19/06/2026
মানুষ নাকি আশরাফুল মাকলুকাত --সৃষ্টির সেরা জীব।
কিছু মানুষের কাজ এতো নিকৃষ্ট কেন?
এখানে মুসলমান,হিন্দু, খ্রীষ্টান,বৌদ্ধের কথা বলা হয়নি।মানুষের কথা বলা হয়েছে, মানুষের বিবেক কখন লোভ পায় যখন অন্যায় করতে করতে আত্না পাপিষ্ঠ হয়ে যায়, তখন হিতাহিত জ্ঞান থাকে না, তখন যা ইচ্ছে তাই করতে পারে, পাপিষ্ঠ আত্না তাকে অন্ধ করে রাখে।
সে রকম এ ২ জনের অবস্থা ও তাই, একজন নিরীহ মানুষ কে এভাবে অত্যাচার করতে একটুও বিবেক নাড়া দিলো না,দিবে বা কেমনে, তাদের আত্না যে পাপে পূর্ণ ছিলো,বিবেক হারিয়ে মানবতা হারিয়ে অন্ধ হয়ে গেছিলো, সব হারিয়ে অসহায়কে চালায় পৈশাচিক নির্যাতন।
সকলের সচেতন হওয়া জরুরি, সাবধান থাকা জরুরি। মান সম্মান, সামাজিক অবস্থান ইহকালে জরুরি দরকার। ক্ষয় করে প্রজন্মকে সারাজীবন কেন বিপদে ফেলে যাবেন।
পুলিশের এএসআই সঞ্জয় মিত্র সাহা এবং তার স্ত্রী এএসআই পপি রানী সাহা দুজনেই খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত।
তাদের বাসা সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায়। বাসায় গৃহকর্মী মিলন দাসের হাত থেকে তরকারির বাটি পড়ে যাওয়ায় তার উপর অমানুষিক নির্যাতন নেমে আসে। মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম কড়াইয়ের সেক, কান ধরে উঠবস করানো সহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন। এ নির্যাতন শুধু একই দিন নয়, বিভিন্ন সময়ে।
এ ব্যাপারে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।
মানুষ কতটা বিবেকহীন, নিষ্ঠুর ও অমানবিক হলে একজন অসহায় মানুষের ওপর এভাবে নির্যাতন চালাতে পারে, তা সত্যিই ভাবনার বিষয়।
একজন গৃহকর্মী হোক বা যে কোনো শ্রমজীবী মানুষ—তাদেরও সম্মান, অধিকার ও নিরাপদ জীবন পাওয়ার সমান অধিকার রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, অহংকার কিংবা সামান্য ভুলের অজুহাতে কারও শরীরে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দেওয়া বা শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা শুধু আইনের চোখে অপরাধ নয়, মানবতার বিরুদ্ধেও এক জঘন্য কাজ।
এমন ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় এবং প্রশ্ন তোলে—আমরা কি সত্যিই মানবিক সমাজ গড়তে পেরেছি? একজন মানুষের চোখের জল, যন্ত্রণা ও আর্তনাদ উপেক্ষা করে যারা নির্যাতন চালায়, তারা শুধু একজন মানুষকে আঘাত করে না; তারা মানবতা, নৈতিকতা ও সভ্যতার মূল্যবোধকেও ক্ষতবিক্ষত করে।
তাই সমাজের প্রতিটি মানুষের উচিত নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিরীহ মানুষ এমন নির্মমতার শিকার না হয়।