরি মেইনটেইন করা সম্ভব হয়না, এতে করে বাচ্চা ও মা দুজনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে, মহান আল্লাহ সূরা বাকারার সর্বশেষ আয়াতে ইরশাদ করেন,
لا يكلف الله نفسا الا وسعها.
মহান আল্লাহ সাধ্যের বাহিরে কারো উপর কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না--
আল্লাহর রাসূল (সা:) ইরশাদ করেন,
আবু দাউদ (হাদীস ২৪০৮)
রাসূল (সা:) বলেছেন:
“আল্লাহ মুসাফিরের অর্ধেক নামাজ কমিয়েছেন এবং মুসাফির ও গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীর থেকে রোজা উঠিয়ে নিয়েছেন।”
এই হাদীসে সুস্পষ্ট ভাবে গর্ভবতী নারীদের রোজা না রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে--
তাই কোন গর্ভবতী নারী তিনি যদি পরিপূর্ণ সুস্থও থাকেন
তথাপি ওনার রোজা না রাখার অনুমতি আছে, তবে তিনি রোজাদারদের সামনে কিছু খাবেন না,
তথাপি কোন মহিলা যদি তাকওয়ার কারণে রোজা রাখতে আগ্রহী হন, তাদের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় লক্ষ রাখতে হবে, যেহেতু ইসলামের মাস'আলা হচ্ছে, لا ضرر ولا ضرار، কেউ নিজের কিংবা অন্যের কোন ক্ষতি করার অনুমতি নাই, তাই ইসলাম যেহেতু সামগ্রিক ভাবে গর্ভবতী নারীকে রোজা না রাখার অনুমতি দিয়েছে, তবুও কেউ রোজা রাখতে চাইলে অবশ্যই নিম্নের বিষয় গুলি লক্ষ রাখতে হবে।
1st Trimester (১ম ৩ মাস)
এই সময়টাকে বলা হয় organogenesis phase, এই ৩ মাসেই বাচ্চার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি হয়, এই সময়টা pregnancy তে অনেক ক্রুশিয়াল টাইম, এই সময় একটু ভূলে miscarriages হয়ে যায়, অধিকাংশ মিসক্যারিজ এই ৩ মাসে হয়ে থাকে, এই ৩ মাসে pregnancy related, অনেক উপসর্গ থাকে, morning sickness,,(সকালে মাথা ঘুরা, বমি বমি ভাব) সাথে Hyperemesis থাকে, তথা অনেক Vomiting tendency থাকে, আবার এইসময় Hemoglobin ও কম থাকে, এই সময়টাতে এমনিতে Nausea থাকে, যার কারণে খাবারের রুচি থাকেনা, সেইজন্যই আল্লাহর রাসূল (সাঃ) রোজা না রাখার অনুমতি দিয়েছেন, তাই সুস্থ থাকলেও সুস্থ বাচ্চার জন্য এই সময় টাতে রোজা না রাখাটা ভালো,
পরে কাজা আদায় করবে।
সেকেন্ড ট্রাইমেস্টার : (২য় ৪ মাস)
এইটা মোটামুটি stable phase, তবে এই পেজেও সুস্থ থাকলেও রোজা না রাখার অনুমতি আছে, কিন্ত কেউ যদি রোজা রাখতে আগ্রহী হয়, তিনি রাখতে পারবেন, যদি
Blood pressure 120/80 থাকে,
Hb =12 থাকে,
কোন ডিহাইড্রেশনের ভয় যদি না থাকে,
GDM, fetal growth restriction ইত্যাদি না থাকে, অর্থাৎ প্রেগন্যান্সি রিলেটেড কোন complain যদি না থাকে, তাহলে রাখতে পারবে, আর যদি আগে থেকে miscarriage এর হিস্ট্রি থাকে, কিংবা যদি কোন abnormality থাকে, তাহলে রোজা না রাখা ভালো+
3rd Trimester : (২৮ সপ্তাহের পর থেকে)
এই সময় টাতে যা হয়-
বাচ্চার ৬০%-৭০ ওজন এই সময় টাতেই বৃদ্ধি পায়,
Placental demand বেশি থাকে,
Maternal cardiac output ও plasma volume peak লেভেলে থাকে,
Energy requirement বাড়ে, এই সময়টাতে একটু ডিহাইড্রেশনে → uterine irritability হয়, এতে preterm labour এর ঝুঁকি অনেক বৃদ্ধি পায়,
Amniotic fluid কমে preterm labour হতে পারে, fetal distress হতে পারে, মায়ের dizziness, drowsiness হতে পারে, অর্থাৎ এই সময় টা first trimester এর চেয়েও ঝুঁকিপূর্ণ,
আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেন,
গর্ভবতী নারীদের থেকে রোজা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে
সহীহ আবু দাউদ (হাদীস ২৪০৮)
তাই 3rd Trimester এ সুস্থ থাকলেও রোজা রাখবেনা,
তাহলে Overall সিদ্ধান্ত -
1. রোজা ইসলামের ফরজ বিধান সুস্থ সকল প্রাপ্ত বয়স্ক নারী পুরুষের জন্য, নারীদের মধ্যে প্রেগন্যান্ট অবস্থায় রোজার ফরজ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে
2. কেউ যদি প্রেগন্যান্সিতে রোজা রাখতে চায়, এইটা তার ইচ্ছা, ইসলাম থেকে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
3. রোজা রাখা ইচ্ছাধীন রাখা হলেও according to medical science : 1st Trimester ও 3rd Trimester এ রোজা রাখা যাবেনা, এইটা বাচ্চা জন্মের পরে সুযোগ করে কাজা আদায় করবে,
4.. একান্ত স্বাস্থগত কোন ঝুঁকি না থাকলে 2nd Trimester তথা গর্ভের ৪র্থ মাস থেকে ৭ম মাস পর্যন্ত সময়ে রোজা রাখা যাবে, তবে ইসলাম থেকে কোন বাধ্যবাধকতা নেই-
মহান আল্লাহ আমাদেরকে আল্লাহর বিধান মানার সাথে সাথে আল্লাহর বিধান বুঝার তাওফিক দান করুন, ইসলাম যেখানে সহজলভ্য করেছে, তা মেনে চলার তাওফীক দান করুন
DR.MD ALIF UDDIN