18/08/2026
একজন সফল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হওয়ার পথটি কতটা পরিশ্রমের, তা কেবল এই যাত্রার ভেতর দিয়ে যাওয়া একজন শিক্ষার্থীই অনুভব করতে পারেন। ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি বা বিএইচএমএস (BHMS) হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদভুক্ত এমন একটি সম্মানসূচক ডিগ্রি, যার মান ও কাঠামোগত গভীরতা এমবিবিএস ডিগ্রির সমতুল্য। ৫ বছরের অ্যাকাডেমিক অধ্যায়ন এবং ১ বছরের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপসহ মোট ৬ বছরের এই যাত্রায় একজন শিক্ষার্থীকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং প্রথাগত পদ্ধতির এক অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে কেবল মিরপুরের সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ এবং ওয়ারীর বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে এই উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।
এই সম্মানজনক পেশায় আসার প্রথম ধাপটি শুরু হয় তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এই প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জীববিজ্ঞানসহ এসএসসি ও এইচএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ ৮.০০ থাকা প্রার্থীরা অংশ নিতে পারেন। এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের ১০০ নম্বর এবং ১০০ নম্বরের লিখিত এমসিকিউ পরীক্ষার মোট ২০০ নম্বরের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত মেধা তালিকা তৈরি করা হয়। দুটি কলেজে আসন সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় প্রতি বছরের ভর্তি যুদ্ধটি বেশ কঠিন রূপ নেয়।
ভর্তির পর শুরু হয় এক বিশাল পাঠ্যক্রমের সাথে লড়াই। বিএইচএমএস কোর্সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মোট ১৫টি বিভাগে ৫৫০০ নম্বরের দীর্ঘ পড়াশোনা সম্পন্ন করতে হয়। এই পাঠ্যক্রমে যেমন রয়েছে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, প্যাথলজি, সার্জারি, গাইনোকোলজি ও ক্লিনিক্যাল মেডিসিনের মতো আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো, তেমনই রয়েছে মেটেরিয়া মেডিকা, অর্গানন অব মেডিসিন কিংবা রেপার্টরির মতো প্রথাগত বিশেষায়িত বিষয়। অর্গানন অব মেডিসিনে ৫৫০ নম্বর কিংবা মেটেরিয়া মেডিকাতে ৯০০ নম্বরের বিশদ পাঠ্যসূচিই প্রমাণ করে যে এখানে প্রতিভাবানদের কতটা গভীরভাবে পড়াশোনা করতে হয়।
মেডিকেল শিক্ষার ভিত্তি সুদৃঢ় করতে প্রতিদিনের আইটেম পরীক্ষা থেকে শুরু করে একাধিক আইটেমের সমন্বয়ে নেওয়া কার্ড পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করা হয়। এই দীর্ঘ ৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মোট ৪টি প্রফেশনাল বা ‘প্রফ’ পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এই কঠিন মূল্যায়নে প্রতিটি বিষয়ে পাস করার জন্য ন্যূনতম ৬০% নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক, যা একজন শিক্ষার্থীকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও দক্ষ করে তোলে।
প্রফেশনাল পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করার পর শুরু হয় এক বছরের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে সরাসরি রোগী দেখার ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করেন এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে ১০,৫০০ টাকা ভাতা পান। দীর্ঘ ৬ বছরের এই সাধনা শেষে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় সমাবর্তন থেকে মূল সনদ লাভ করেন এবং আইনগতভাবে নামের আগে ‘ডা.’ পদবি ব্যবহারের অধিকার অর্জন করে মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেন।